Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, শনিবার ৩০ মে ২০২০, ৯:১৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেই মাস্ক-গ্লাভস:হুমকির মুখে লাখো চা শ্রমিক


৩১ মার্চ ২০২০ মঙ্গলবার, ০৫:৫৩  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


করোনাভাইরাস প্রতিরোধে নেই মাস্ক-গ্লাভস:হুমকির মুখে লাখো চা শ্রমিক

করোনা ভাইরাস থেকে নিরাপত্তা রক্ষায় যখন সারাদেশে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে, তখন চা বাগানে চলছে দলে দলে কাজ। কোন ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজে নিয়োজিত আছেন লাখো চা শ্রমিক। অন্যান্য এলাকার তুলনায় চা বাগানে যক্ষা, কুষ্ঠ এসব নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও বর্তমান দুর্যোগময় সময়েও শত শত শ্রমিক মাস্ক, গ্লাভসসহ প্রতিরোধ মূলক কোন ব্যবস্থা ছাড়াই একত্রে জড়ো হচ্ছেন।

নিজেদের ঘনবসতিপূর্ণ কলোনী সমুহে ব্যাপক পরিসরে বসবাস করছেন চা শ্রমিকরা। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে এই শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকরা রয়েছেন হুমকির মুখে।

সরেজমিন চা বাগানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোন ধরণের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই টিলা ও সেকশন সমুহে দলে দলে কাজ করছেন শ্রমিকরা। শত শত নারী শ্রমিকরা নিজেদের মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই উন্মুক্ত পরিসরে তারা কাজ শেষে একত্রে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার ও পাতি ওজন দিচ্ছেন। তবে কাজের ক্ষেত্রে ঘনঘন হাত ধোয়ারও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার জন্য কোম্পানী সাবান ও পানির ব্যবস্থা করলেও একটি মাত্র সাবান দিয়ে শতাধিক শ্রমিক হাত পরিস্কার করতে বাধ্য হচ্ছেন। বাগানে কাজের ক্ষেত্রে এবং নিজ নিজ বাসগৃহে গাঁ ঘেষোঘেষি করে চা শ্রমিকদের বসবাসেও রয়েছে ঝুঁকি। চা বাগান শ্রমিকরা ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সর্দি, জ্বর, কাশি, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ এসব নানা ব্যাধিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে চরম হুমকির মুখে চা বাগান শ্রমিকরা।

মৌলভীবাজার চা শ্রমিক সংঘের আহ্বায়ক রাজদেও কৈরী, যুগ্ম আহ্বায়ক হরিনারায়ন কৈরী বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে সবাই আতঙ্কিত। এটি প্রতিরোধ ও সচেতনতায় চা বাগানে মূলত: কোন ধরণের পদক্ষেপ নেই। নিজেদের পক্ষে যাদের সামর্থ্য আছে তারা মাস্ক কিনে ব্যবহার করছে। এছাড়া কোম্পানীর পক্ষ থেকে কোন প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেই এবং কোন ধরণের পরামর্শও দেয়া হচ্ছে না।

তারা আরও বলেন, সরকার যেখানে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করছে, সেখানে ঘনবসতিপূর্ণ চা বাগানে বন্ধ হওয়ার কোন লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, অন্যান্য স্থানের মতো বাগানের মানুষ আতঙ্কিত। তবে চা বাগানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই কাজকর্ম চলছে। দ্রুত চা বাগানে শ্রমিকদের সবেতনে ছুটি দেয়ার দাবি জানান।

ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগান ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বাগানের বাইরের কেউ যাতে বাগানে না আসতে পারেন এবং বাগানের শ্রমিকরাও যাতে বাইরে বের না হন সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। তবে ফিল্ডে গেলে হাত পরিস্কারের জন্য সাবান পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি) এর পাত্রখোলা চা বাগান ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, চা বাগানে বন্ধের বিষয়ে আমরা কোন নির্দেশনা পাইনি। শ্রমিকদের পানি, স্যানিটেশন ব্যবহার, লিফলেট বিতরণ, মাইক যোগে প্রচারনার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং কোম্পানীর পক্ষ থেকে মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হবে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী বলেন, চা বাগানে ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে আমরা সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে বসবাস করছি। আমাদের প্রায় ৬ লাখ লোক করোনার ঝুঁকির মুখে। তাই চা শ্রমিকদের মজুরিসহ ছুটি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাহিদ হোসেন জানান, চা বাগান শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক ছুটি ঘোষনা দেয়নি সরকার। তবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও নিরাপত্তার স্বার্থে চাইলে বাগান মালিকরা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে পারেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।