Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ কার্তিক ১৪২৭, বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০, ১:৫০ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

করোনায় শ্রোতা না থাকায় ভালো নেই গাইবান্ধার পথের বয়াতিরা


১৮ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ১২:১৭  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


করোনায় শ্রোতা না থাকায় ভালো নেই গাইবান্ধার পথের বয়াতিরা

কণ্ঠে সুরের যাদুকরী মূর্ছনার সাথে দোতারা ও ঢোলের ছন্দে গাইবান্ধার হাট-বাজার ও চায়ের দোকান আর জমে না। সুর, তাল, লয় ও ছন্দ সবই রয়েছে আগের মতো, কিন্তু করোনার কারণে শ্রোতা না থাকায় আগের মতো রোজগার নেই। ফলে নিদারুণ কষ্টে দিনানিপাত করছেন গাইবান্ধার বয়াতিরা।

গাইবান্ধা জেলায় অন্তত ১শ জন বয়াতি রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই আবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। তাদের সংসার চলতো হাট-বাজার, চায়ের দোকান ও পথে পথে গান গেয়ে। করোনার কারণে শ্রোতা না থাকায় এখন আসর জমাতে পারছেন না তারা। বিভিন্ন সময়ে উৎসব ও অনুষ্ঠানও বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের গান-বাজনার আসরগুলোও বন্ধ। তাই বন্ধ হয়ে গেছে তাদের আয়ের পথ। কষ্টের যেন শেষ নেই, এই পথের বয়াতিদের।

গাইবান্ধার দাড়িয়াপুর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ীতে কাফি, সন্তোষ, তাজু, সাদা, সাধু, ফজলু রিজু বয়াতীর মতো অন্তত ১শ জন বয়াতি রয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রতিবন্ধী এবং তাদের একমাত্র পেশা পথে পথে গান গাওয়া।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুরের বাসিন্দা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সন্তোষ বয়াতি জানান, তার সংসারে তিন সন্তানসহ ৫ সদস্য রয়েছে। দোতরা নিয়ে হাটে বাজারে গানের আসর জমান। এই আসর থেকে মানুষ যা দেয় তাই দিয়ে পরিবারের সবার মুখে তিন বেলা খাবার যোগান হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তার দিন চলছে খেয়ে না খেয়ে।

তিনি বলেন, ‘ভিক্ষাও করতে পারিনা। মানুষের কাছে ধার দেনা আর সুদের উপর টাকা নিয়ে কোনোভাবে এক বেলা আধ পেট খেয়ে দিন কাটছে।’

বয়াতিদের সংসারই চলে পথে পথে গান গেয়ে। অনেকেই পরিবারের ছেলে মেয়ে স্ত্রীসহ সারাদিন গান গেয়ে বেড়ান। এদের প্রত্যেকের পরিবারের সদস্য সংখ্যাও বেশি। যাদের ভরন-পোষণ চলে এই পেশার উপর। করোনায় তারা আগের মতো শ্রোতা জোগাতে না পারায় তাদের আগের মতো আয়-রোজগার নেই।

বয়াতিরা ঢোল দোতারা একতারা দিয়ে মাটির ও মানুষের গান গেয়ে মানুষের মনে আনন্দ দিলেও এখন তাদের মনে আনন্দ নেই। তাই পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন চলছে তাদের।

গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব উপাধ্যক্ষ জহুরুল কাইয়ুম বলেন, শহরের আশে পাশে বেশ কিছু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছেন, যারা ভিক্ষা করতে পারেনা। তারা হাটে বাজারে ও বিভিন্ন উৎসবে গান গেয়ে যা রোজগার হয় তাই দিয়ে সংসার চালায়। তাদের এখন গান বাজনা বন্ধ হওয়ায় আয়ের পথ বন্ধ। কেউ কেউ সরকারি সহযোগিতা পেলেও অধিকাংশই তা থেকে বঞ্জিত। তবে প্রতিবন্ধী বয়াতি বা শিল্পীদের আলাদা করে সরকারি সহযোগিতা দরকার।’

গাইবান্ধা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক প্রমোতোষ সাহা বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও শিল্পকলা একাডেমি থেকে অনেককেই সামান্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। তবে তার বাইরেও বয়াতি বা শিল্পী রয়েছে, তাদের দেয়া সম্ভব হয়নি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ