Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ ভাদ্র ১৪২৬, শুক্রবার ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

খাল খননে সুদিন ফিরছে খুলনার কৃষক-জেলেদের


০৮ জুন ২০১৯ শনিবার, ০৯:৩৮  পিএম

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


খাল খননে সুদিন ফিরছে খুলনার কৃষক-জেলেদের

খুলনা: ফাল্গুন মাসের পরে আর খালে পানি থাকে না। মাছ ধরা তো দুরে থাক বিলে গরু- ছাগল চরাতে আনলে চৈত্রের প্রখর রোদে গরু ছাগলকে পানি খাওয়ানো যায় না। গরু- চাগলকে পানে খাওয়াতে তাই পাশের গ্রাম তেখে কলসিতে বা বালতিতে করে পানি আনতে হত। কিন্তু এবার খালটি খনন করায় সেই সমস্যা আর নেই। এখন খালের পানি খায় গরু- ছাগল- ভেড়া। খালের পানিতে গরুকে গোছল করানো যায়। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট হয়ে থাকার পার এবার মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে খালটি খনন করায় সেই সমস্যা আর নেই। এমনটাই বলছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের পরিমল কুমার মন্ডল।

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ভেরকারীমারী বিলের মাঝ দিয়ে বয়ে খুলনা- সাতক্ষীরা মহাসড়ক স্থাপিত। এই মহাসড়কের দুই পাশে বয়ে চলা খাল দুটি ভরাট হয়ে যায়। যার মধ্যে দক্ষিণ পাশেরটি যে যার মত দখল করে নিয়েছে। উত্তরপাশেরটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। একারণে বর্ষা মৌসুমে আমন ক্ষেত তরিযে যায়। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি না থাকায় কৃষি ফসল উৎপাদন সম্ভব হয় না। তাছাড়া বিশালাকৃতির বিলে মৎস্যচাষও করতে পারেন না জমির মালিকেরা।

প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি খনন করার ফলে এক প্রান্তের সালতা নদীর স্লুইজ গেট হতে শোলমারী নদীর গেটের সাথে সংযোগ স্থাপন হয়ে যাওযায় পানি সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। এছাড়া মৎস্য চাষ ও কৃষি পন্য উৎপাদনে কৃষকেরা ব্যাপক সুবিধা পাবেন। এসব দিক বিবেচনা করে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের চেষ্টায় মৎস্য অধিদপ্তরের অর্থায়নে দোয়ানিয়ার খাল ( অংশ) সহ জেলার ২৫টি ভরাট হওয়া খাল খননের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খালের পার্শ্ববর্তী অধিবাসীদের সমন্বয়ে কমিটি।

ভেলকামারী বিলের মধ্যবর্তী খুলনা- সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালটির খনন সম্পর্কে ব্র্যাক গলদা ও তেলাপিয়া হ্যাচারীর ব্যবস্থাপক মো: মোস্তফা বলেন, হ্যাচারীর সামনে দিয়ে বয়ে চলা খালটি ভরাট হয়ে গিয়েছিল। হ্যাচারীর পানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হত। তাছাড়া প্রতিদিন হ্যাচারীর অভ্যন্তরের পুকুরের পানি অপসারণ করতে বেগ পেতে হ খালটি খনন করায় এখন আর সেই সমস্যা থাকবে না।

খুলনা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো: গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ প্রকল্পের মাধ্যমেজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় এ খাল খনন কর্মসূচি চলছে। খাল খনন করার ফলে ওই অঞ্চলের জনসাধারণ মৎস্য চাষ ও ফসল উৎপাদনে পানি সঙ্কটে ভুগবে না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আবু ছাইদ বলেন, খাল খননের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জলাশয়ের পার্শ্ববর্তী কৃষক, গরীব মৎস্যজীবী ও সাধারণ জনগণ সেচ সুবিধাসহ মৎস্য চাষের মাধ্যমে আমিষের ঘাটটি মেটাতে পারবেন। সেই সাথে বিলুপ্ত অথবা বিলুপ্ত প্রায় মৎস্য প্রজাতি ফিরে পাওয়া যাবে। খালের পার্শ্ববর্তী গরীব জনগণ আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জেলা মৎস্য অফিসের তথ্যমতে ২৫টি খাল ১৭ হেক্টর আয়তনের কাজের ৮০% অগ্রগতি হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

Netaji Subhash Chandra Bose
BRTA
Bay Leaf Premium Tea

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ