Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ মাঘ ১৪২৭, বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি ২০২১, ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

নাগালে শীতকালীন শাকসবজি: রোগ প্রতিরোধে খান বেশি বেশি


০১ জানুয়ারি ২০২১ শুক্রবার, ০৫:৪৭  পিএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


নাগালে শীতকালীন শাকসবজি: রোগ প্রতিরোধে খান বেশি বেশি

বাংলাদেশের ঋতু পরিক্রমায় শীতকালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসময়ে অন্য অনেককিছুর সাথে শীতকালীন শাকসবজি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। শীতকালে বাংলাদেশে অনেক বাহারি জাতের শাকসবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে। বছরের অন্য সময়ে যে পরিমাণ শাকসবজি উৎপাদিত হয় তারমধ্যে শীতকালে অনেক বেশি, ভাল, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর শাকসবজি উৎপাদিত হয়ে থাকে এসময়ে। বেগুন, ফুলকপি, বাধাকপি, মূলা, ডাটা, ধনেপাতা, লালশাক, টমেটো, সীম, লাউশাক, শীতলাউ, পালংশাক, গোলআলু, পিয়াজ পাতা ও পিয়াজ ফুল, গাজর, শালগম, ব্রকলি, লেটুসপাতা ইত্যাদিই প্রধান। 

সাধারণত শীতের শুরুর দিকে উৎপাদন কম হওয়ায় তখন এগুলো শাকসবজির মূল্য অনেক বেশি থাকে। সেসময় সবার পক্ষে এত দাম দিয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ শাকসবজি সবাই কিনে খেতে পারেনা। কারণ বাংলাদেশের সকল মানুষের ক্রয় সামর্থ সমান নয়। তাই তখন ইচ্ছে থাকা সত্তে¦ও এসব পুষ্টিসমৃদ্ধ, সুস্বাদু, মজাদার শাকসবজি ক্রয় করে খেতে পারেনা। কিন্তু সময় বাড়ার সাথে সাথে উৎপাদনও বাড়তে থাকে। আর অর্থনীতির ভাষায় আমরা সহজেই একটি বিষয় বুঝতে পারি যে, চাহিদা যত বেশি দাম তত বেশি, অন্যদিকে যোগান যত বেশি দাম তত কম। আবার বেশি উৎপাদিত হয়ে যোগান বেশি হলে দাম কম হয়। অর্থাৎ বর্তমানে আমরা শীতকালের মধ্যপ্রান্তে রয়েছি। সেজন্য শীতকালীন শাকসবজির উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এখন। তাই এখন বাজারে শীতকালীন শাকসবজির অনেক সরবরাহ। কাজেই সেসব শীতকালীন শাকসবজি এখন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর ক্রয়মূল্য সবার নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

আমরা জানি, কোন একটি ফসল উৎপাদিত হওয়ার পর তা পরবর্তী মৌসুমে আবার নতুনভাবে উৎপাদিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো দিয়ে বাকী সময়ের চাহিদা মেটাতে হয়। এর মধ্যে বিদেশে রপ্তানি, সময়মতো আমদানি করতে না পারা, সঠিকভাবে ও পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে না পারা। এমনকি অনেক সময় অতি মুনুফালোভী ব্যবসায়ীদেও কারসাজির কারণে মৌসুমের মধ্যখানে এসে ক্রাইসিস দেখা দিতে পারে। তখন আবার মূল্য বেড়ে যায়। গতবছর (২০২০) ওশষ দিকে এসে পিয়াজ, গোল আলুর মূল্যবৃদ্ধি তেমন একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কিন্তু সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে এবং বাঙালি উদ্যোগী কৃষক ভাইদেও মাথার ঘামে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে।

শাকসবজি বিষয়টি পুরো বিপরীত। কারণ শাকসবজি তাজা ও কাচা প্রকৃতির হওয়ায় তা পচনশীল হয়ে থাকে। যা দীর্ঘদিনের জন্য সংরক্ষণ করে গুদামজাত করা যায় না। আর সেজন্যই উৎপাদন মৌসুমে এসব শাকসবজির মূল্য খুবই উঠা-নামা করতে দেখা যায়। আমি আগেই বলেছি যে, মৌসুমের শুরুর দিকে মূল্য বেশি এবং শেষের দিকে মূল্য কম থাকে। আর সেজন্য শীতকালীন শাকসবজি নিয়ে অনেক সময় বিপর্যয়ে পড়তে দেখা যায় উৎপাদক কৃষককে। অনেক সময় পানির দরে বিক্রি করতে হয় সেসব শাকসবজি। গত দুবছর আগেও আলু, টমেটো ইত্যাদি বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে দিতে দেখেছি। কিন্তু এবছর এখানো দাম এমন পর্যায়ে রয়েছে যেখানে উৎপাদক ও ভোক্তা কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে না।

তবে বাজারমূল্য স্থিতিশীল ও সকলের জন্য সমানভাবে রাখতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হয়। কারণ উৎপাদকদের কাজ উৎপাদন করা আর সরকারের সংশ্ল্ষ্টি কর্তৃপক্ষকে সময় মতো বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন স্বাভাবিক বাজারজাতকরণের সাথে অনলাইন পদ্ধতিতে ডিজিটাল বাজারকরণ সময়ে দাবী। যেসব এলাকায় যে জাতের শাকসবজি উৎপাদিত হয় সেখানে সব শাকসবজির চাহিদা মিটিয়ে যেসব স্থানে উৎপাদিত হয় না। সেসব স্থানে এগুলো বাজারজাতকরণে ডিজিটাল ব্যবস্থা খুবই কার্যকরি। আর এবারের করোনা পরিস্থিতিতে তা খুব ভালভাবে কাজ করেছে। এর মাধ্যমে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেয়েছে এবং ভোক্তাগণও সঠিক সময়ে সঠিকমূল্যে পণ্যের সরবরাহ পেয়েছে।

এখন করোনাকাল চলছে। করোনাকালে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শারীরিক রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব বলে স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উল্লিখিত শীতকালীন শাকসবজি খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। শীতকালে মানুষের শরীরে পুষ্টির বিশেষ কিছু চাহিদা সৃষ্টি হয়। সেখানে বাংলাদেশে উৎপাদি শাকসবজি খুবই ভাল। যেসব শাকসবজি মোটেও সংরক্ষণ করে রেখে খাওয়া যায় না সেসব তাৎক্ষণিক সংগ্রহ করে খেতে হবে। ফুলকপি, বাধাকপি, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ইত্যাদি রেখে খাওয়া যায় না। কিন্তু গোল আলু, টমেটো ইত্যাদি সারাবছরই খাওয়া যায়। তবে এখন বাজারে শীতকালীন শাকসবজি অনেক সরবরাহ ও সমারোহ। সেজন্য দাম কম বলে প্রয়োজন মতো সবাই কিনে খেতে পারছেন। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গড়ে কমপক্ষে ২৫০ গ্রাম শাকসবজি থাকার বিষয়টি এখন নিশ্চিত করা সম্ভব। কাজেই সবাইকেই এসময়ে বেশি পরিমাণে শীতকালীন শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। এটি সম্ভব তার কারণ শীতকালীন সকল শাকসবজিই এখন দামে এবং উৎপাদনে সকলের নাগালোর মধ্যে।

লেখক: কৃষিবিদ ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
email: [email protected] 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।