Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

আগস্ট থেকে সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে রোহিঙ্গারা


২২ জুলাই ২০২১ বৃহস্পতিবার, ১২:১০  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


আগস্ট থেকে সিনোফার্মের টিকা পাচ্ছে রোহিঙ্গারা

দেশে করোনা টিকার চাহিদা ১০ কোটি। যা সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা সরকারের। রয়েছে মিয়ানমার থেকে আশ্রয় নেওয়া সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বাড়তি চাপ। এরপরও টিকা কিছুটা সহজলভ্য হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনায় এবং স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় প্রথমবারে মতো টিকার আওতায় আসছেন রোহিঙ্গারা।

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন  জানান, ৫৫ বছর বয়সীদের নামের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আগামী মাস থেকে সিনোফার্মের টিকা দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে।

নৈসর্গিক ভূ-প্রকৃতির তিন পাবর্ত্য জেলা এবং বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ঘিরে দেশি-বিদেশি পর্যটকের জন্য ঢেলে সাজানো হচ্ছিল বৃহত্তর চট্টগ্রামকে। কিন্তু ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী আমূল পাল্টে দিয়েছে এ অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট।

এর মাঝেই ২০২০ সালে করোনা মহামারির থাবা আরও জটিল করেছে টেকনাফের পরিস্থিতি। উখিয়া বা কুতুপালংয়ের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব। এ ছাড়া নানা প্রয়োজনে স্থানীয় জনগণের চলাচলও এখানে বেশি।

স্থানীয়রা জানান, বিশাল এক জনগোষ্ঠী আমাদের এলাকাতে অবাধে ঘোরাফেরা করছে। তাদের কারণে আমরা আতঙ্কিত। ভ্যাকসিন আমাদের বিশেষ প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের ওপর কেউ নজর দিচ্ছে না তাদের ওপর নজর বেশি।

এদিকে রোহিঙ্গাদের জন্য শুধু টিকা পাঠানোর প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ থেকেছে বিশ্ব সম্প্রদায়। যাদের নিয়ে এত আলোচনা, রাষ্ট্রহীন সেইসব মানুষরা আতঙ্কিত করোনা নিয়ে।

রোহিঙ্গারা জানান, যেহেতু আমরা লাখ লাখ মানুষ একসঙ্গে আছি তাই করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে আছি। ভয়ে ভয়ে দিন যাচ্ছে।

এক রোহিঙ্গা নারী বলেন, আমাদের ঘরে অনেক মানুষ, করোনাভাইরাসের টিকা দিলে ভালো হতো। নতুবা আমরা মরে যাব।

টিকা প্রাপ্তি সহজলভ্য হওয়ায় আগস্ট মাস থেকে রোহিঙ্গাদেরও টিকা কর্মসূচির আওতায় আনছে সরকার। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন সময় সংবাদকে জানান, মানবিক দিক বিবেচনা এবং স্থানীয় জনগণের সুরক্ষায় প্রথমে ৫৫ বা তার বেশি বয়সী রোহিঙ্গাদের চীনের সিনোফার্মের টিকা পাবেন।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের যদি আমরা নিরাপদ করতে না পারি তাহলে স্থানীয় জনগণও নিরাপদ হচ্ছে না। প্রসিডিউরের মধ্যে আছে সামনে মাস থেকে শুরু হয়ে যাবে টিকা দান কর্মসূচি।

রাষ্ট্রহীন এসব মানুষ সুরক্ষায় থাকুক। পাশাপাশি তাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে এই করোনার মতো মহামারিতে স্থানীয়রা যে ধরনের মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন তার দিকেও নজর দিক বিশ্ব সম্প্রদায়। টিকা সহজলভ্য হোক বিশ্বের প্রতিটি মানুষের জন্য।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।