Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

শীতকালীন শাক আবাদের সহজ পদ্ধতি


২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার, ০১:২৪  পিএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


শীতকালীন শাক আবাদের সহজ পদ্ধতি

ঢাকা : সারাবছরের মধ্যে বাংলাদেশে শীতকালেই সবচেয়ে বেশি এবং বাহারি শাকের উৎপাদন হয়। এসব শাকের আবাদ কলাকৌশল অতি সাধারণ ও সহজ। ইচ্ছা করলেই যেকেউ এসকল শাকের আবাদ করতে পারেন।

আগে বলে নেওয়া ভাল যে, শাক ও সবজির মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত পাতাজাতীয় সবজিকে শাক বলা হয়, আর পাতাসহ ফল, কান্ড, শাখা প্রশাখাযুক্ত ফসলকে সবজি বলা হয়ে থাকে। কাজেই এক কথায় বলতে গেলে সকল শাকই সবজি কিন্তু সকল সবজি শাক নয়। যাহোক, শীতকালে যত শাক হয় তার মধ্যে সুস্বাদু, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ হলো লাউশাক, লালশাক, মূলাশাক, পালংশাক ইত্যাদি।

তাছাড়া অপ্রচলিত অথচ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাকও এ মৌসুমে উৎপাদিত হয়ে থাকে। এরমধ্যে বথুয়া শাক, ধনেপাতা শাক, ডাটা শাক, দেশি গোলআলু পাতা শাক, চালকুমড়া পাতা শাক, কচুপাতা শাক ইত্যাদিই প্রধান।

উপরোক্ত সাধারণ শাকগুলোর মধ্যে ইদানিংকালে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে লাউপাতা শাক। এখন শীত আসতে না আসতেই বাজারে লাউশাক পাওয়া যায়। এতবেশি পরিমাণে এগুলো শাক এখন পাওয়া যাওয়ার কারণ হলো লাউয়ের জন্য আবাদ না করে মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই সরাসরি লাউশাক হিসেবেই চাষ করে থাকেন কৃষক।

তাছাড়া মূলা আবাদের পূর্বেই মূলাশাকের উদ্দেশ্যে আবাদ করে থাকেন কৃষক। তেমনিভাবে লালশাক, পালংশাক ইত্যাদিও এখন এক শীতকালেই একাধিকবার উৎপাদিত হয়ে থাকে। দেখা গেছে, শুধু শাকের উদ্দেশ্যে আবাদ করে কৃষকরা বহুগুণে লাভবান হচ্ছেন। সেইসাথে ভোক্তারাও মজাদার এসব শাক আগে থেকেই খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে পৌষ ও মাঘ- এ দুমাস প্রকৃত শীতকাল। কিন্তু ফসলী হিসেবে আশি^ন, কার্ত্তিক, অগ্রাহায়ন, পৌষ, মাঘ এমনকি ফালগুন মাসকেও শীতকালীন ফসলের মৌসুমের ভিতরে ধরা হয়ে থাকে। এ লম্বা সময় ধরেই শীতের শাক আবাদ হয়ে থাকে যার প্রাচুর্য লক্ষ্য করা যায় বাজারে। কাজেই অতি সহজেই এসব শাকের আবাদ সম্পর্কে এখানে আলোচনা করা দরকার।

আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের দিকে যখর বৃষ্টিপাত একটু কমে আসে তখনই একটু উঁচু ধরনের জমি বেছে নিতে হবে এসব শাক আবাদের জন্য। তাছাড়া গ্রামে বসতবাড়ির আঙিনায় এবং শহরে বাসাবাড়ির ছাদেও এসব শাকের আবাদ স্বল্প পরিসরে করার সুযোগ গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রথমে আসি লাউ শাক আবাদের কথায়। এখন কৃষি বিজ্ঞানীগণ শাক উপযোগী লাউয়ের একাধিক জাত উদ্ভাবন করেছেন। সেজন্য লাউ শাক চাষের জন্য জমিতে কোন ধরনের চাষ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অপরদিকে মাটি ছাড়াও ঝুলন্ত টবেও লাউশাকের আবাদ করা যায়।

শুধু শাকের জন্য জমিতে ঘনঘন করে লাউয়ের বীজ রোপণ করে দিতে হবে। বীজ গজিয়ে চারা একটু বড় হলেই নীচু করে জাংলা দিতে হবে। ভালো হয় বীজ রোপণের পূর্বে গর্ত করে প্রতিটি গর্তে প্রায় কমপক্ষে এককেজি পরিমাণে শুকনা গোবর, একমুঠো পমিাণে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি সার প্রয়োগ করে নিলে শাকের বাড়-বাড়তি দ্রুততর হয়। সেইসাথে যেহেতু শাকের জন্য পাতাই বেশি কাম্য, তাই তাতে প্রচুর পরিমাণে ডগা ও পাতা বের হয়। অল্পদিনের মধ্যেই ডগাসমেত পাতা ও কা- কেটে শাক উত্তোলন করা যায়। এক সপ্তাহ পরপরই প্রতিটি গাছের গোড়ায় প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করে, প্রয়োজনীয় সেচ দিয়ে শাকের বাড়-বাড়তি ঠিক রাখতে হবে। তাতে প্রতিসপ্তাহে তো বটেই, সপ্তাহে ২-৩ বার শাক উত্তোলন করা যায়।

এটাতো গেলো শুধু শাক লাউয়ের কথা। লাউয়ের উদ্দেশে লাউগাছ আবাদের কালেও প্রচুর লাউশাক একই গাছ থেকে একসাথে উত্তোলন সম্ভব। লাউ একটি উভলিঙ্গিক ফসল হওয়ার কারণে প্রতিটি লাউয়ের কুঁড়িতে যতগুলো মুকুল আসে তার সবগুলো পরাগায়ন না হওয়ায় অনেক ফল পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া ডগা ও পাতা বেশি বেড়ে গেলে কিংবা গাছের বাড়-বাড়তি বেশি হলেও ফল ঝড়ে যেতে পারে। কাজেই শেষপর্যন্ত লাউয়ের ফল উৎপাদন বাড়াতে হলেও কা-, পাতা ও ডগা কেটে ছেটে দিতে হয়। সেভাবেও অনেক শাক পাওয়া যায়।

একটি লতাজাতীয় শাক। অন্যদিকে লালশাক, পালংশাক কিংবা মূলাশাক জমিতে আবাদ করতে হয়। সেজন্য লাউয়ের শাক আবাদের সাথে অবশ্য অন্যশাক উৎপাদন অতটা মিলবে না। সেগুলো আবাদের জন্য উঁচু জমির প্রয়োজন। সেগুলোর জন্য জমি চাষ দিয়ে নিতে হয়। তবে লাউশাক ছাড়া মূলাশাক, লালশাক কিংবা পালংশাক আবাদ প্রায় একই প্রকৃতির। উঁচুমাটি ভালোভাবে চাষ-মই দিয়ে প্রস্তুত করে সেখানে জৈব ও রাসায়নিক সার পরিমাণ ও প্রয়োজনমত দিয়ে বীজ ছিটিয়ে বুনে দিয়ে ভালোভাবে যতœ করলেই তাতে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এগুলো আগাম মৌসুমে ফলাতে পারলে কৃষক আর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে। কাজেই এগুলো আবাদের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আর্থিক লাভবান হওয়ার দিকে এগোতে হবে জাতিকে।

লেখক: কৃষিবিদ ও রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
email: [email protected]

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।