Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১০ আশ্বিন ১৪২৭, শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

টিলা ও পাহাড়ি ছড়া খুঁড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে পরিবেশ


১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ মঙ্গলবার, ১২:০৩  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


টিলা ও পাহাড়ি ছড়া খুঁড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনে হুমকিতে পরিবেশ

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণি রেঞ্জের সংরক্ষিত টিলা ও পাহাড়ি ছড়া খুঁড়ে অবৈধভাবে সিলিকা বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। বিনষ্ট হচ্ছে গ্রাম্য রাস্তা, সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। লাউয়াছড়া উদ্যান ঘেষা কালাছড়া বন বিটের টিলায় বাচ্চাদের খেলার মাঠ ও পাহাড়ি ভেড়াছড়ার স্থানে স্থানে খুঁড়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল প্রশাসনের নাকের ডগায় দীর্ঘদিন যাবত নির্বিঘ্নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছে। সোমবার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ বালুভর্তি ট্রাক আটক করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সদর ইউয়িনের পাহাড়ি ভেড়াছড়ার স্থানে স্থানে বালু উত্তোলনের দৃশ্য। রাস্তার পাশে রেখে ট্রাকে করে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করা হচ্ছে। ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের একপর্যায়ে মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জের কালাছড়া বন বিটের টিলা খুঁড়েও অবাধে বালূু উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলিত এসব বালু ট্রাকযোগে গ্রাম্য রাস্তা দিয়ে স্থানান্তর ও বিক্রি করা হচ্ছে।

ইজারা বহির্ভূক্ত এই ছড়া ও বনের টিলা খুঁড়ে গত একমাস যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী রেঞ্জ এর সংরক্ষিত বন। এছাড়াও ট্রাকযোগে বালু বহন করার কারণে ভেড়াছড়া গ্রামের রাস্তায় গর্ত ও ড্রেনেজ সৃষ্টি হয়েছে। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে গ্রামের কেউ মুখ খুলে কথা বলতে পারছেন না। এতে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে। তবে অব্যাহতভাবে ছড়া ও বনের টিলা থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন কর্মকর্তার নেতৃত্বে সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে বালুভর্তি ট্রাক আটক করে নিয়ে গেছে।

ভেড়াছড়া গ্রামের মোশাহিদ আলী বলেন, ছড়া থেকে বালু উত্তোলনে রাস্তা বিনষ্ট হচ্ছে। এখন সংরক্ষিত বনের টিলা কেটেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট করে দিনভর অবাধে এভাবে বালু উত্তোলন ও রাস্তা দিয়ে ট্রাকযোগে বিক্রি করা হলেও কেউ কথা বলছেন না। এসব বিষয়ে সম্প্রতি পরিবেশ অধিদপ্তর মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রামের আব্দুল জব্বার বলেন, এসব বিষয়ে কে কথা বলবে? আইন ওয়ালারা তো চেয়ারে বসে থাকলেও তারা সবই দেখছেন ও জানেন। তিনি বলেন, বালু নেয়ার জন্য তারা রাস্তায় বালু ও কনক্রিট ফেলে ট্রাক আনা নেয়া করছে। কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সুন্দর আলী বলেন, বালু উত্তোলনকারীদের বাঁধা দেয়ার পরও কে বা কারা বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে তা বোধগম্য নয়। এবিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীও অভিযোগ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেট বিভাগীয় সহকারী বন কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, আমরা যখন স্পটে যাই তখন তারা পালিয়ে যায়। আজ আমাদের মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণি রেঞ্জের কালাছড়া বন বিটের টিলার বালু বহন করার সময় বালু বোঝাই ট্রাক আটক করেছি। তবে বালু উত্তোলনে কারা জড়িত সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে বলে তিনি জানান।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মৌলভীবাজারের সহকারী পরিচালক বদরুল হুদা বলেন, অভিযোগ পেয়ে কয়েকদিন আগে ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করেছি। তবে কারা জড়িত সে বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) এর দায়েরকৃত উচ্চ আদালতে রিটের আদেশে মৌলভীবাজারের ৫১টি সিলিকা বালু সম্পৃক্ত পাহাড়ি ছড়ায় ইজারা প্রদান, বালু উত্তোলন, পরিবহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।