Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ পৌষ ১৪২৫, রবিবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

বরেন্দ্রে’র শক্ত এটেল মাটিতে গমচাষে বিপ্লব


৩০ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার, ০২:৪৭  এএম

নওগাঁ সংবাদদাতা

বহুমাত্রিক.কম


বরেন্দ্রে’র শক্ত এটেল মাটিতে গমচাষে বিপ্লব
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

নওগাঁ : ভাল বাজার দর আর কম খরচের কারণে বরেন্দ্র এলাকায় গমের চাষ অধিক লাভজনক হয়ে উঠছে। ফলে বরেন্দ্র এলাকা নওগাঁর সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুরে চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের আবাদ হয়েছে।

অনুকূল আবহাওয়া আর ভাল বীজ সরবরাহে গমের বাম্পার ফলন আশা করছেন কৃষকরা। আর কৃষি বিভাগ ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গমের চাষ বাড়াতে বরেন্দ্র এলাকায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সমতল থেকে কিছুটা উচু হওয়ায় নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকায় সেচ সংকটে অনেক জমি ফেলে রাখতো কৃষকরা। কিন্ত গেল কয়েক বছর থেকে এসব জমিতে সেচ কম লাগে এমন ফসল ফলানোর জন্য কৃষকদের উৎসাহ যোগায় কৃষি বিভাগ। কম খরচ ও অধিক লাভ পাওয়া যায় এমন জাতের গম বীজ সরবরাহ করে কৃষি বিভাগ ও বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ।

এর ফলে এবার বরেন্দ্র এলাকা সাপাহার, পোরশা ও নিয়ামতপুরে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গমের চাষ হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া আর কোন রোগবালাই না থাকায় ভাল ফলনের আশা করছেন তারা চাষিরা।

সাপাহার পিচল ডাঙ্গা এলাকার গম চাষী শরিফুল হোসেন, মজিবর রহমান ও আলাউদ্দিন বলেন, গত ৩/৪ বছর থেকে আমরা গম চাষ করে আসছি। মুলত খড়া মৌসুমে আমাদেও মাঠে পানি সংকট দেখা দেয় ফলে এসব জমি ফেলে রাখা হতো। কিন্ত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ খাল কেটে সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ফলে গম ও রবি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। এবার মজিবর ১৬ বিঘা জমিতে গমের চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, যেখানে কোন ফসল আশা করা যায়নি সেখানে গেল কয়েক বছর থেকে আমার মতো অনেক কৃষক গম চাষে এগিয়ে এসেছে। কৃষক আলাউদ্দিন বলেন প্রতি বিঘা জমিতে থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘা প্রতি ১৩ থেকে ১৪ মন গম পাওয়া যায় খরচ বাদ দিয়েও থেকে ১০ হাজার টাকা থাকে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাপাহার উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো: ইন্তেখাফ আলম বলেন, কৃষকদের রবি ফসল গম ও ডাল জাতীয় অল্প পানি লাগে এমন চাষাবাদে সহ যোগিতা করছে বিএমডিএ। এ জন্য সাপাহার পত্নীতলা এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায় এমন খাল কাটা হয়েছে। সেখান থেকে পানি সেচ নিয়ে কৃষকরা এসব ফসল ফলিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে। তিনি আরো বলেন বরেন্দ্র এলাকায় গম সহ রবি ফসল ফলানোর জন্য উন্নত জাতের গম বীজ সরবরাহ এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে সাপাহার পত্নীতলা এলাকায় এবার রেকর্ড পরিমান গম চাষে স্থানীয় কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভও চাষ ও বাজার ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে । সাপাহার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ এফএম গোলাম ফারুক বলেন, যেখানে মাত্র এক হাজার হেক্টর জমির নিচে গম চাষ হতো এখানে এখন সেই পরিত্যাক্ত জমিতে গম চাষে এগিয়ে এসেছে চাষীরা।

তিনি বলেন, মুলত গম চাষে খরচ কম এবং পানি সেচ লাগে কম এসব কথা চিন্তা করে এখানে কৃষকদের নানা ভাবে উৎসাহী করা হয়। এর ফলে শুধু সাপাহারে এবার প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে।

কৃষক পর্যায়ে কার্ড সিস্টেম চালু করে সরাসরি গম কেনায় সহযোগিতা করছে উপজেলা প্রশাসন। গমের বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় আগামীতে আরো গম চাষ বাড়বে বলে মনে করছে সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শামসুল আলম চৌধুরী। চলতি বছর নওগাঁয় ২৮ হাজার ১শ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৬ হাজার হেক্টর বেশি। কৃষি বিভাগের আশা, এবার ২ লাখ ১ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন গমের ফলন হবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।