Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

শাজাহানপুরে ডোবা নালায় পরিণত হচ্ছে কৃষি জমি


২০ মে ২০১৯ সোমবার, ০২:০৫  পিএম

আবদুল ওহাব, বগুড়া প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


শাজাহানপুরে ডোবা নালায় পরিণত হচ্ছে কৃষি জমি

বগুড়া: বগুড়ার শাজাহানপুরে সারাবছর ফসল উৎপাদনযোগ্য কৃষি উর্বর জমিগুলো একের পর এক ডোবা নালা, গর্ত আর জলাশয়ে পরিণত করছে ভুমিদস্যুরা। তারা কৃষকদের জমির মাটি বিক্রি করতে অতিরিক্ত টাকার লোভ দেখিয়ে জমির মাটি কিনে নিয়ে অতি গভীর করে মাটি তুলে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এক জমি ক্রয় করে অতি গভীর করে মাটি তুলে বিক্রি করায় পাশের জমি ভেংগে যায়। তখন জমির মালিক বাধ্য হয়ে তার জমিটিও বিক্রি করে।

সেই সাথে দেওয়া হয় অতিরিক্ত টাকার প্রলোভন। তখন সেটাও কিনে নিয়ে অতি গভীর করে মাটি তুলে নেওয়া হয়। এভাবে একের পর এক জমিগুলো ডোবা নালা, গর্ত আর জলাশয়ে পরিণত করছে। ফলে প্রায় শুন্যের কোঠায় এসেছে এ এলাকায় কৃষি পণ্য উৎপাদন। আর সকলের সামনেই দিনের পর দিন কৃষি জমি বিলুপ্ত হলেও কখনই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা।

অনুসন্ধান করে দেখাগেছে, উপজেলার সিংহভাগ ভুমি এখন ডোবানালা ও জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে খোট্রাপাড়া ইউনিয়নের জালশুকা খাউড়া এলাকার ভুমি সম্পুর্ণ জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এখানে কয়েক বছর আগেও সারাবছর বিভিন্ন জাতের তরিতরকারী সহ ধান উৎপাদন হতো। কিন্তু বর্তমানে সে এলাকায় দেখে মনে হয় এটি অতি প্রাচীনতম জলাশয় ও বিল। বোঝার কোন উপায় নেই এগুলো আবাদী জমি। মাঝিড়া ইউনিয়নের সুজাবাদ, পদ্মপাড়া ও চোপিনগর এলাকাগুলোরও একই অবস্থা। তথাপি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ নেই কারই।

জানাগেছে, শাজাহানপুর উপজেলার মোট আবাদী জমির পরিমান ৪২১২৩ হেক্টর। এসব ভুমি এতটাই কৃষি উর্বর যে সারাবছর ধান,গম,ভুট্রা,আলু, বেগুন, শীম, পেঁয়াজ, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, পটল, পুঁইশাক, লালশাক, ধনেপাতা সহ বিভিন্ন তরকারী চাষ হয়। শুধু তাই নয়, এসব এলাকার কৃষি পণ্য স্থানীয় খাদ্য চাহিদা পুরন করার পরও প্রতিদিন শতশত ট্রাক ঢাকা চট্রগ্রাম সহ বিভিন্ন অঞ্চলে যেতো। কিন্তু বর্তমানে জমিগুলো ডোবা-নালায় পরিণত হওয়ায় ফসল উৎপাদন প্রায় শুন্যের কোটায় এসে পৌছেছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকার কৃষক, সচেতন নাগরিক সোচ্চার হলেও কিছু অসাধু চাতুর লোকের কারসাজিতে তারা হার মানতে বাধ্য হচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ, এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলে সমাজের ক্ষমতাসীন ও অসাধু টাউটরা ভয়ভীতি দেখায়। শুধু কি তাই! ফসলের চেয়ে জমির মাটি বিক্রি বা ইটভাটার কাছে জমি ভাড়া দিয়ে বেশী লাভবান হওয়ার প্রলোভন দিয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সেই সাথে ফসল উৎপাদনে করা হচ্ছে অনুৎসাহিত। ভয়ভীতি, অর্থের প্রলোভন ও উদ্বুদ্ধের কারসাজিতে নাজেহাল হয়ে পড়ছে কৃষকরা। এভাবেই তাদের কব্জায় নিয়ে একর পর এক কৃষি উর্বর ভুমিগুলো ডোবা-নালা গর্ত ও জলাশয়ে পরিণত করা হচ্ছে।

এবিষয়ে শাজহানপুর উপজেলা সহকারী ভুমি কমিশনার কানিজ ফাতেমা লিজার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে সুনিদ্ষ্টি অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সহজ হয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।