Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ কার্তিক ১৪২৫, সোমবার ২২ অক্টোবর ২০১৮, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

লাউয়াছড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে খাসিয়াদের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ


২৪ নভেম্বর ২০১৭ শুক্রবার, ০৩:১৪  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


লাউয়াছড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে খাসিয়াদের বর্ষবিদায় ও বর্ষবরণ
ছবি : বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : ব্রিটিশ শাসন আমল থেকে খাসিয়ারা ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ২৩ নভেম্বর খাসি বর্ষবিদায় “খাসি সেঙ কুটস্যাম” উদযাপন করে আসছে। ২৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয় খাসি বর্ষবরণ (স্ন্যাম থাইমি)।

সেই ধারাবাহিকতায় কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া উদ্যানের ভেতরে মাগুরছড়ায় ২০১২ সাল থেকে খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যানদের উদ্যোগে খাসি বর্ষবিদায় অনুষ্ঠান হচ্ছে। এ বছর খাসিয়া হেডম্যানদের সহায়তায় মাগুরছড়া ইয়ূথ ক্লাব চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী প্রথায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৃহস্পতিবার দিনভর আনন্দ উল্লাসে দিবসটি পালন করা হয়।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ফুটবল মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠের এক প্রান্তে বাঁশের খুঁটির উপর প্রাকৃতিক উপায়ে নারিকেল গাছের পাতা সমৃদ্ধ ছাউনিতে আলোচনা সভার মঞ্চ তৈরী করা হয়। মাঠের চারপাশে ঘিরে ৩০টি স্টল নিয়ে বসানো হয়েছে মেলা। বাহারি সাজে সাজানো হয়েছে প্রতিটি স্টল। খাসি সম্প্রদায়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী, খেলনা, খাদ্য সামগ্রী, পোশাক ও মশলার সামগ্রী দিয়ে। বৃহত্তর সিলেট বিভাগের ৭০টি খাসিয়া পুঞ্জি থেকে আগত নারী-পুরষ, শিশু-কিশোররা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে এসে এসব স্টল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাবেচা করছেন।

মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি ইয়ূথ ক্লাবের সভাপতি ফরলী মিয়াঙ-এর সভাপতিত্বে বেলা দুইটায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহমুদুল হক, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি হেডম্যান জিডিশন প্রধান সুছিয়াঙ, লাউযাছড়া খাসিয়া পুঞ্জির হেডম্যান ফিলা পত্মী, বৃহত্তর সিলেট আদিবাসী ফোরামের চেয়ারপার্সন পিডিশন প্রধান সুছিয়াঙ।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল ঐহিত্যবাহী খাসি পোশাক পরে মেয়েদের নাচ-গান, তৈল যুক্ত বাঁশে উঠে উপরে রাখা মুঠোফোন গ্রহন, দুটি পুকুরে বড়শী দিয়ে মাছ শিকার, তীর ধুনক খেলা, গুলতি চালানো, র‌্যাফেল ড্র ও মেলা। প্রতিটি আয়োজনে বিজয়ীদের জন্য ছিল আকর্ষণীয় পুরষ্কার। খাসি সোশাল কাউন্সিলের তথ্য সম্পাদক সাজু মারছিয়াঙ বলেন, এ উৎসবের মাধ্যমে তাদের বিলুপ্ত প্রায় সংস্কৃতি ও খেলাধূলাকে ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। ৭০টি থাসিয়া পুঞ্জির থেকে খাসি নারী পুরুষ, কিশোর- কিশোরীরা এ উৎসবে যোগ দিয়েছেন। আর এখানের সব আয়োজনই প্রাকৃতিক পরিবেশে হচ্ছে। অনুষ্ঠান চলবে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।