Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

দূষণের ফিরিস্তি ও আমাদের ভবিষ্যত


২৪ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০২:০৬  এএম

ডাঃ মোঃ কফিল উদ্দিন চৌধুরী

বহুমাত্রিক.কম


দূষণের ফিরিস্তি ও আমাদের ভবিষ্যত

 

রণীয় কান্নাঃ দূষণ! দূষণ! আর দূষণ! চারদিকে যেন দূষণের হিড়িক। শরীরে আর মনের দূষণে যেন জর্জরিত আমাদের স্বাস্থ্য। পানি, বায়ু, শব্দ আর আলোক দূষণে যেন ধরণীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ আর বন উজাড়ে ধরণী মাতার দেহ যেন জর্জরিত। বিপর্যস্ত তাঁর প্রকৃতির সন্তানেরা। সেই সাথে গোদের উপর বিষ-ফোঁড়ার মত গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক।

পৃথিবীর ১ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ পানি প্রাপ্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় ২ বিলিয়ন মানুষের জন্য নেই কোন স্বাস্থ্য সম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে পৃথিবীর নানা রাষ্ট্রের মধ্যে বিবাদ যেন দিন থেকে দিন স্পষ্ট। তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত, সিন্ধু নিয়ে ভারত-পাকিস্তান কিংবা ব্রক্ষ¥পুত্র নিয়ে চীন-ভারতের শীতল সম্পর্ক সকলেরই জানা। বলা হয়ে থাকে আগামী শতাব্দীর যুদ্ধ হবে ভূমি দখলের কিংবা তেল সম্পদ লুণ্ঠনের যুদ্ধ নয়, তা হবে কেবল পানি সম্পদের উপর বিবাদমান রাষ্ট্রসমূহের আধিপত্য বিস্তারের জন্য।

অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই পৃথিবীর সর্বত্রই শিল্পায়নের গতি যেন লাগাম ছাড়া। যন্ত্রদানবের তীব্র হুংকারে যেন আমাদের কানে তালা। অসীম তার ক্ষুধা। তার ক্ষুধার অন্ন তেল-গ্যাসের আর বিদ্যুতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পৃথিবীর মোড়ল রাষ্ট্রসমূহের যত শক্ত-নরম কূটচাল। শাসিত ও দুর্বল রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে কৃত্রিম বিবাদ। কল-কারখানাসমূহে নির্বিচারে তেল-গ্যাস পুড়ে। গতির পৃথিবীর যান-বাহন চলে ডিজেল-পেট্রোল আর অকটেনে। বাড়ায় বায়ুমন্ডলে কার্বন মনো অক্সাইডসহ অন্যান্য গ্রীন হাউজ গ্যাসের মাত্রা।

এক জরিপে দেখা যায় পৃথিবীতে প্রতি বৎসর মানুষের ক্রিয়া-কর্মের ফলে শুধু বায়ু দূষণকারী ও পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিকারী কার্বন-মনো-অক্সাইড নামক বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণের পরিমাণ প্রায় গড়ে ৫০০ মিলিয়ন টন। কল-কারখানার নিঃসৃত ধোঁয়া, ধূমপান নামক বিষের বাষ্পকুন্ডলীতে দূষিত পৃথিবীর বাতাস। বেড়ে যাচ্ছে মানব সমাজে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসে ক্যান্সার, স্ট্রোক, হৃদরোগ সহ অসংখ্য প্রাণঘাতী রোগের প্রকোপ। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশসমূহে রোগীদের শতকরা ১০ ভাগ বায়ু দূষণজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। সেই সাথে পানি দূষণজনিত রোগে আক্রান্ত মোট দেশীয় রোগীদের শতকরা ১০ ভাগ।

কল-কারখানার নিঃসৃত বিষাক্ত বর্জ্যে আর পারমানবিক প্রযুক্তির অভিশাপ তেজস্ক্রিয়তার দূষণে দুষ্ট নদীর পানি কিংবা বসবাসের মাটি। সারা দেশে সক্রিয় প্রায় আট হাজার পরিবেশ বিধ্বংসী ইটের ভাটা। দূর্ঘটনাই হোক কিংবা সজ্ঞানেই হোক তেলের দূষণের দুষ্ট নদীসমূহের পানি। পানিতে দেখা যায় ক্রমাগত অক্সিজেনের ঘাটতি।

জলজ জীব বৈচিত্রের বিপর্যয় তথা গণ-বিপর্যয় যেন অতি সন্নিহিত। সেই সাথে রয়েছে গত শতাব্দীর ষাটের দশক থেকে শুরু হওয়া সবুজ বিপ্লব। যার মূলমন্ত্রই হল ফসলের উৎপাদন বাড়াও, জীব বৈচিত্র্য তথা দেশীয় উদ্ভিজ ও প্রাণীজ প্রজাতি চুলোয় যাক। পরিবেশের টেকসই উন্নয়ন সেথায় এক বিস্মিত ব্যপার। সার দাও, আগাছা দমাও, বালাই নিয়ন্ত্রণে বাড়াও কীটনাশকের ব্যবহার। এই ব্যবহৃত সার আর কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার আমাদের মাটি-পানিকে করছে দূষিত। খাদ্য দ্রব্য আজ কীটনাশকের ভয়ঙ্কর মাত্রার উপস্থিতি। অনেক দেশীয় প্রজাতির ফসলের অস্থিত্ব আজ ইতিহাসের পাতায়। খাদ্য দ্রব্যে বিষাক্ত ভেজালের দাপট। ভূগর্ভস্থ পানির অতি ব্যবহারে পানিতে আর্সেনিক নামক বিষের দূষণ যেন দিন থেকে দিন প্রকট হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় ৭৭ মিলিয়ন মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁঁকিতে।

বিষের দূষণে দুষ্ট খাদ্য সেবনে মানুষের মধ্যে লিভার, কিডনীর দীর্ঘমেয়াদী নানা সমস্যায় আক্রান্তের হার ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছে। বর্তমানে ত্বক, মুত্রতন্ত্র, লিভার, ফুসফসে ক্যান্সারের প্রকোপ যেন অতীতের সমস্ত রেকর্ডকে হার মানায়। পারমানবিক প্রযুক্তিই বলুন কিংবা পারমানবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতার বদৌলতে তেজস্কিয়তার দূষণে দুষ্ট পৃথিবীর আকাশ-বাতাস-মাটি।

এর সামান্য দূর্ঘটনা কিংবা অপব্যবহার বদলে দিতে পারে পৃথিবীর জনমিতি। হিরোশিমা-নাগাসাকির পারমানবিক নৃশংসতা কিংবা হালের রাশিয়ার চোরানভিল অথবা জাপানের ফুকুশিমার দূর্ঘটনা যেন ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই না। তেজস্ক্রিয়তার অভিশাপে মানুষ সেখানে আজও আক্রান্ত হচ্ছে রক্ত, থাইরয়েড আর ফুসফুসের ক্যান্সার সহ নানা জটিল রোগে। গর্ভের শিশু জন্মায় বিকলাঙ্গ হয়ে। বেড়ে যাচ্ছে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতার হার। সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ যেন দিন থেকে দিন এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী জাতিতে পরিণত হচ্ছে।

জনসংখ্যার অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি আজ যেন জন বিষ্ফোরণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এখন ১.৩%। যা এখনও কাঙ্খিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে ষোল কোটি। অথচ গত শতাব্দীর প্রারম্ভে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি। অন্যদিকে বৈশ্বিকভাবে এই সংখ্যা প্রায় ৭.৬ মিলিয়ন। পরবর্তীতে ২১০০ সালে এই সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ১১ বিলিয়নে। বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন। উজাড় হচ্ছে ফসলের জমি, কাটা পড়ছে বন। বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২.৩ মিলিয়ন হেক্টর; যা সমগ্র দেশের মোট ভূমির ১৫.৫ শতাংশ। আর প্রতি বছর এই বনভূমি হ্রাসের পরিমাণ ০.১৮ শতাংশ; যা আমাদের অস্তিত্ব ও পরিবেশের জন্য অশনি সংকেতই বটে। একদিকে বন উজাড় আর অন্যদিকে মানুষের সীমাহীন ভোগ-বিলাসিতার কারণে পৃথিবীর বায়ু মন্ডলে বাড়ছে গ্রীন হাউজ গ্যাসের মাত্রা যা বাড়ায় পৃথিবীর উষ্ণায়ন প্রক্রিয়া। এক জরীপে দেখা যায় আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ৩০ সেন্টিগ্রেড বেড়ে যাবে।

ইতিমধ্যেই মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করেছে। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা। ধারনা করা হচ্ছে এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ০.১ থেকে ০.৩ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যাবে। সমুদ্র গর্ভে নিমজ্জিত হবে উপকূলীয় অঞ্চলের ১৭.৫ ভাগ ভূমি। বিলীন হবে মালদ্বীপ সহ বহু প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্র। মিঠা পানিতে ক্রমান্বয়ে লবনাক্ত পানি প্রবেশের ফলে লবনের দোষে দুষ্ট হবে চাষযোগ্য ভূমি। বেড়ে যাবে মশা-মাছির বংশ বিস্তার। মশা বাহিত বিভিন্ন রোগ যেমন- ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতির বিস্তার তাদের বর্তমান আবাসস্থল নিরক্ষীয় অঞ্চল হবে চরম ভাবাপন্ন অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। বেড়ে যাবে খরা, অতি বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা প্রভৃতির প্রকোপ। জলবায়ু উদ্বাস্তুর সমস্যায় জর্জরিত হবে পৃথিবী। শব্দ দূষণে বধির আমাদের কর্ণ যুগল।

আলোক দূষণে বিপর্যস্ত আমাদের দৃষ্টি। শ্রমিকদের কর্ম পরিবেশে দূষণ। মালিক পক্ষ যেন তা দেখেও দেখে না। লালসা, ভোগ, আকাঙ্খার দূষণ দুষ্ট আমাদের মানব মন। কিন্তু প্রত্যাশার চাইতে প্রাপ্তি যখন হয়ে উঠে অপর্যাপ্ত তখন বিপর্যস্ত হয় আমাদের মন। মনের আকাশে দানা বাঁধে যেন রাজ্যের হতাশা, মানসিক চাপ আর উদ্বিগ্নতার কালো মেঘ। দূর্নীতি, রাহাজানি আর জালিয়াতির কালো চাদরে ঢাকা পড়ে পৃথিবীর সকল আসল রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ। আত্মকেন্দ্রিকতার এই কালে সাপোর্ট কিংবা সহানুভূতি প্রকাশের সময় কোথায়। ফলে ব্যর্থ-বিপর্যস্ত মানুষ রোগের চরম পর্যায়ে বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। বর্তমানে বাংলাদেশে এই আত্মহত্যার হার প্রতি হাজারে ৮ জন।

আমরা কি পারি না?

এক জরিপে দেখা যায় আমাদের দেশের কল-কারখানাসমূহের শতকরা ৫০ ভাগেই বিষাক্ত বর্জ্যরে পরিবেশগত মান সম্পন্ন দূষিত বর্জ্য নিষ্কাশনের (যা ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নামে পরিচিত) ব্যবস্থা নেই। শতকরা ১০ ভাগের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত। যদিও পরিবেশ আইনে প্রতিটি কল-কারখানার ক্ষেত্রে পরিবেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে এই ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক। কাজেই দেরী না করে আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনের সঠিক ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবী। শতকরা ৮০ ভাগ ইটের ভাটাতেই পরিবেশ বিনাশী নিচু উচ্চতার কোক চুল্লীর ব্যবহার যা পরিবেশ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। এদিকেও পরিবেশ বিভাগের আশু দৃষ্টি দেয়া একান্ত প্রয়োজন। কল-কারখানায় পন্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে অধিক পরিবেশ দূষণকারী প্রক্রিয়ার পরিবর্তে আমাদের অপেক্ষাকৃত কম পরিবেশনাশী পদ্ধতির উপর জোর দিতে হবে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাড়াতে হবে এই বিষয়ে গবেষণা ও প্রচারণার বাজেট। কল-কারখানা ও যানবাহনে জৈব-জ্বালানীর ব্যবহার কমিয়ে আমাদের দৃষ্টি রাখতে হবে নানা নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস যেমন- সৌর শক্তি, বায়ু শক্তি, পানি শক্তি, বায়োগ্যাস প্লান্ট প্রভৃতির দিকে। আমাদের জোর দিতে একই জিনিসের পুনঃব্যবহার, পুনঃচক্রায়ন কিংবা বিকল্প ব্যবহারের দিকে। “ধূমপান-বিষপান” তাই কেবল কর্মক্ষেত্রে কিংবা পাবলিক প্লেসেই নয়; এর ভয়াবহতার কথা বিবেচনা করে জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের তামাকের চাষ, ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপনন ও রপ্তানী পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। এক জরিপে দেখা যায় পৃথিবীতে বাৎসরিক নিঃসৃত প্রধান গ্রীন হাউজ গ্যাস কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মোট পরিমাণ প্রায় ৪০২৬১ মিলিয়ন টন। যার শতকরা ৮০ ভাগই নিঃসৃত হয় চীন, আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতসহ পৃথিবীর প্রধান উন্নয়নশীল দশটি রাষ্ট্র থেকে। তার মানে এই যে পৃথিবীর উষ্ণায়ন তথা গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়ার জন্য দায়ী পৃথিবীর শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বৃহৎ রাষ্ট্রসমূহ।

এর সাথে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অন্যান্য নিন্ম সারির উন্নয়শীল ও অনুন্নত দেশের ভূমিকা একান্তই গৌণ। যেন ভোগ তাদের, দায় সকলের। কেননা পৃথিবীর উষ্ণায়ন কোন দেশকে এককভাবে আক্রান্ত করে না। এটি একটি বৈশ্বিক প্রক্রিয়া। কাজেই বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে উন্নত ও শিল্প প্রধান দেশসমূহ হতে গ্রীন হাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানো ও সেই সাথে তাদের ক্রিয়াকর্মের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশসমূহ যাতে ক্ষতিপূরণ হেসেবে আরও অধিক অনুদান পেতে পারে সে ব্যাপারে সকল আলোচনা-সমালোচনা আরও জোরদার করতে হবে। সার্বজনীনভাবে পারমানবিক অস্ত্র উৎপাদন, বিপনন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই সাথে পারমানবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের ব্যবহার সার্বজনীনভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা যেতে পারে।

ফসলের ক্ষেত্রে বিষাক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের পরিবর্তে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে জৈব সার ও বালাই দমনে পরিবেশ সম্মত সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিতে হবে। একই কথা মশার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সবার জন্য নিরাপদ পানি এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্মত পয়োনিষ্কাশনের উপর জোর দিতে হবে। খাদ্যে ভেজাল দমনে টিসিবি সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক হতে হবে। আর্সেনিকের দূষণ নিয়ন্ত্রণে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে আরও গবেষণা বাড়াতে হবে সেই সাথে দরকার আরও অধিক অর্থের সঙ্কুলান।

আবাসিক এলাকা থেকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া যথাযথ মাত্রার দূরত্বে পৃথক থাকতে হবে। সবুজ বনায়নের উপর আরও জোর দিতে হবে। কেননা বন হচ্ছে পৃথিবীর সকল দূষণ মুক্তির এক প্রকৃতিক ফিল্টার। জনসংখ্যা বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরা এখন এক আবশ্যিক ব্যপার। প্রয়োজনে দেশের সর্বত্র আইন করে “দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভাল হয়” এই স্লোগানের সফল প্রয়োগ সকলের জন্য বাধ্যতামূলক করতে হবে। শব্দ ও আলোক দূষণ নিয়ন্ত্রণকল্পে বিদ্যমান আইনের কিছু সংশোধন ও প্রয়োজনে নতুন আইন করা যেতে পারে। কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক তথা কর্মজীবি সকল মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার উপর জোর দিতে হবে। সত্য, সুন্দর, বিনয়, ত্যাগ ও দানের স্বর্গীয় ধারায় আমাদের মনকে পবিত্র করতে হবে। দূর করতে হবে আমাদের মন থেকে লোভ, হিংসা, অহংকার, মিথ্যা প্রভৃতির বিষাক্ত ঝঞ্জাল। আকাঙ্খা নয়, প্রয়োজন পূরণই হতে হবে আমাদের লক্ষ্য। কেননা মনে রাখতে হবে পৃথিবীর সকল সম্পদ সকল মানুষের প্রয়োজ পূরণের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু আকাঙ্খা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।


মেডিসিন ও মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ
E-mail: [email protected]  

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।