Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ কার্তিক ১৪২৭, শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২০, ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

চা বাগানে ‘মাদক কারখানা’ : সরঞ্জাম ও মদসহ আটক ১


২৮ এপ্রিল ২০২০ মঙ্গলবার, ০৪:১৮  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


চা বাগানে ‘মাদক কারখানা’ : সরঞ্জাম ও মদসহ আটক ১

মৌলভীবাজার : চা বাগানের শ্রমিক কলোনিতে উৎপাদিত মাদকে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে চা শ্রমিক। মাদক সেবনের পর পরিবারে পরিবারে হানাহানি, ঝগড়া ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা লেগেই আছে। কমলগঞ্জ উপজেলার ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর এর ফাঁড়ি দেওছড়া চা বাগানের শ্রমিক কলোনি থেকে উৎপাদিত ৩০ লিটার মদ ও মদ তৈরির সরঞ্জামসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার চা বাগানের অফিসটিলার বিরন মৃধা ও বিনোদ মৃধার ঘর থেকে মাদক ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কমলঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর ফাঁড়ির এসআই শাহ আলম ও এএসআই এনামুল হক এর নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা কানিহাটি চা বাগানের বিরন মৃধা ও বিনোদ মৃধার ঘরে অভিযান চালান। এ সময়ে বিরন মৃধার ঘরের তিনটি চুলায় ও বিনোদ মৃধার ঘরে একটি চুলায় দেশীয় চোলাই মদ উৎপাদন হতে দেখা যায়। পুলিশ দু’টি ঘর থেকে চারটি বড় হাড়িবাসন ও কয়েকটি বোতল থেকে ৩০ লিটার মদ উদ্ধার করে। এসময়ে বেশ কয়েকটি হাড়িবাসন, কিছু সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয় এবং মদ উৎপাদনের সাথে জড়িত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

শ্রমিকরা জানান, নিশাদল, চিটাগুড়, ইউরিয়া সার, পুরাতন ভাত এসব নানা পদার্থ দিয়ে চোলাই ও হাড়িয়া মদ তৈরী হয়। যারা বেশি পরিমানে মদ পান করে তারা মাতাল হয়ে ঝগড়া-ঝাটি, স্ত্রী, সন্তানদের মারধোর করেন। ঘরে গিয়ে হাড়ি-পাতিল, চুলা ভেঙ্গে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে। মাদকাসক্ত শতকরা ৫০ ভাগ পুরুষের মধ্যে যুবকরাই বেশি আসক্ত বলে শ্রমিকরা জানান। চা বাগানে শ্রমিক কলোনিসমুহে উৎপাদিত মাদক বিকালে ও রাতে বিক্রি করা হয়। শ্রমিকরা মজুরি পেয়ে টাকা থেকে গ্লাস গ্লাস মদপান করে মাতাল হয়ে উঠে।

জাগরণ যুব ফোরামের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া শমশেরনগর চা বাগানের শ্রমিক সন্তান মোহন রবিদাস বলেন, “চা বাগানে উৎপাদিত মাদক পান করে চা শ্রমিক পরিবার সমুহে সবসময়ে ঝগড়া, কলহ, হানাহানি ও বিশৃঙ্খলা লেগেই আছে। দীর্ঘ সময় থেকে চলে আসা এই প্রবণতা কোন মতেই রোধ হচ্ছে না। চা বাগানে শত শত পরিবার মাদক উৎপাদনের সাথে জড়িত। কানিহাটি বাগানে মাদকের ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। এগুলো বন্ধে আমরাও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”

চা শ্রমিকদের ৫০ শতাংশ মাদকাসক্ত!

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন চা বাগান সমুহে ব্রিটিশ আমল থেকে প্রচলিত হয়ে আসা মদের যে সমারোহ ছিল তা এখনও অব্যাহত আছে। কমলগঞ্জ উপজেলার চা বাগানের লেবার লাইনের মধ্যে অবৈধভাবে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উৎপাদিত হচ্ছে মাদক। অবাধে গড়ে উঠা মদের পাট্টায় তৈরি হওয়া মদের মধ্যে ‘চোলাই’ ও ‘হাড়িয়া’ নামে পরিচিত। চা বাগানে মদ পান করছেন প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ শ্রমিক। সময়ের সাথে যুক্ত হচ্ছেন বস্তির একটি অংশ।

শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য ও শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, চা বাগানে মাদক বন্ধে এখন আমরা সচেতনতা সৃষ্টি করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সভা করছি।

এ ব্যাপারে শমশেরনগর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহ আলম অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার টাকা মূল্যের ৩০ লিটার মাদক ও সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। মাদক উৎপাদনের সাথে জড়িত এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea

অসঙ্গতি প্রতিদিন -এর সর্বশেষ