Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১০ আষাঢ় ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০১৯, ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

যশোর জেলা পরিষদ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি


৩০ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ১১:৪৪  পিএম

যশোর প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


যশোর জেলা পরিষদ ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি

যশোর: ঐতিহ্যের স্মারক যশোর জেলা পরিষদ ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে যশোরের ঐতিহ্য রক্ষা সংগ্রাম কমিটি।

বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় মন্ত্রী রবাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। স্মারকলিপিতে তারা বলেন, গৌরবময় ঐতিহ্যের স্মৃতির স্মারক যশোর জেলা পরিষদ ভবন। যশোরে যে ক’টি পুরনো ভবন ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে তার মধ্যে জেলা পরিষদ ভবন অন্যতম। ১৯১৩ সালে ভবনটি নির্মিত হয়।

কিন্তু জেলা পরিষদ গত ১৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক সভায় ভবনটি ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ভবনটি ভেঙে বহুতল নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে বলে জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে। যশোরের ঐতিহ্য রক্ষা সংগ্রাম কমিটির পক্ষে থেকে এ প্রতিবাদে মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। কমিটির নেতারা অবিলম্বে জেলা পরিষদ ভবন ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান। তারা ভবনটি মূল নকশা অপরিবর্তিত রেখে সংস্কারের দাবি জানান।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ঐতিহ্য রক্ষা কমিটির আহবায়ক রুকুনউদ্দৌলাহ, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক একরাম উদ দ্দৌলা, ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদ, চাঁদের হাটের ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, উদীচীর সাজ্জাদুর রহমান খান, আইইডির বীথিকা সরকার, ডিকেআইবির রফিকুল ইসলাম, আইডিইবির নূরুল ইসলাম, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, জনউদ্যোগের প্রকৌশলী নাজির আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নেতা হারুন অর রশিদ, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার রায়, সচেতন নাগরিক কমিটি যশোরের সভাপতি সুকুমার দাস, জেইউজে সভাপতি সাজেদ রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদক তসলিমুর রহমান, পূজা উদযাপন পরিষদের যোগেশ চন্দ্র দত্ত, আইডিইবির শহিদুল হক বাদল, লাইট হাউজের রফিকুল হক লেনিন, জাতীয় পার্টির মাহবুব আলম বাচ্চু, ওয়ার্কার্স পার্টির জিল্লু রহমান ভিটু, বাসদের হাসিনুর রহমান প্রমুখ। এ আগে গত শনিবার ভবনটি রক্ষায় যশোরের ঐতিহ্য রক্ষা সংগ্রাম কমিটির মানববন্ধন করেন।

উল্লেখযোগ্য আরো দু’টি ভবন হলো জেলা কালেক্টরেটের প্রথম ও দ্বিতীয় ভবন। ভবনটি নির্মিত হয় ১৮০১ সালে। ৮৫ বছর ধরে এখানে চলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ। কাজের পরিধি বাড়ায় স্থান সংকুলান না হওয়ায় দ্বিতীয় ভবনের একতলা স্থাপন করা হয় ১৮৮৫ সালে এবং দোতলা স্থাপন করা হয় ১৯৮২ সালে। প্রথম ভবনটি এখন জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের পরিত্যক্ত ভবন।

অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা হলো যশোর। এই যশোরকে জেলা করা করা হয় ১৭৮১ সালে। আর অবিভক্ত বাংলার সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্টের আওতায় ১৮৮৫ সালে যশোর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকেই ১৮৮৬ সালে যশোর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৫৯ সালে এই পরিবর্তন করে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল করা হয় এবং ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার আইনে করা হয় জেলা পরিষদ। যশোর ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর ১৯১৩ সালে নিজস্ব ভবন স্থাপন করা হয়। ওই বছর ১৩ মার্চ এর উদ্বোধন করেন ডিস্ট্রিক্ট বোডের তৎকালীন চেয়ারম্যান। অবিকৃত অবস্থায় ভবনটি দাঁড়িয়ে আছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।