Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, রবিবার ১৯ মে ২০১৯, ২:৫০ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে কাজে ফিরলো দলই চা বাগানের শ্রমিকরা


১০ মে ২০১৯ শুক্রবার, ১১:৪৪  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


ব্যবস্থাপকের আশ্বাসে কাজে ফিরলো দলই চা বাগানের শ্রমিকরা

মৌলভীবাজার: চা বাগানে টিলার গাছ চুরি, শশ্মান ভূমিতে চারা রোপন, বাগান বাংলোয় কর্মরত নারী শ্রমিকদের হয়রানিসহ কমলগঞ্জের দলই চা বাগান ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত ব্যবস্থাপকের অপসারণের দাবি জানিয়ে চা বাগান শ্রমিকরা দু’দিন ধরে কর্মবিরতি পালনসহ প্রতিবাদ করে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শ্রমিকরা দলই চা বাগান অফিসের সম্মুখে জড়ো হয়ে কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভের মধ্যদিয়ে শুক্রবার ২য় দিনেও এ কর্মসূচি পালিত হয়। তবে দুপুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মধ্যস্থতায় বিষয়টি সমঝোতা হয়।

শ্রমিকদের অভিযোগে জানা যায়, দলই চা বাগানের ৫৮২ জন চা শ্রমিকের কয়েকজন ব্যতিত সবাই প্রতিবাদে যোগ দেন। তবে দু’দিন ধরে কারখানা, অফিস ও আশপাশ স্থানে অবস্থান নিয়ে একযোগে কর্মবিরতি ও প্রতিবাদ করছে। দলই চা বাগানের শ্রমিক তুলশি দাশ, বিশাল পাশী, নারী শ্রমিক আশা বাউরী, কুসুম রিকিয়াসন বলেন, গত প্রায় এক বছর যাবত দলই চা বাগানে প্রধান ব্যবস্থাপক হিসেবে আমিনুল ইসলাম যোগদানের পর থেকে বাগানের নানা প্রজাতির ছায়াদানকারী মূল্যবান গাছ বিক্রি করে চলেছেন। এই গাছগুলো বিক্রি করার ফলে বাগান ধ্বংস হলে আমরা চা শ্রমিকরা কোথায় যাবো। পার্শ্ববর্তী হোসেনাবাদ চা বাগান এলাকার একটি সংঘবদ্ধ গাছ ব্যবসায়ীদের সাথে এই ব্যবস্থাপকের গোপন সম্পর্ক রয়েছে। এর প্রতিবাদে গত জানুয়ারি মাসে একদিন চা শ্রমিক দলই চা বাগানে কর্মবরতি পালন করে। পরে মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় সামাজিক বৈঠক করে বিষয়টি সমাধান করা হয়ে। তখন ব্যবস্থাপক ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গিকারও করেন।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, চা শ্রমিকরা বাগানের বাইরে একটি শশ্মান হিসেবে কিছু ভূমি ব্যবহার করছে যুগ যুগ ধরে। সম্প্রতি বাগান ব্যবস্থাক এ শশ্মান ভূমিতে চায়ের চারা রোপন শুরু করেছেন। তাছাড়া বাংলোয় কর্মরত নারী শ্রমিকদের নানাভাবে হয়রানি করছেন ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম। চা শ্রমিকরা পাহাড় থেকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করলেও সম্প্রতি সেই জ্বালানি কাঠের উৎসস্থলও ব্যবস্থাপক কেটে সাফাই করে নিয়েছেন।

শ্রমিকদের দু’দিনের কর্মসূচীর ফলে ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্থতায় শুক্রবার বেলা ১২টার সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ভবিষ্যতে ধলই চা বাগানের ও সাধারণ চা শ্রমিকদের কল্যাণে শ্রমকিদের সাথে ব্যবস্থাপক সু-সম্পর্ক, চা শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়ন, সাধারণ চা শ্রমিকদের কোনভাবে অপদস্ত না করারও আশ্বাস প্রদান করা হয়। এ পর্যন্ত যা হয়েছে সে জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলই চা বাগান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম, সহকারী ব্যবস্থাপক, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলই ভ্যালির (অঞ্চলের) সহ সভাপতি গায়ত্রী রাজভর, চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, দলই চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গৌরাঙ্গ নায়েক, সম্পাদক সেতু রায়সহ নেতৃবৃন্দরা। বৈঠকে অংশগ্রহনকারী চা শ্রমিক নেতা ও মাসিক চা মজদুর পত্রিকার সম্পাদক সীতারাম বীন বলেন, চা বাগান চালু রাখতে শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মাঝে সু-সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। এরপর দুপুর থেকেই চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার সৃষ্টি হবে না বলে ব্যবস্থাপক আশ্বাস প্রদান করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।