ফাইল ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ছাড়া দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপির জামিনদার, বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা করাসহ স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় একগুচ্ছ সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির প্রস্তাবে স্থানীয় সরকার আইনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে। এই প্রস্তাবে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে পারবে তারা।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ১২তম কমিশন সভা শেষে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব আকারে পাঠাব। তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে একাধিক নির্বাচন কমিশনারসহ ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, আগামী আগস্টে তপশিল ঘোষণা করে অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ-বিষয়ক প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ বা তপশিল বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে তপশিল ঘোষণার বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিলে তা ৫ মিনিটের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
তিনি জানান, সভায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দিনব্যাপী চলা কমিশন সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। চার নির্বাচন কমিশনার ও ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন এবং জেলা পরিষদ আইন সংশোধনে ইসির প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা নিয়েও আলোচনা হয়। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা সহজীকরণ ও নবায়ন, প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনসহ অন্যান্য বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন সংশোধন প্রস্তাবগুলো কবে নাগাদ সরকারের কাছে পাঠানো হবে– এমন প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি পারি প্রস্তাবগুলো পাঠাব। কাল-পরশু তৈরি হয়ে গেলেই পাঠিয়ে দেব।’
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন চূড়ান্ত করার এখতিয়ার আমাদের নেই। আমরা আইনের কিছু সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’
ইসি সচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের আইনে সেভাবে নেই। আমরা মনে করি, সব আইনেই এটা যুক্ত করা উচিত। এই কারণে সব আইনেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আমরা দিয়েছি।
তিনি বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা– এ বিষয়ে কমিশন মনে করে; না, তারা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন। ঋণখেলাপির বিষয়ে দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং অন্যটি জামিনদার। যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা, তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য করার একটি প্রস্তাবে ইসি নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, পাশাপাশি ইউটিলিটি বিলখেলাপি, যেমন– বিদ্যুৎ বিল, ভূমি কর, ওয়াসার বিল– এ ধরনের সেবা প্রদানকারী সংস্থার কোনো বিলখেলাপি থাকলে সেটা ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিলখেলাপি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারও প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন। লাভজনক পদে থেকেও নির্বাচন করা যাবে না।
তিনি জানান, দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানেও এ বিষয়ে একটি সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।




