ছবি: বহুমাত্রিক.কম
উন্নয়ন সমন্বয়’র বাজেটোত্তর সেমিনারে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন আলোচকরা। ২৪ জুন (২০২৬) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কনফারেন্স রুমে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থনৈতিক রূপান্তর ও ব্যাংকিং খাত: বাজেট ২০২৬-২৭” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআইডিএস এর মহাপরিচালক ড. এ. কে. এনামুল হক। প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম জাহিদ ও ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস চেয়ারপারসন ফারুক মাইনুদ্দিন আহমেদ। আলোচনা সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. এস. এম. জুলফিকার আলী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মাহফুজ কবীর, গবেষণা পরিচালক, বিআইআইএসএস। ড. কবীর ব্যাংকিং খাতের চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনার সাথে সাথে বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারে দেয়া সংস্কার কার্যক্রম ও বাজেট ২০২৬-২৭-এ নেয়া উদ্যোগের একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কমানো, আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরকরণের জন্য কোন কাঠামোগত প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের রূপরেখা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
প্যানেল আলোচক ড. জাহিদ বলেন, স্থবির অর্থনীতিতে বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। প্রধানমন্ত্রীর ভিষন অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এটা অর্জন করতে গেলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রতিবছর ৬-৭% হারে অর্জন করতে হবে; যা বেশ কঠিন। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ১০%-এর কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে ৭.৫%-এ মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে, এটাও অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ দেয়ার হার বাড়াতে হবে।
ব্যাংকিংখাতের আমুল সংস্কার করতে হবে। মানি মার্কেট সম্প্রসারিত করতে হবে, সেজন্য সরকারকে নীতি পরিকল্পনা ঢেলে সাজাতে হবে। প্যানেল আলোচক ফারুক মাইনুদ্দীন বলেন, বাজেটে একরাশ স্বপ্নের কথা থাকে, এ বাজেটেও তাই। কিন্তু বাস্তবায়ন করা কঠিন। কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার চ্যালেঞ্জের কথা এখানে বলা হয়নি।
তিনি বলেন, শিল্পায়নে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়া কর্মাশিয়াল ব্যাংকের কাজ না অথচ দিতে হয়। সরকার আইন করে দিক ব্যাংকের কত শতাংশ পুঁজিবাজারে যেতে পারবে। দশ লাখের বেশি চেক ছাড়া লেনদেন করা যাবে না আইন করে দেয়া হোক। বেনামী ঋণের উৎস বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।
উন্মুক্ত আলোচনায় ডরপের উপ-পরিচালক যুবায়ের হাসান বলেন, দরিদ্র লোকজন মূলধারার ব্যাংকিংয়ে যেতে পারছে না। চরম দরিদ্র মানুষজনের জন্য বাজেটে কোন কিছু নেই। প্রকল্প ভিত্তিক বাজেটের পরিবর্তে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য হওয়া উচিত। বিশেষ অতিথি জিয়াউল হাসান মোল্লা বলেন, ব্যাংকিংখাতে সব ধরনের অর্থায়ন করতে হয়ে। ব্যাংকিং খাত থেকে বাজেট ঘাটতির একটা অংশ ঋণ নেয়ার কথা বলা আছে অথচ তা বছর শেষে বেড়েও যেতে পারে।
বেসরকারিখাতের ঋণের পরিধি কমে যেতে পারে অথচ বেসরকারিখাতে বিনিয়োগকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলা হয়। বেসরকারিখাতের ঋণের পরিধি কমে যায় বলে নতুন নতুন শিল্প কারখানা, প্রতিষ্ঠান তৈরি করা সম্ভব হয় না, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় না, অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয় না।
প্রধান অতিথি ড. এ কে এনামুল হক বলেন, প্রতি বছর মানুষ বাড়ছে, চাহিদা বাড়ছে, বিনিয়োগ বাড়বে, বাজেট বাড়বে। এজন্য যোগান বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। উচ্চ খরচের অর্থনীতিতে সরকারি খরচ অবশ্যই দরকার। দুর্নীতি কি পরিমাণ হচ্ছে তা পরিমাপ করতে হবে। কমিয়ে আনতে হবে। তিনি ব্যাংক সংস্কারের উপর জোর দেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাজ হচ্ছে ব্যাংকারকে ঠিক রাখা, ব্যাংকারকে মর্যাদা দেয়া। ক্যাশলেস ইকোনমি ভবিষ্যতে হবে। ৬ লক্ষ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ অথচ কোন ব্যাংকার দায়বদ্ধ হলেন না, কোন প্রতিষ্ঠান হলো না। দায়বদ্ধতা অনুযায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ধরে শাস্তির বিধান করতে পারলে খেলাপি ঋণ কমে আসবে।
আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক যা বলে, সরকার তাই মেনে নেয়। এই দুটি প্রতিষ্ঠান বলে দুর্নীতি হয় বলে অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। কিন্তু দুর্নীতি কমিয়ে এনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে দেশি বিদেশি বিনিয়োগের পথ প্রসারিত করতে হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুন (২০২৬) “বাজেট ২০২৬-২৭ ও বাংলাদেশের আর্থিক খাত: নতুন সরকারের প্রত্যাশ” শীর্ষক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভার আয়োজন করে উন্নয়ন সমন্বয়।




