Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, বুধবার ২৭ মে ২০২০, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যেভাবে এলো বাংলা সাল গণনা


১৪ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার, ০৯:৩৯  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


যেভাবে এলো বাংলা সাল গণনা

মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখ। ১৪২৭ সনের প্রথম দিন। শুরু হলো একটি নতুন বছর।কৃষিকাজ ও খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য বাংলা সন গণনার শুরু মোঘল সম্রাট আকবরের আমলে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌর সনের ওপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত হয় নতুন এ বাংলা সন।

১৫৫৬ সালে কার্যকর হওয়া বাংলা সন প্রথমদিকে পরিচিত ছিল ফসলি সন নামে, পরে তা পরিচিত হয় বঙ্গাব্দ নামে। কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সমাজের সঙ্গে বাংলাবর্ষের ইতিহাস জড়িয়ে থাকলেও এর সঙ্গে রাজনৈতিক ইতিহাসেরও সংযোগ ঘটেছে।

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের। আর ষাটের দশকের শেষে তা বিশেষ মাত্রা পায় রমনা বটমূলে ছায়ানটের আয়োজনের মাধ্যমে। ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রমনার বটমূলে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করে আসছে ছায়ানট। শুধু ১৯৭১ সালে এর ব্যতিক্রম হয়েছিল।

দেশ স্বাধীনের পর বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীকে পরিণত হয় বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। উৎসবের পাশাপাশি স্বৈরাচার-অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদও এসেছে পহেলা বৈশাখের আয়োজনে। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বের হয় প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মর্যাদা দেয়।

বর্তমানে নববর্ষ উদযাপন পরিণত হয়েছে বাংলাদেশের সার্বজনীন উৎসবে। পহেলা বৈশাখের ভোরে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর আয়োজনে মেতে ওঠে সারাদেশ।

বর্ষবরণের স্বাভাবিক আয়োজন এবার নেই। প্রতিবছর ঘটা করে দিনটি উদযাপন করা হলেও এবার মহামারি করোনার কালো ছায়ায় বিলীন হয়ে গেছে এ বছরের উৎসব। কিন্তু বাংলার হাজার বছরের বহমান লোকজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তাতে মলিন হবে না। এই পরিস্থিতিতেও জাগ্রত থাকবে বাঙালির শান্তি-সম্প্রীতির ঐতিহ্য। দুঃসময় কেটে গিয়ে আগামী দিনে বাংলা নববর্ষ বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব হয়েই থাকবে। সংস্কৃতি দিয়েই তো বাঙালি কতকিছুর বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করলো। জয়ী হলো। তবে এবার, শক্র অদৃশ্য হলেও তার পদচ্ছাপ, তার বিস্তার দৃশ্যমান সমগ্র বিশ্বজুড়ে। শত্রু সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধে এবার বাঙালির ঢাল ঘরে থাকা। ক্ষণিকের এই নির্বাসন যদি নিজের এবং সকলের জন্য কল্যাণ কামনার হয় তবে এটাই এখন বাঙালি সংস্কৃতির বড় শক্তিতে রূপ নেবে।

এবার মিলিত হবার শক্তিতে নয়, গৃহে থেকে সবার কল্যাণ কামনার শক্তিতেই এবার পালিত হচ্ছে বর্ষবরণ। এবারের নববর্ষ উদযাপনে তাই নেই চিরাচরিত অনেক উপাদান। নেই সূর্যের প্রথম কিরণের সাথে সাথে রমনার বটমূলে ছায়ানটের সঙ্গীতায়োজন, নেই ঐতিহ্যবাহী মঙ্গলশোভাযাত্রা। নেই লাখ মানুষের কলকোলাহল। সারাদেশেই এবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে স্থগিত করা হয়েছে বর্ষবরণের সকল আয়োজন।

তবে মঙ্গলশোভাযাত্রা না থাকলেও, রীতি অনুসারে প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলা বর্ষবরণের পোস্টার প্রকাশ করা হয়েছে। এটি ভার্চুয়ালি প্রকাশিত হয়েছে।

এ বছর ডিজিটাল পদ্ধতিতে পহেলা বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠান সরকারি ও বেসরকারি সব টেলিভিশনে একযোগে সম্প্রচার করা হবে বলে সোমবার জানিয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে প্রচার করা হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।