Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
১০ বৈশাখ ১৪২৫, সোমবার ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ১:২৫ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে চা শ্রমিকরা


২৬ এপ্রিল ২০১৬ মঙ্গলবার, ১১:৩৯  পিএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে চা শ্রমিকরা
ছবি-বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজার : চা বাগানে কর্মরত শ্রমিক পরিবার সমুহের অধিকাংশই নিন্মমানের খাবার গ্রহণ করছেন। এসব খাবার খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন চা শ্রমিকরা। স্বল্প মজুরিতে আট দশ জনের পরিবার চালাতে নিন্মমানের আটা, চাল খেয়ে কোনমতে দিন পার করছেন তারা । ফলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়সহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন চা শ্রমিকরা।

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারে ৯২টি চা বাগানের ব্যক্তি মালিকানাধীন দু’একটি চা বাগান ব্যতিত ডানকান ব্রাদার্স, ন্যাশনাল টি কোম্পানী (এনটিসি), বাংলাদেশ চা বোর্ড, এমআর খান সহ বিভিন্ন চা বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য রেশনিং হিসাবে নিন্মমানের আটা, চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়।

মৌলভীবাজার জেলার প্রায় তিন লাখ চা শ্রমিক রয়েছেন। নিয়মিত রয়েছেন প্রায় ২ লাখ চা শ্রমিক। প্রতিটি শ্রমিক পরিবারে রয়েছেন ৫ থেকে ৭ জন সদস্য। একজনের আয় দিয়েই চালাতে হয় পুরো পরিবার। দৈনিক ৮৫ টাকা মজুরি পেয়ে চা শ্রমিকদের ঠিকমতো তিন বেলা খাবার যোগানো সম্ভব হয় না বলে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন। ফলে স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে শ্রমিকরা ভগ্নস্বাস্থ্য ও দুর্বল। চেহারাও ফ্যাকাশে।

সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই শ্রমিকরা সেকশন ও টিলায় দাঁড়িয়ে কাজ করেন। সকালে নিন্মমানের আটা দিয়ে তৈরি রুটি ও লাল চা, দুপুরে চায়ের কচি পাতা, আলু ও মরিচ গুড়া করে ভর্তার সাথে সকালে ঘর থেকে নিয়ে আসা রুটি এবং রাতে ভাতের সাথে সবজি কিংবা মরিচ-লবন দিয়েই অধিকাংশ সময়ে খাবার চলে। মাছ, মাংস তাদের ভাগ্যে খুবই কম জুটে না বললেই চলে। শ্রমিকরা নিন্মমানের চাল-আটা নিয়ে অনেক বার আন্দোলন সংগ্রাম করেছে। কিন্তু বাগান কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কোন কর্ণপাত করছেন না।

ডানকান ব্রাদার্স শমশেরনগর চা বাগানের নারী শ্রমিক লাখপতিয়া রবিদাস, লাছিয়া রবিদাস ও লক্ষ্মী রবিদাস বলেন, ‘আমাদের খাবার কি সবাই খাইতে পারবো? কি করমু, লাল রুটি দিয়ে ভর্তা কইরা কোনো রকম পেট ভরাই। পেট ব্যাথা, ডায়রিয়া লাইগ্যাই থাহেয়। এরপরও এগোলানই খাইতে অয়।’

Tea_workerচা শ্রমিক নেতা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সিতারাম বীন, আসলে চা শ্রমিকরা যে কতো নিন্মমানের খাবার খায় তা সরাসরি না দেখলে কেউ বুঝবে না। এজন্য রোগ-বালাই লেগেই আছে। চা শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে খাবারের মান উন্নত করতে হবে। না হলে চা শিল্পের সার্বিক উন্নতি সাধিত হবে না।

শমশেরনগর চা শিল্প শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রের প্রাক্তন চিকিৎসক সুকুমার সিংহ বলেন, চা শ্রমিকরা দুপুরে খালি পেটে ভর্তা দিয়ে যে খাবার খান তা পুরোপুরি মানসম্মত নয়। ভর্তার জন্য শ্রমিকদের কেউ কেউ বাজারের খোলা চানাচুর মিশিয়ে মরিচ গুড়া, চায়ের কঁচি পাতা ও আলু পুড়িয়ে ভর্তা তৈরি করে রুটির সাথে খান। এসব খাবারে প্রোটিন না থাকায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে না। চা বাগানে শ্রমিকদের কাজের জন্য এনার্জি প্রয়োজন। এজন্য প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার বেশী প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ

Hairtrade