Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৬ আষাঢ় ১৪২৭, শনিবার ১১ জুলাই ২০২০, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

এনজিও কর্মীদের কিস্তির চাপে দিশেহারা কমলগঞ্জের ঋণ গ্রহীতারা


১০ জুন ২০২০ বুধবার, ০৯:৪৭  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিনিধি

বহুমাত্রিক.কম


এনজিও কর্মীদের কিস্তির চাপে দিশেহারা কমলগঞ্জের ঋণ গ্রহীতারা

করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির জন্য দীর্ঘদিন সরকারি বন্ধ ও স্থানীয়ভাবে লকডাউন থাকায় নিম্ন আয়ের লোকদের আয়রোজগার শূন্যের কৌঠায় নেমে এসেছে। ফলে এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহীতা সদস্যদের অনেকেই অসহায় হয়ে পড়ছেন।

সম্প্রতি সময়ে সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় ও লকডাউন উঠে যাওয়ায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি’র টাকা আদায়ে গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ করছেন এনজিও কর্মীরা। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে এনজিও সংস্থার মাঠকর্মীরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় নিয়ে সদস্যদের চাপ প্রয়োগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২২ মার্চ ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের এক সার্কুলারে বলা হয় আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এনজিও ঋণ শ্রেণিকরণ কার্যকর হবে না, একই সঙ্গে নির্ধারিত সময় শেষে কোন প্রকার জরিমানা ছাড়াই বকেয়া কিস্তি গ্রহণ করা হবে। অস্বচ্ছল ঋণ গ্রহীতাদের কিস্তি আদায় করা যাবে না মর্মে নির্দেশনা জারি করা হয়। তবে ঋণের কিস্তি আদায়ে মাঠকর্মীরা এসব নির্দেশনার কোন তোয়াক্কাই করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কমলগঞ্জ উপজেলার এফআইবিডিবি, ব্র্যাক, গ্রামীণ ব্যাংক, আশা, উদ্দীপন, কারিতাস, বোরো বাংলাদেশ, পাতারকুঁড়ি, আরডিআরএস সহ স্থানীয় কয়েকটি সমবায় সমিতি ও ঋণদাণ প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন কিস্তি আদায়ের জন্য গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসে থাকেন ও চাপ প্রয়োগ করছেন।

বুধবার বুরো বাংলাদেশের মাঠকর্মী শমশেরনগর শিংরাউলী গ্রামে ও গত মঙ্গলবার পৌর এলাকার কুমড়াকাপন গ্রামে কারিতাস ও উদ্দীপনের গ্রুপ ভিত্তিক কেন্দ্র সমুহে কিস্তি নিতে আসেন এনজিওকর্মীরা। এ সময় সদস্যরা বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তের কথা বললে এনজিও কর্মীরা ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা কিস্তি আদায়ের জন্য আসছি। যারা কিস্তি দেয় তাদের কিস্তি নিয়ে যাচ্ছি। কাউকে চাপ দেয়া হচ্ছে না।

এনজিও সমুহ আগামীতে ঋণ দেবে না এই শর্তে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শমশেরনগর ও ভানুগাছের কয়েকজন মহিলা ঋণ গ্রহীতা বলেন, সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় ও লকডাউন উঠে যাওয়ায় এনজিও ও স্থানীয় সমিতির কর্মীরা গ্রাহকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কিস্তি পরিশোধ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। কিস্তি না দিলে নানা কথাবার্তা, ভয়ভীতিও প্রদর্শন করছেন। তারা বলেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে একদিকে কাজ নেই অন্যদিকে এনজিও’র কিস্তি পরিশোধের চাপ নিয়ে অনেকটা কষ্টের মধ্যে দিন পার করছেন।

ভোক্তভোগীরা বলছেন, উন্নয়ন ও মানবিক সেবা এবং কল্যাণের নাম ভাঙ্গিয়ে গড়ে ওঠা এনজিওগুলোর মাঠকর্মীরা নীতি, নৈতিকতা ও বিবেক বিসর্জন দিয়ে কিস্তি আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে এনজিওগুলো বিপদাপন্ন মানুষের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি আদায় করা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মনে করছেন।

অভিযোগ বিষয়ে বুরো বাংলাদেশ শমশেরনগর শাখার ম্যানেজার মো. রুবেল মিয়া কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের মাঠকর্মীরা কাউকে কোন চাপ প্রয়োগ করছেন না। যারা স্বেচ্ছায় কিস্তি দিচ্ছে তাদের কিস্তি নিয়ে আসা হচ্ছে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, আগামী ৩০ জনু পর্যন্ত কোন এনজিও কর্মী কোনো সদস্যের (গ্রাহক) বাড়িতে গিয়ে জোর করে কিস্তি আদায়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে কেউ স্বেচ্ছায় কিস্তি প্রদান করলে তা গ্রহণে কোনো অসুবিধা নেই বলেও তিনি জানান।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।