Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৯ চৈত্র ১৪২৭, মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

লাউয়াছড়ার প্রধান ফটকেই সেগুন গাছ কাটলো চোরচক্র!


১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সোমবার, ১২:৫৩  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


লাউয়াছড়ার প্রধান ফটকেই সেগুন গাছ কাটলো চোরচক্র!

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের প্রবেশের প্রদান ফটক এলাকায় দিবালোকে চোরদল একটি বৃহদ সেগুন কেটে ফেলে। গাছ পড়ার আওয়াজ শুনে সিপিজি সদস্য, বনকর্মী ও ট্যুরিষ্ট পুলিশ সদস্যদের ধাওয়ায় গাছ কাটার করাতসহ কাটা গাছ ফেলে চোরচক্র পালিয়ে যায়। শনিবার বিকাল ৩টায় এ ঘটনাটি ঘটে।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বনবিট কর্মকর্তা, সিপিজি সদস্য ও ট্যুরিষ্ট গাইড সূত্রে জানা যায়, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল। তাই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রচুর পরিমাণে পর্যটক আসেন লাউয়াছড়া উদ্যানে। লাউযাছড়া উদ্যানের প্রবেশ টিকেট দিয়ে পর্যটকদের ভেতরে প্রবেশের ব্যবস্থায় সবাই ব্যস্ত ছিলেন। এ সুযোগে বিকাল ৩টায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল গাছ কাটার করাত নিয়ে বনে প্রবেশ করে। তারা লাউয়াছড়া উদ্যানের প্রবেশের প্রদান ফটকের প্রায় ৩শ’ গজ পূর্ব থেকে আশি ফুট উচ্চতা ও ৫ ফুট বেড়ের একটি সেগুন গাছ কাটে। কাটা সেগুন গাছটি বিকট আওয়াজে মাটিতে পড়ে।

গাছ পড়ার আওয়াজ শুনে প্রধান ফটকে থাকা কয়েকজন সিপিজি (কমিউনিটি পেট্রোরিং গ্রুপ) সদস্য, ট্যুরিষ্ট গাইড ও বনকর্মী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় সংঘবদ্ধ গাছ চোরচক্র উল্টো ধাওয়া করে। পরে অতিরিক্ত লোকজন নিয়ে বন বিভাগ ধাওয়া করেন। ফলে গাছ কাটার করাত, ব্যবহৃত কাপড়চোপড় ও কাটা গাছ ফেলে গাছচোর চক্র পালিয়ে যায়।

ইকো ট্যুরিষ্ট গাইড শাহীন মিয়া বলেন, একটি শক্তিশালী ও প্রভাবশালী গাছ চোরচক্র ছিল বলে প্রকাশ্য দিবালোকে এত মানুষজনের উপস্থিতি থাকার পরও বড় সেগুন গাছ কেটে ফেলে। প্রথমে কয়েকজন মিলে দৌড়ে ঘটনাস্থলের দিকে গেলে গাছচোর চক্র ধাওয়া করেছিল। পরে সিজিপি সদস্য, ট্যুরিষ্ট গাইড ও বনকর্মী মিলে অতিরিক্ত লোকজন নিয়ে ধাওয়া করলে গাছ চোরচক্র পালিয়ে যায়।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ভাবতে অবাক লাগে যে গাছচোর চক্র প্রকাশ্য দিবালোকে এত সাহসহ করে কিভাবে বড় সেগুন গাছটি কেটে ফেলল। ধাওয়া খেয়ে গাছচোর দল কেটে ফেলা সেগুন গাছ রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে গাছচোরদের ব্যবহৃত করাত ও পরিধেয় কিছু কাপড়-চোপড় জব্দ করা হয়েছে।

বন্যপ্রাণি ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল একাজ করেছে। যাওয়ার সময় তাদের জুতা, জ্যাকেটসহ জিনিসপত্র রেখে গেছে। এগুলো দিয়ে আমরা লোক চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি এবং কমলগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও চলছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।