Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার ২২ নভেম্বর ২০১৯, ২:১২ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যশোরের সেই ভূমিহীন ১১ পরিবার বুঝে পেলেন সরকারি জমি


২৭ আগস্ট ২০১৯ মঙ্গলবার, ১২:৩৪  এএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


যশোরের সেই ভূমিহীন ১১ পরিবার বুঝে পেলেন সরকারি জমি

যশোর : নিজের নামে একখ- জমি! যা কখনও স্বপ্নেও দেখেননি আদিবাসি ভূমিহীন নীল শ্রমিকের বংশধরেরা; তাই হলো সত্যি। স্বামীহারা সত্তরোর্ধ চলৎশক্তিহীন হতদরিদ্র সিতু রাণী সরদার তার ছেলে দিনমজুর শান্ত সরদারের হাত ধরে নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন নিজের জমিতে। আর ভাসমান হয়ে পরের জায়গায় থাকতে হবে না তাকে। মা ও ছেলে বুঝে পেয়েছেন সরকারের বন্দোবস্ত দেয়া খাসজমি। এবার হবে নিজেদের মাথা গোজার ঠাঁই। মুখে কোন কথা নেই। নির্বাক মা-ছেলের চোখে আনন্দাশ্রু।

সিতু রাণীর মতো এমন আনন্দাশ্রু দিন আনা দিন খাওয়া প্রভাস সরদার ও তার স্ত্রী মুনিলা সরদার, ছেলে দূরদেশ, আকাশ, স্বামীহারা অঞ্জলি সরদারের মেয়ে সোমা সরদার, স্বামীহারা শুটকি রাণী সরদার ও তার ছেলে দিপক, রবিন সরদার ও তার স্ত্রী মালতি সরদার, স্বামীহারা মহারাণী সরদার ও তার ছেলে উত্তম সরদার বাদশা, স্বামীহারা সীমা সরদার গেবলে ও ছেলে লিপন সরদার, তরণী সরদার ও তার স্ত্রী শেফালী সরদার, ছেলে চাঁন সওদাগর ও শীতল সরদার, স্বামীহারা সুখসা রাণী ও তার ছেলে পঙ্কজ সরদার, স্বামীহারা মমতা রাণী ও তার ছেলে রামপ্রসাদ, সাগর এবং দিলীপ সরদার ও তার স্ত্রী অনিতা সরদার ও অসিম সরদার, কালাচাদ সরদার সকলের চোখে- মুখে। নিজের চোখকেই যেন তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না! নিজেদের নামে রেজিস্ট্রি করা জমি। যেখানে দিন আনতে পান্তা ফুরোয় দশা, তাদের আবার জমি!

অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, শিক্ষায় সুযোগ-সুবিধাবঞ্চিত এবং বর্ণপ্রথার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য, ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে অবহেলা আর বঞ্চনার শিকার তারা নানা বঞ্চনার মধ্য দিয়েই যাপিত জীবন পার হচ্ছে যাদের, তারা এবার আশার আলো দেখলো ভাগ্যাকাশে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেন সোমবার সকালে যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের সাহাবাটি মৌজার আর এস খতিয়ান নম্বর ১ এবং আরএস দাগ নম্বর ২৪৮ ও ২৫০ এর ৩৪ শতক জমি পরিমাপ করে বুঝিয়ে দেন তাদের। যশোরের তৎকালিন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের সদয় নির্দেশনায় নীল শ্রমিক বংশধরের ভূমিহীন হতদরিদ্র এ ১১ পরিবার পেলেন জমির মালিকানা; পেলেন স্থায়ী ঠিকানা।

ভূমিহীন থেকে জমির মালিক হওয়া রবিন সরদার আবেগে আপ্লুত হয়ে বলেন, স্যার (তৎকালিন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল) খুব ভাল মানুষ। তিনি আমাদের ভাসমান জীবন থেকে মুক্তি দিয়েছেন। স্থায়ী ঠিকানা দিয়েছেন। যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন তাকে আমরা মনে রাখব।

আব্দুল আওয়ালের নির্দেশনায় প্রথম থেকেই এ কাজের সাথে জড়িয়ে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকির হোসেন বলেন, সরকারের গৃহিত বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় অনগ্রসর শ্রেণির জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এ মানুষেরা এ সুবিধার আওতায় এসেছে।

উল্লেখ্য, যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে ২০১৯ সালের ২ মে অনুষ্ঠিত ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে খাসজমির দলিল হস্তান্তর এবং দুস্থ ও অসহায়দের আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান’ অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে বংশপরম্পরায় খেটে খাওয়া সংগ্রামী এসব মানুষের ১১টি পরিবারের হাতে ১১টি দলিলের মাধ্যমে ৩৪ শতক রেজিস্ট্রি করা জমির দলিল তুলে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী। এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তৎকালিন জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।