Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৪ মাঘ ১৪২৬, সোমবার ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যশোরে বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে জৈব সার বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ


১২ ডিসেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৭:৪৪  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


যশোরে বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে জৈব সার বায়োগ্যাস ও বিদ্যুৎ

ঢাকা:জেলায় বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করছে ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্স রিকোভারি ফ্যাসিলিটি নামের প্রকল্পটি।এ প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের পচনশীল বর্জ্য থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে জৈব সার,বায়োগ্যাস এবং বিদ্যুৎ।যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার রোল মডেলে পরিণত হয়েছে এ প্রকল্পটি।

প্রকল্পের সুপারভাইজার মো: জাহাঙ্গীর আলম জানান,যশোর পৌরসভার তত্বাবধানে পরিচালিত শহরতলির ঝুমঝুমপুরের ময়লার ভাগাড়ের প্রায় ১৪ একর জায়গার উপর ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে ইন্টিগ্রেটেড ল্যান্ডফিল অ্যান্ড রিসোর্স রিকোভারি ফ্যাসিলিটি নামের প্রকল্পটি।এ প্রকল্প সিটি রিজিয়ন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় একটি উপ-প্রকল্প।প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সরকারের নিজস্ব তহবিলের পাশাপাশি সহায়তা দিয়েছে এশিয়ান ডেপেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি),জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এবং সুইডিস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সী (সিডা)।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য পৌরসভার ট্রাকে করে প্রকল্পে এনে কর্মরত কর্মীরা প্রথমে সেগুলো বাছাই করেন।আনা পচনশীল দ্রব্য-তরকারি,ঘাস-পাতা,ফলমুলের খোসাসহ যেগুলো জৈবসার তৈরির উপযোগী সেগুলো জৈবসার প্লান্টে চলে যায়।প্রেরিত পচনশীল দ্রব্য মেশিনের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে জৈবসার প্রস্তুতের উপযোগী করে তোলা হয়।বাকী অংশ চলে যায় বায়োগ্যাস প্লান্টে।এছাড়া মানুষের বিষ্ঠা থেকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি তরল ও শুকনো অংশও বায়োগ্যাস প্লান্টে পাঠানো হয়।উৎপাদিত বায়োগ্যাস দিয়ে তৈরি হয় বিদ্যুৎ।প্রকল্পে স্থাপিত তিনটি জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ২০০ কিলোওয়াট আওয়ার।উৎপাদিত বিদ্যুৎ গোটা প্লান্ট এলাকায় ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রকল্প কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আরো জানান,শহর ও শহরতলী থেকে সংগ্রহকরা বর্জ্যরে বড় একটি অংশ অপচনশীল প্লাষ্টিক ও পলিথিন জাতীয়।সেগুলো ফেলা হয় ল্যান্ডফিলে।দু’বছর আগেও শহরতলীর ময়লা ফেলার ঝুমঝুমপুর এলাকা দিয়ে দুগর্ন্ধে মানুষ চলতে পারতো না।প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এ এলাকার দৃশ্যপট পাল্টে গেছে।এ প্রকল্পে মোট ৪৭জন কর্মী নিয়োজিত আছেন।এ প্লান্টে জৈবসার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে দৈনিক চারটন।বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে সর্বোচ্চ ১ মেট্রিক টন।দৈনিক ৭২০ কিউবেক মিটার বায়োগ্যাস উৎপাদনের ক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে ৪০০ কিউবেক মিটার।বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা দৈনিক ৪৩০ কিলোওয়াট আওয়ার থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ২০০ কিলোওয়াট আওয়ার।যে পরিমাণ বর্জ্য এ প্রকল্পে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব সে তুলনায় প্রতিদিন তা আসছে না।কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে দ্বিগুনের বেশি বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।

যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন,বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে সম্পদ তৈরির কাজ এখানে সারাদেশের মধ্যে প্রথম শুরু হয়েছে।বহু বছরের ময়লার স্তুপ সরিয়ে জায়গাটিকে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদ তৈরির জায়গায় পরিণত করা সম্ভবপর হয়েছে।অন্য জেলার জন্য এটি একটি রোল মডেল হতে পারেন বলে তিনি জানান।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।