Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৫ শ্রাবণ ১৪২৬, রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯, ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

কলকাতায় আন্তর্জাতিক হুইলচেয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে আজ


২৬ এপ্রিল ২০১৯ শুক্রবার, ০১:০৬  এএম

প্রিয়ম গুহ, জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কলকাতায় আন্তর্জাতিক হুইলচেয়ার ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে আজ

কলকাতা: এই নববর্ষের সূচনাতেই প্রতিবন্ধকতাযুক্ত মানুষদের জন্য একটি অনবদ্য সুযোগ আসতে চলেছে বাংলায় প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হুইলচেয়ার ক্রিকেটের মাধ্যমে। পূর্ব ভারতে প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশ, আগামী ২৬-২৮ এপ্রিল, ২০১৯ রাজারহাট নিউ টাউনের NKDA স্টেডিয়ামে।

২০১২-র সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত হাতেগুনে কয়েকজনই এই হুইল চেয়ার ক্রিকেট সম্বন্ধে অবগত। সব চেয়ে দুঃখজনক বিষয় বাংলা এদের মধ্যে সব চেয়ে পিছিয়ে। সাধারণভাবে যে কোনও হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী ব্যক্তি এই ধরণের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে অনাগ্রহী হয়ে পরে যর্থার্থ পরিকাঠামোর অভাবে। তাদের কাছে মানসিক বাধা অতিক্রম করাটাও অনেক বড় প্রতিকূলতা।

পশ্চিমবঙ্গে এই পরিকাঠামোর অভাব সর্বত্র চোখে পড়ে। গবেষণামূলক তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে খেলাধূলা এক অন্তর্ভুক্ত সর্বব্যাপী পরিবেশ তৈরি করে যা সামাজিক ও মানসিকভাবে যে কোনও মানুষকে সমস্ত বাধা ও প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সর্বগ্র ভাবে সাহায্য করে। বাংলার এটা তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতবর্ষের ৬টি রাজ্য থেকে খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি হয়েছে হুইল চেয়ার ক্রিকেটের ভারতীয় জাতীয় দল।

হুইল চেয়ার এ সক্ষম ক্রিকেট প্রেমীর মনে এই বিশ্বাস যোগানো সম্ভব যে দেশের হয়ে তিনিও ২২ গজে ছক্কা হাঁকাতে পারেন। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার, এই এত বড়ো ক্রিকেট মহাযজ্ঞে ভারতীয় হুইল চেয়ার ক্রিকেট দলে বাংলার প্রতিনিধিত্ব শূন্য। সাধারণ মানুষ ও প্রতিবন্ধকতা যুক্ত খেলোয়াড়দের উভয়কেই সামাজিক ভাবে সচেতন ও উত্সাহিত করাও এই টুর্নামেন্টের অন্যতম লক্ষ্য। প্রচুর সংগ্রাম ও প্রতিকূলতা উত্তীর্ণ করার পর আজ এই টুর্নামেন্ট আয়োজিত হয়েছে সকল সহযোগীদের নিরন্তর প্রয়াসের ফল স্বরূপে।

আয়োজকরা বলেন, দীর্ঘদিনের অক্লান্ত নিরলস প্রচেষ্টার দ্বারা আজ আমরা সফল ভাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে চলেছি। আশা করা যায় বিভিন্ন স্তরের প্রশাসক, প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষ এবং আপামর জনগনকে এই জাতীয় টুর্নামেন্টএর প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে হুইল ক্রিকেট অফ ইন্ডিয়া (ডব্লুসিআই) এবং সহযোগী সংস্থাগুলি। এই লড়াই এর ইতিহাস এর সূচনা ২০১২ সালে। বিগত সাত বছর ধরে হুইল চেয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষদের বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে অংশগ্রহণে উত্সাহ প্রদান করা, প্রত্যক্ষ সাহায্য করা ছাড়াও তাদের শিক্ষা, অর্থনৈতিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থার উন্নতিতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ডব্লুসিআই হুইল চেয়ার ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করার মাধ্যমে হুইল চেয়ারে সক্ষমদের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। আর ডব্লুসিআই তাদের যোগ্য সহযোগী হিসেবে পেয়েছে।

সিভিলিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-ও বিগত ৭ বছর ধরে প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদদের উন্নতির জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে কাজ করে চলেছেন এবং তারা বার বার প্রমাণ করেছে কিভাবে খেলাধূলা মানুষের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে এক অনস্বীকার্য ভমিকা পালন করে। হুইল চেয়ার ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞে সিভিলিয়ান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন-এক সাথে যোগদান করেছে ফাইভ ম্যাড ম্যান, গ্যাসট্রো স্পোর্টস পাব। তারা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাড়া স্পোর্টসকে জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য।

বাকি সহযোগীদের মধ্যে পাড়া স্পোর্টস ফাউন্ডেশন অন্যতম। প্রতিবন্ধকতা যুক্ত খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে পাড়া স্পোর্টসকে জনপ্রিয় করে তুলছে সর্বত্র। এসিএসতা স্পোর্টস অ্যালায়েন্স-ও তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় স্তরের প্রতিবন্ধকতা যুক্ত খেলোয়াড়দের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্য স্তরে এই টুর্নামেন্ট এক অভিনব উদ্যোগ, যা পারা স্পোর্টস কে জনপ্রিয় করা ছাড়াও প্রতিবন্ধকতা যুক্ত মানুষদের মানসিক ভাবে প্রেরণা যোগাবে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী মদন মিত্র বলেন, এ বিষয়ে এদের উন্নতির জন্য এবং এই খেলার জন্য যত রকমের সাহায্য করা যায় তিনি তার চেষ্টা করবেন। এছাড়াও তিনি বলেন, দেশপ্রেমিক ক্লাব সংহতি যার মধ্যে রয়েছে কলকাতার প্রায় ৫০টি ক্লাব অন্তর্ভুক্ত। তাই দেশপ্রেমিক ক্লাব সংহতিও প্রায় ১ লক্ষ টাকা দিয়ে সাহায্য করবে বলে জানালেন তিনি। গত বছর এরকমই একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ। তাতে অবশ্য ভারত এবং বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছিল।

বাংলাদেশের হুইল চেয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি মহঃ ওবায়েদুল হক বলেন, বাংলাদেশে ভালই সাড়া ফেলেছিল এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। সরকারি তরফ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন উত্তোরত্তর বৃদ্ধি পাবে হুইল চেয়ার ক্রিকেট। তার অবশ্য প্রমাণ এই বছরে নেপালের যোগদান। আশা করা যায় বিশ্বের সব দেশই এইভাবে এগিয়ে আসবে। কারণ এই সব বিশেষ মানুষ জনেরা যে পৃথিবীতে ব্রাত্য নয় তারাও যে ২২ গজে ছক্কা হাকাতে পারে তা প্রমাণ করে দেবে এমন এক মহতী কর্মকাণ্ড।

ভারতের হুইল চেয়ার ক্রিকেটের সম্পাদক প্রদীপ রায় এবং সিইও প্রতাপ সিং বলেন, ফিল্ডিং ব্যাটিং বোলিং সবই এক শুধু ব্যতিক্রম হলো সব কিছুই হবে হুইল চেয়ারে বসেই এবং নিউ টাউনের এই স্টেডিয়াম ও দর্শকরা সাক্ষী থাকবে তাদের দক্ষতার। তারা আরও বলেন, আস্তে আস্তে সকলের মধ্যেই এ বিষয়টি স্থান পাচ্ছে, ধীরে ধীরে এদের জন্য এক ক্রিকেট আকাদেমির স্থাপন হবে যা প্রমাণ করবে এরাও পিছিয়ে নেই।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।