Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৪ চৈত্র ১৪২৬, মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

বইমেলায় কুবির দুই শিক্ষার্থীর অনুবাদ কর্ম


১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ শনিবার, ০৭:৫৪  পিএম

রিদওয়ানুল ইসলাম,কুবি প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


বইমেলায় কুবির দুই শিক্ষার্থীর অনুবাদ কর্ম

লেখালেখির আগ্রহ থেকে প্রথমে ম্যাগাজিন, তারপর বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্মে লেখা। এরপর আরেকটু সাহস করে ২০১৮ সালে একুশে বইমেলায় কবিতা ও গল্প সংকলনে লেখা ছাপানো। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য মীম ও একাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহম্মেদের গল্পটা এ পর্যন্ত এমনিই।

মাত্রই স্নাতকোত্তরের অধ্যায় শেষ করা মীম ও তৃতীয় বর্ষের জুবায়ের আহম্মেদের পরের গল্পটা আরেকটু সাহসের। এবারের চলমান বইমেলায় আসছে তাদের নিজেদের যৌথ ও একক অনুবাদের দুইটি বই।

এই প্রতিবেদককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুজন জানালেন তাদের পথচলার কথা। একসাথে লেখালেখির সুবাদে তাদের ভাবনা ছিলো ভিন্ন কিছু করার। এ ভাবনা থেকে দুজনে মিলে শুরু করেন যৌথ অনুবাদের কাজ।

ঐশ্বর্য মীম বলেন, ‘জুবায়েরের পরামর্শে ২০১৮ সালে আমরা হরর ঘরানার স্টিফেন কিংয়ের ‘ক্যারি’ বইটির অনুবাদ শুরু করি।’

আমাদের অনুবাদের কাজে অল্পবিস্তর অভিজ্ঞতা আর সাহসের জোরে কাজ শুরু করে দেই দুজনে৷ দীর্ঘ এক বছর দুজনে বইটি নিয়ে বিরতি দিয়ে কাজ করতে থাকি। তবে মূল অনুবাদের কাজ করি গত বছরের সেপ্টেম্বরে৷ সে মাসের ১৩ তারিখ থেকে অক্টোবরের ৬ তারিখ পর্যন্ত মাত্র ২৩ দিনে। ঐশ্বর্য মীমের সাথে যোগ করেন জুবায়ের।

কি আছে ক্যারি বইয়ে? এ প্রশ্নের জবাবে মীম জানান, ধর্মান্ধ রালফ ও মার্গারেট দম্পত্তির একমাত্র সন্তান ক্যারি হোয়াইট। জন্মের পরপরই মা মার্গারেট হোয়াইটের চোখে ক্যারি মানেই জলজ্যান্ত শয়তান। নানা ধর্মান্ধতায় তাকে আটকে রাখতে চান তারা। এর ফলে ক্যারির মাঝে জন্ম নেয় অদ্ভুত এক ক্ষমতা টেলিকাইনেসিস। বংশানুক্রমে কেবল নারীদেহে বেড়ে উঠা এই ক্ষমতা ক্যারি ও তার শহরের উপর কি প্রভাব ফেলেছিলো তাই নিয়ে এগিয়ে গেছে বইয়ের গল্প।

যৌথ অনুবাদের পাশাপাশি এই বইমেলাতেই একক অনুবাদে হরর ঘরানার অ্যান্টনি হরউইৎজের একটি বই আসছে জুবায়েরের।

এই বই নিয়ে জুবায়ের জানালেন, রেভেন’ স গেট নামের এই বইটিতে উঠে এসেছে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মানুষের মধ্যে কাজ করা প্রাকৃত ও অপ্রাকৃত শক্তির মধ্যে যে দ্বন্ধ সে কথা।

তবে এখানেই শেষ নয়, আছে আগামী বইমেলায় দুজনের অনুবাদমূলক সিরিজ বই বের করার পরিকল্পনা।

কেমন ছিলো বই নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা?
এ প্রশ্নের উত্তরে দুজনেই জানালেন, কাজ করতে গিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি মুখোমুখি হয়েছেন স্থান সংকটের। একসাথে নিরিবিলিতে বসে কাজ করার জায়গার অভাবে কখনো তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসেছেন ক্যাম্পাসের চায়ের টংয়ে, বসেছেন ভার্সিটির লাইব্রেরিতে, শহীদ মিনার চত্ত্বরে, কখনো বা প্রশাসনিক ভবনে। তবে এ অভাবের মাঝেও বিভাগের শিক্ষক,বন্ধু-বান্ধবদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুলেননি তারা।

তারা দুজনেই বলেন, বিভাগের শিক্ষকরা আমাদের সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন,অনুপ্রাণিত করেছেন। সাথে আমাদের পরিচিতজনরাও।

এমন একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জুবায়ের জানালেন, ‘রাত জেগে কাজ করার ফলে একদিন আমাদের চেয়ারম্যান শামীম স্যারের ক্লাসে আমি ঝিমুচ্ছিলাম। স্যার দেখেছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন, কেন ঝিমুচ্ছি? স্যারকে বলতে পারিনি লজ্জায়। তবে স্যার পরবর্তী সময়ে জানতে পেরে অনেক খুশি হয়েছেন।’

ঐশ্বর্য মীম ও জুবায়ের আহম্মেদের করা যৌথ এবং একক অনুবাদের বই দুইটি প্রকাশ করেছে ভূমি প্রকাশ। পাওয়া যাবে বইমেলার ৭২২ নাম্বার স্টলে।আর বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন সজল চৌধুরী।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।