Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বুধবার ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৮:২৮ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

প্রাকৃতিক বায়োপলিমার কিটোসান প্রয়োগে স্ট্রবেরির ফলন বৃদ্ধি


১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০১:১৫  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


প্রাকৃতিক বায়োপলিমার কিটোসান প্রয়োগে স্ট্রবেরির ফলন বৃদ্ধি

কোন সিনথেটিক বালাইনাশক ব্যবহার ছাড়া উচ্চ গুণমান সমৃদ্ধ স্ট্রবেরি উৎপন্ন করার জন্য একটি পরিবেশগত নিরাপদ জিবপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।

বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএইউ) -এর গবেষকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যৌথ গবেষণা করে চিংড়ি শিল্পের বর্জ্য খোলস থেকে তৈরি কিটোসান প্রয়োগ করে সম্পূর্ণভাবে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যতিরেকে স্ট্রবেরির ফলন ৪৮% বৃদ্ধি করার এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। এই প্রাকৃতিক কিটোসান ব্যবহারে স্ট্রবেরি ফলে ২-৩ গুন বেশি বিভিন্ন সেকেন্ডারি বিপাক যেমন ফেনলিক ও ভিটামিন সি বৃদ্ধি পায়। উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যকলাপ সমৃদ্ধ এই স্ট্রবেরি ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে ভূমিকা পালন করবে।

স্ট্রবেরি বাংলাদেশের একটি নতুন ফলের ফসল, যা উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের কাছেই যথেষ্ট আগ্রহ অর্জন করেছে। দেশের দরিদ্র কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসের জন্য বিকল্প প্রযুক্তি প্রয়োজন যাতে ক্ষতিকর সিনথেটিক বালাইনাশক ব্যবহার কম হয়। স্ট্রবেরি ক্যারটিনয়েড, ভিটামিন, অ্যানথোসায়ানিন, ফেনলস এবং ফ্লেভনয়েডসহ প্রাকৃতিক অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমূহ ও মুক্ত। ডিকলসমূহ ধ্বংস করার একটি চমৎকার উৎস।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় যে, স্ট্রবেরি ফলে বিদ্যমান মেজর ফেনোলিক যৌগ যেমন ফ্লেভনয়েড উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ক্যান্সার বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করেন। এই উচ্চ মাত্রায় সেকেন্ডারি মেটাবলাইটযুক্ত স্ট্রবেরি মানুষের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সহায়তা করে। বাংলাদেশে মাটি এবং বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগ ও কীটপতঙ্গ থেকে স্ট্রবেরি উদ্ভিদ ও ফল রক্ষা করার জন্য কৃষক উচ্চ মাত্রার সিনথেটিক বালাইনাশক ব্যবহার করে যা ভোক্তাদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তিটি বাংলাদেশে স্ট্রবেরির উৎপাদন বাড়াতে এবং ভোক্তার স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করবে।

এই গবেষণা প্রকল্পটির প্রধান ড. মোঃ তোফাজ্জাল ইসলাম বাংলাদেশের বিএসএমআরএইউ-র জিবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক, যিনি বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী প্লস ওয়ানে (PLOS ONE) সদ্য প্রকাশিত প্রবন্ধের করেস্পন্ডিং লেখক। অধ্যাপক ইসলাম বলেন, গবেষক দল দেশের চিংড়ি শিল্পের বর্জ্য চিংড়ির বাহ্যিক খোলস থেকে তৈরি পলিমার কিটোসান প্রয়োগে উচ্চ গুনগত মান সম্পন্ন অধিক ফলনশীল স্ট্রবেরি উৎপাদন কৌশল আবিষ্কার করেছেন। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে উচ্চমানের স্ট্রবেরি উৎপাদনের জন্য কিটোসান জৈব-উদ্দীপক হিসাবে ব্যবহার করা যাবে।

অধ্যাপক তোফাজ্জাল ইসলামবলেন, "আমরা স্থানীয় চিংড়ি শিল্পের বর্জ্য থেকে তৈরি প্রাকৃতিক পদার্থ দ্বারা স্ট্রবেরি উৎপাদন বৃদ্ধির প্রাকৃতিক জৈব-উদ্দীপকের শিল্প উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছি। এই প্রাকৃতিক পদার্থ প্রয়োগ করলে তা মাটির স্বাস্থ্যকে ক্ষতি করবেনা, পরিবেশগত দূষণ কমাবে এবং সিন্থেটিক রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে উৎপন্ন গ্রীনহাউজ গ্যাসগুলি থেকে পরিবেশকে মুক্ত করবে, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল স্ট্রবেরির উৎপাদন খরচ কমাবে।’

ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই গবেষণা প্রকল্পের প্রধান অনুসন্ধানকারী ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, "স্ট্রবেরি বিভিন্ন ছত্রাক এবং অণুজীবঘটিত রোগের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশের উচ্চ আর্দ্রতা এবং উষ্ণ আবহাওয়া রোগ প্রাদুর্ভাবের জন্য অনুকূল। উপরন্তু, রোগ এক সমস্যা হতে পারে যদি একই জমি একই ফসলের বারংবার উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়।বিভিন্ন কীটপতঙ্গ থেকে এই নতুন ফসল রক্ষা করতে, বাংলাদেশের স্ট্রবেরি চাষীরা অননুমোদিতভাবে অনেক কৃত্রিম রাসায়নিককে ককটেল হিসাবে ব্যবহার করে যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কিটোসান ভেক্সিন হিসেবে রোগের বিরুদ্ধে শক্তিশালী দমনমূলক ক্রিয়া থাকায়, এই প্রাকৃতিক নবায়নযোগ্য পদার্থ কৃত্রিম রাসায়নিক বালাইনাশকের বিকল্প হিসেবে এবং বাংলাদেশের নিরাপদ ও সুস্বাদু স্ট্রবেরির টেকসই উৎপাদন উন্নীত করার জন্য জৈব-উদ্দিপক হিসাবে শিল্পায়িত করা উচিত।

ড. রহমান বলেন, ‘কিটোসান প্রয়োগের মাধ্যমে স্ট্রবেরি ফলের মধ্যে সেকন্ডারি মেটাবলাইট অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ট্রবেরির বাণিজ্যিক চাষাবাদ করলে এটি গ্রাহকদের ভাল স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করবে।’

গবেষণাটি ইউএসডিএ ফরেন এগ্রিকালচার সার্ভিস (এফএএস) প্রোগ্রাম কনট্র্যাক্ট এজিআর নম্বর এসআর-সিআর-১৩-০০২ এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামূলক বীজ প্রদানে সহায়তা এবং বিএসএমআরএইউ-র বায়োটেকনোলজি বিভাগে বাস্তবায়নাধীন বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হেকেপ সিপি#২০৭১ প্রকল্পের আংশিক অর্থায়নে পরিচালিত।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।