Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শুমারি : কমলগঞ্জে পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন


০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০১:৫৭  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শুমারি : কমলগঞ্জে পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদগ্রহণে সময়ক্ষেপণসহ নানা জটিলতায় ভোগান্তির শিকার হন। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ রেখে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা সহজেই নিজেদের সনদ পেতে ও প্রয়োজনী কাজে ব্যবহার করতে বাংলাদেশে এই প্রথম বিভিন্ন ভাষাভাষির ক্ষুদ্র-নৃ গোষ্ঠী সমৃদ্ধ কমলগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদ সহজীকরণের লক্ষ্যে পাইলট প্রোগ্রাম হিসাবে রোববার মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে মাধবপুরে মণিপুরী ললিতকলা একাডেমী মিলনায়তনে অভহিতকরণ সভা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শুমারি-২০১৮-এর প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও মনিপুরি ললিত কলা একাডেমীর সহযোগিতায় কার্যক্রমের সূচনা করা হয়। মৌলভীবাজার জেলায় নানা সম্প্রদায়ের ৬৫ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও কমলগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার লোকের বসবাস। এজন্য কমলগঞ্জ থেকে পাইলট প্রোগ্রাম গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে সারাদেশে এ শুমারি হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মণিপুরি ললিতকলা একাডেমীর পরিচালক (অতিরিক্ত) মোহাম্মদ মাহমুদুল হক এর সভাপতিত্বে নাট্য ব্যক্তিত্ব সুভাশীষ সিনহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও উপ-সচিব আশফাকুর রহমান, শিক্ষক রাজকান্ত সিংহ, গবেষক ও লেখক আহমেদ সিরাজ, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের কো-চেয়ারম্যান জিডিসন প্রধান সুচিয়াং, মুসলিম মণিপুরি নেতা শিক্ষক আব্দুল মতিন, মুক্তিযোদ্ধা আনন্দ মোহন সিংহ, লোকেন্দ্র সিংহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক মুজিবুর রহমান ও কমলগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি বিশ্বজিৎ রায় ও কমলাকান্ত সিংহ।

দেশে এই প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শুমারির পাইলট প্রোগ্রামের উদ্যোগ সম্পর্কে স্বাগত বক্তব্যে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদ গ্রহনে সময়ক্ষেপণসহ নানা জটিলতার কারণে শুমারি করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করে রাখলে তাদের সদস্যরা সহজেই সনদ গ্রহণ করে প্রয়োজনী কাজে ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সঠিক তথ্য সংগৃহীত থাকবে। এ লক্ষ্যেই এই শুমারি হচ্ছে। আর এটি একটি পাইলট প্রোগ্রাম। পরবর্তীতে এভাবে সারাদেশেও করা হতে পারে।

প্রধান অতিথি মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম বলেন, চাকুরি ক্ষেত্রে ও উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদ প্রদানে সঠিক তথ্য সংগ্রহে অনেক সময়ক্ষেপণ হতো। ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সনদ আবেদনকারীরা নানা সমস্যায় পড়েন। এ অভিজ্ঞতায় ডিজিটাল বাংলাদেশের সেবা পেতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদন সহজীকরণের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।