Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৪, সোমবার ২০ নভেম্বর ২০১৭, ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

কুষ্ঠ ও যক্ষ্মার মারাত্মক ঝুঁকিতে চা শ্রমিকরা


০৭ আগস্ট ২০১৭ সোমবার, ০২:৪৩  এএম

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, কমলগঞ্জ ঘুরে এসে

বহুমাত্রিক.কম


কুষ্ঠ ও যক্ষ্মার মারাত্মক ঝুঁকিতে চা শ্রমিকরা

মৌলভীবাজার : যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে চা শিল্প শ্রমিকরা। চিকিৎসক ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীরা জানাচ্ছেন, ঘনবসতি ও নোংরা পরিবেশ বসবাস, পুষ্টিহীনতা এবং অসচেতনতার কারণে তুলনামূলক অধিক পরিমাণে যক্ষ্মা, কুষ্ঠসহ নানাবিধ রোগে অধিক পরিমাণে আক্রান্ত হচ্ছে তারা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চা বাগানে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অনেকে অসচেতন যারা উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। চা বাগানের নির্দিষ্ট গন্ডির ভেতর থেকে এখনও অনেকেই বাইরে বের হতে পারছে না। ঘনবসতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বসবাস, মাদকাসক্ত, পরিমিত খাবারের সমস্যা, কোন কোন ক্ষেত্রে গবাধি পশুর সাথে একই ঘরে বসবাস সবমিলিয়ে বস্তির তুলনায় চা শিল্পে কর্মরত নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের মধ্যে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের প্রবণতা অনেক বেশি। তবে বস্তি এলাকায় এসব কিছু রোগী পাওয়া গেলেও চা বাগান এলাকায় ঘনবসতি ও স্যাৎ সেতে ঘরে বসবাস করার জন্য যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের সংক্রামক বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

হিড বাংলাদেশ কমলগঞ্জের কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জানায়, সিলেট বিভাগের চা বাগান ও বস্তি এলাকায় ২০১৬ সনে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত নতুন ৩০৫ জন, চিকিৎসাধীন ৩৭০ জন রোগীর মধ্যে সুস্থ হয় ১০৯ জন। ২০১৭ সনের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দুই ধাপে কুষ্ঠ জরিপে ২৫০ জন রোগীর মধ্যে সাধারণ রোগী ৫১ জন, মারাত্মক ধরণের ১৯৯ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১২৫, মহিলা ১১৩ ও শিশু ১২ জন রয়েছে।

চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ (সিটিবি) প্রজেক্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের যে ২২টি দেশের মধ্যে যক্ষ্মা রোগীর সংখ্যা সর্বাধিক তার মধ্যে বাংলাদেশ ৬ষ্ঠ। প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩ লাখ ২১ হাজার মানুষ যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে প্রায় ৬৪ হাজার মানুষ মৃত্যু বরন করেন। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচীর মতে সারাদেশে প্রতি লাখে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ২২৫ জন রোগী পাওয়া গেলেও শুধুমাত্র সিলেটে এই হার তিনশ’ও এর বেশি।

চ্যালেঞ্জ টিবি বাংলাদেশ (সিটিবি) প্রজেক্টের মৌলভীবাজার জেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (ডিপিও) তাপস বাড়ৈ জানান, এপ্রিল, মে ও জুন এই তিন মাসে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের ১৬টি উপজেলায় ৫৯৪ জন যক্ষ্মা রোগী পাওয়া যায়। এই সময়ে ৪১টি চা বাগান, ৭টি পুঞ্জি এবং ১৩টি রাবার বাগানের ৩৫ হাজার ১৩৭টি পরিবারের ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৩ জন রোগী চ্যালেঞ্জ টিবি কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকার পেয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার যক্ষ্মা রোগ নির্ণয় ও কার্যক্রমে কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে চা বাগানের কম্পাউন্ডার, ড্রেসার, মা, ম্যানেজমেন্ট, গ্রাম্য চিকিৎসকদের নিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

কুষ্ঠ প্রতিরোধে কর্মরত এনজিও সংস্থা হীড বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মাইকোব্যাক্টেরিয়াম লেপ্রি (Mycobacterium leprae) নামক দীর্ঘমেয়াদী জীবানুর মাধ্যমে কুষ্ঠ রোগ হয়। কুষ্ঠ রোগের জীবানু অত্যন্ত ধীরগতিতে বংশ বিস্তার করে। একটি কুষ্ঠ জীবানু থেকে দু’টি কুষ্ঠ জীবানূতে পরিণত হতে সাধারণত: ১২ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় ‘এমডিটি’ (গউঞ) ‘মাল্টি-ড্রাগ থেরাপি’ পদ্ধতিতে ওষুধের সমম্বয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসার সুবিধার্থে কুষ্ঠ রোগীকে পসি-ব্যাসিলারি (পিবি) আক্রান্ত রোগীকে ৬ মাস এবং মাল্টি-ব্যাসিলারি (এমবি) মারাত্মক ধরণের রোগীকে ১২ মাস চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ করা হয়। হীড বাংলাদেশের অপারেশন ডিরেক্টর পিটার অমিত হালদার বলেন, চা শ্রমিকদের জীবনযাত্রার জন্য যক্ষ্মা, কুষ্ঠ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সারাদেশের মধ্যে সিলেট বিভাগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশী।

কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত চা শ্রমিক কুশ রিকিয়াশন 

শমশেরনগর চা বাগানের ইউপি সদস্য সীতারাম বীন বলেন, চা বাগানে মদের পাট্রায় গিয়ে মদ পান, স্থান সংকুলানের অভাবে গাদাগাদি আর নোংরা পরিবেশ বসবাস ও সচেতনার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ফলে এসব রোগে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে চা শ্রমিকরা। কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইয়াহিয়া এবং কমলগঞ্জে হিড বাংলাদেশের যক্ষ্মা, কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের কুষ্ঠ প্রকল্প ইনচার্জ পরেশ চন্দ্র দেবনাথ ইত্তেফাককে বলেন, বাড়ি ঘরের অবস্থা ও অসচেতনতা, স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের অভাব, নোংরা পরিবেশ ও কলোনী সমূহে ঘনবসতি বেশী থাকায় চা বাগানগুলোতে যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ রোগের প্রাদুর্ভাব তোলনামূলক বেশী। তারা আরও বলেন, চা বাগানের নির্দিষ্ট একটি গন্ডি ও প্রশাসনের বাইরে গিয়ে শ্রমিকরা চিকিৎসা সুবিধা নিতে গড়িমসি করছে। ফলে চা শ্রমিকদের মধ্যে রোগব্যাধী অধিকতর বেশী।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকতা ডা. মো: ইয়াহিয়া বলেন, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল থাকায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চা বাগান সমুহে এসব রোগ সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে এবং সরকারি হাসপাতালে এসে রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করছে বলে তিনি দাবি করেন।

চা বাগানসহ স্থানীয় চিকিৎসক ও সচেতন মহলের মতে অবহেলিত চা শ্রমিকদের এসব রোগব্যাধী নিয়ন্ত্রণে শুধু এনজিও’ দিয়েই সম্ভব নয়। সরকারী উদ্যোগেও দেশের নাগরিক হিসাবে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যগত সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত এবং শিক্ষা ধীক্ষায় সচেতন হয়ে উঠলে রোগব্যাধী থেকে আরও মুক্ত হওয়া সম্ভব।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বেঁচে থাকার গল্প -এর সর্বশেষ

Hairtrade