Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, রবিবার ২০ মে ২০১৮, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

প্রতীক্ষার অবসান : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’র সফল উৎক্ষেপণ


১২ মে ২০১৮ শনিবার, ০২:৫৪  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


প্রতীক্ষার অবসান : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’র সফল উৎক্ষেপণ
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা : আজ মধ্যরাতে জাতির বহুল প্রতীক্ষিত ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে দেশের প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহের বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে কক্ষপথের দিকে যাত্রার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্পেস সোসাইটিতে প্রবেশের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হলো।

মার্কিন কোম্পানি স্পেসএক্স-এর সর্বাধুনিক রকেট ফ্যালকন-৯ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপ ক্যানাভেরাল উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে স্যাটেলাইটটি নিয়ে কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করেন। ফ্লোরিডার স্বচ্ছ আকাশে প্রায় সাত মিনিট স্যাটেলাইটটি দেখা যায়।

ফ্লোরিডা থেকে উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষকারী আইসিটি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, ‘আমি আজকের দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করতে চাই, যিনি ১৯৭৪ সালে দেশের সর্ব প্রথম স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশন স্থাপনের মাধ্যমে মহাকাশ যুগে প্রবেশের কার্যক্রমের সূচনা করেন।’

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রযুক্তি কেন্দ্রীক উত্তরণের দৃষ্টান্ত। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু-১ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগও যার ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিশন রয়েছে।

দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার প্রত্যক্ষ করার জন্য মধ্যরাতের পরও সজাগ ছিলেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী বহু বাংলাদেশীও এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচার ও ওয়েবকাস্ট প্রত্যক্ষ করেন।

শুক্রবার প্রত্যুষে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।
স্পেসএক্স জানায়, রকেট ও স্যাটেলাইট ‘ভাল রয়েছে’ এবং শনিবার উৎক্ষেপণের জন্য এর একাধিক টিমের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তটিও সম্পূর্ণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ছিল। এ ক্ষেত্রে যে কোন পরিমাপ অস্বাভাবিক হলে উৎক্ষেপণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃত্রিম উপগ্রহের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এর আগে বলেছেন, ফ্যালকন-৯ মহাকাশ যানে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে যাবে। দু’টি পর্যায়ে এ উৎক্ষেপণে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রথম পর্যায়ে ১০ দিন ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০ দিনের মতো সময় লাগবে। এসব প্রক্রিয়া শেষে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাাটির বেতবুনিয়ার গ্রাউন্ড স্টেশনে এর সংযোগ পেতে আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন হবে।

মহাকাশের ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমায় থেকে উপগ্রহটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং পর্যবেক্ষণে দেশের সক্ষমতা সম্প্রসারিত করবে। উপগ্রহটি থেকে সার্ক দেশগুলোর পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান এবং কাজাকিস্তানের একটি অংশ এর সুযোগ নিতে পারবে। এই স্যাটেলাইট প্রথমে ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ইরমার কারণে এর উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু-১ এর ফলে ডাইরেক্ট-টু-হো (ডিটিএইচ) ভিডিও সার্ভিস, ই-লার্নিং, টেলি-মেডিসিন, পরিবার পরিকল্পনা, কৃষি খাতসহ দুর্যোগ উদ্ধারে ভয়েস সার্ভিসের জন্য সেলুলার নেটোয়ার্কের কার্যক্রম এবং এসসিএডিএ, এওএইচও এর ডাটা সার্ভিসের পাশাপাশি বিজনেস-টু-বিজনেস (ভিসেট) পরিচালনায় আরো সহজতর করবে।

বিটিআরসি ২০১৫ সালের নভেম্বরে দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট নির্মাণের জন্য ফ্রান্সের থালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিস কোম্পানির সঙ্গে ২৪৮ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে। কোম্পানিটি কয়েক মাস আগে স্যাটেলাইটটির তৈরির কাজ সম্পন্নের পর এটি ফ্রান্সের ক্যানেস ওয়্যারহাউজে রাখা হয়। পরে ২৯ মার্চ এ স্যাটেলাইট ফ্লোরিডায় স্থানান্তর করা হয়।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য বাংলাদেশ ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারস্পুটনিক’ এর কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমায় (স্লট) কক্ষপথ স্লট ক্রয় করে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পরিচালনায় নবগঠিত কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম শুক্রবার রাতে টেলিফোনে সমকালকে জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিয়ে রওনা হওয়ার প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যে ফ্যালকন-৯ তিনশ` কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। প্রথম ১০ থেকে ১২ ঘণ্টায় অতিক্রম করবে ৩৫ হাজার কিলোমিটার পথ। উৎক্ষেপণ যানটি তিন হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করার পর থেকেই গাজীপুরে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে সেটির অবস্থান দেখা যাবে। এ সময় থেকে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ কাজ শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে এটি পরিচালনাও করবে এই ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে পৌঁছতে সময় লাগবে আট থেকে দশ দিন। তবে এটি পুরোপুরি কক্ষপথে স্থাপিত হয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী হতে সময় লাগবে অন্তত দু`মাস।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোররাত ৩টা ৪৭ মিনিট) বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়। তবে সে সময় একেবারে শেষ মুহূর্তে গিয়ে উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হয়। এরপর শনিবার দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ সফল হয়।

এ স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে। ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে স্বাভাবিক টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও উদ্ধারকর্মীরা স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ রেখে দুর্গত এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। মহাকাশ গবেষণার প্রয়োজনে নানা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহেও ব্যবহার করা যাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য রাশিয়ার ইন্টার স্পুটনিক থেকে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে বরাদ্দ পাওয়া কক্ষপথের ভাড়ার মেয়াদ ১৫ বছর।

বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরির এ স্যাটেলাইট। এটি যোগাযোগ এবং সম্প্রচার কাজেই মূলত ব্যবহার করা হবে। এ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিবছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। ফলে বড় অঙ্কের টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। দেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ ব্যয়ও কমে আসবে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

প্রযুক্তির সাথে -এর সর্বশেষ

Hairtrade