Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
১০ আষাঢ় ১৪২৫, রবিবার ২৪ জুন ২০১৮, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

কয়রায় লবনাক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন


২৬ এপ্রিল ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০১:১৬  পিএম

শেখ প্রিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কয়রায় লবনাক্ত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

খুলনা : খুলনা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলায় লবনাক্ত জমিতে  প্রথম বারের মতো তরমুজ চাষ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছে  কৃষকরা। উপজেলার ৩নং কয়রা গ্রামের কৃষক আজিজুল এইবার প্রথম লবনাক্ত জমিতে তরমুজ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়েছে। তার দেখাদেখি ঐ ঐলাকার স্থানীয কৃষকরা আগামীতে তরমুজ চাষে ঝুকে পড়বে এমনই প্রত্যাশা সকলের।

জানা গেছে,বাংলাদেশে কৃষি কাজে ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে সেচ ও পানি সরবরাহ পদ্ধতি সীমিত। বাংলাদেশে শীত কালে সীমিত বৃষ্টিপাত বা খরা জনিত কারনে জলাধারে বা ফসলের মাটিতে পানি জমে থাকে না। পানির সুষ্টু বিতরন ব্যবস্থা না থাকায় পানির অপচয় বেড়ে যায় এবং সেচ এলাকাও কমে যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও সরেজমিন গবেষণা বিভাগ সিআরজি এনএটিপি-২ এর অর্থায়নে লবনাক্ত কয়রা এলাকায় তরমুজের উপর ড্রিপ ফার্টিগেশন  একটি গবেষণা হাতে নেয়। যাতে উপকুলীয় অঞ্চলে কৃষকরা অল্প পানি ব্যবহার করে পতিত জমিতে রবি ফসল উৎপাদন করে লাভবান হতে পারে। আর সেই প্রকল্পের মাধ্যমে তরমুজ চাষ করে লাভবান হয়েছে কৃষক আজিজুল।

সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড.খোকন কুমার সরকার বলেন,ড্রিপ ফার্টিগেশন এমন একটি উন্নত পরিমিত সেচ পদ্ধতি যা মাটির পৃষ্ট বা সরাসরি গাছের শিকড় অঞ্চলে ধীরে ধীরে ফোটা ফোটা করে সার মিশ্রিত পানি প্রয়োগ করা হয়। তিনি আরও বলেন সম্পুর্ন জমি ভেজানো প্রয়োজন হয় না যার ফলে পানি অপচয় না হয়ে সুষ্টুভাবে ব্যবহারিত হয়। এই পদ্ধতিতে পানিতে দ্রবনীয় সার যেমন ইউরিয়া ও পটাশ সাধারনত প্রতি ১ শতকে ২ শ লিটার পানিতে ১ কেজি ইউরিয়া বা পটাশ মিশ্রিত করে গাছের গোড়ায় ফোটা ফোটা করে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতি প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে শতকরা ৪০-৫০ ভাগ পানি ৩৫-৪০ ভাগ ইউরিয়া এবং ২৫-৩০ ভাগ পটাশ সার সাশ্রয় হয়। কয়রা উপজেলার ঝিলিয়াঘাটা গ্রামের কৃষক মোঃ আজিজুল ইসলাম বলেন,এই সেচ পদ্ধতি অনুসরন করে প্রথম বারের মতো তরমুজ চাষ করি।

এতে এ বছর বাম্পার ফলন হয়েছে। ১০ শতাংশ জমিতে তরমুজ চাষ করে ৩০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পেরে সে বেশ খুশি বলে জানায় । এখন সে তার ঐ জমিতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো বলে আশা ব্যাক্ত করেন। সরেজমিন গবেষনা বিভাগের এমএলটি সাইট এর দায়িত্বরত বৈজ্ঞানিক সহকারী মোঃ জাহিদ হাসান বলেন, স্থানীয় কৃষকদের কৃষি সেচ পদ্ধতি ও ড্রিপ সেচ পদ্ধতিতে চাষ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ড্রিপ সেচ পদ্ধতিতে একটি তরমুজ ১২ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। এবং কৃষক সেচ পদ্ধতিতে ৮ থেকে ৯ কেজি পর্যন্ত হয়েছে। তিনি বলেন,আজিজুলের দেখাদেখি এই অঞ্চলের কৃষকরা এই পদ্ধতি অবলম্বন করে আগামীতে তরমুজ চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠবে।

 সরেজমিন গবেষনা বিভাগ খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদ বলেন, দেশের দক্ষিনাঞ্চলে সেচের পানির তীব্র সংকট হওয়ায় ড্রিপ পদ্ধতিতে প্রাপ্য স্বল্প পরিমান স্বাদু পানির সুষ্টু ও দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে শস্য নিবিড়তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া ড্রিপ সেচের ফলে গাছের মুলাঞ্চলের লবনাক্ততা কমে বিধায় সফলভাবে ফসল ফলানো যায়। তিনি আরও বলেন,তরজমুজের ব্যাপক ফলন দেখে কৃষকের পাশাপাশি আমরাও খুশি হয়েছি। স্থানীয় কৃষকরা বলেন,তাদের এলাকায় আরো বেশি পরিমান প্রর্দশনী দিলে উপকুলীয় এ জনপদের কৃষকরা লাভবান হবেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

কৃষি -এর সর্বশেষ

Hairtrade