Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩ আশ্বিন ১৪২৫, বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

এই ভাষায় কথা বলেন মাত্র চারজন


২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বুধবার, ০৫:৪৫  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


এই ভাষায় কথা বলেন মাত্র চারজন

ঢাকা : বাংলা ভাষাকে বাঁচাতে ৬৬ বছর আগে প্রাণ দিয়েছিলো বাঙালি। সেই ত্যাগের কথা মনে রেখে একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

জাতিসংঘের হিসাবে বিশ্বে এখন আছে ৬ হাজার ভাষা। কিন্তু প্রতি ১৪ দিনে হারিয়ে যাচ্ছে এদের মধ্যে একটি করে ভাষা।

এরকমই একটি ভাষা হলো এনজেরেপ। একসময় আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে প্রচলিত ছিলো এই ভাষা। কিন্তু একে একে বিলুপ্ত হতে হতে এখন এই ভাষায় কথা বলার মানুষ টিকে আছে মোটে চার জন।

নাইজেরিয়ার সেই চারজনের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়স যার, তিনিই এবছর পালন করবেন নিজের ষাটতম জন্মদিন। তাই এই চারজনের পরই যে মৃত্যুবরণ হবে প্রাচীন এই ভাষাটির, সে কথা বলাই বাহুল্য।

এনজেরেপ-এর মতোই আরেকটি ভাষা পাকান্তি। অস্ট্রেলিয়ার ডার্লিং নদীর আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত একসময়ের এই ভাষা এখন বুলি মোটে ২২ জনের। অস্ট্রেলিয়ার সরকার অবশ্য সচেষ্ট ভাষাটিকে ফের বাঁচিয়ে তুলতে। কিছু কিছু স্কুলে তাই ফের শুরু হয়েছে পাকান্তি শেখানোর পালা।

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া অঞ্চলে একসময় গির্জার পাদ্রীরাও কথা বলতেন লিকি ভাষায়। কিন্তু এখন সেখানে ৫-১১ জন খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা লিকি ভাষার কিছু শব্দ জানেন। তবে ভাষাটিকে জাগিয়ে তোলার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না থাকায় শিগগিরই বিলুপ্তি ঘটবে লিকি’র- এমনটাই মনে করেন ভাষাবিদেরা।

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে প্রচলিত নাবাহো ভাষার জ্ঞাতি ভাষা হলো সার্সি। কানাডার সু তিনা নামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা এখনও ব্যাবহার করেন এই ভাষা। কিন্তু এই গোষ্ঠীরই বর্তমানে জীবিত আছেন মোটে ৫০ জন। আর ভাষাটির লিখিত কোনো লিপি না থাকায় পরবর্তী প্রজন্মকেও এই ভাষা শেখানোটা হয়ে পড়ছে দুষ্কর। এ ভাষাও তাই কতদিন জীবিত থাকবে- তা নিয়ে শঙ্কিত খোদ সু তিনা গোষ্ঠীই।

ব্রাজিলের হাপুরা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে কাওয়িশানা ভাষাটি একসময় ছিলো বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু পর্তুগীজের প্রকোপে ভাষাটি এখন মৃতপ্রায়। খুঁজে পেতে ২০০ মানুষ পাওয়া যাবে যারা এই ভাষাটি কিছুটা জানেন, ব্রাজিলের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় যা একেবারেই নগণ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের কলরাডো নদীর তীরে চেমেহুয়েভি ভাষায় কথা বলতে পারেন- এমন লোকের সংখ্যা এখন হাতে গোনা। ভাষাবিদ মার্গারেট এল প্রেস চেষ্টা করে যাচ্ছেন কোনোভাবে যাতে অন্ততঃ এটির লিপি সংরক্ষণের। তবে সেটিও দারুণ দুষ্প্রাপ্য বলে সাত বছরের চেষ্টাতেও এখনও পুরোপুরি সফল হননি তিনি।

বাঙালির ভাষার অধিকার আদায়ের দিন একুশে ফেব্রুয়ারিকে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ফলে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগের দিনটি এখন এখন বিশ্বের সব ভাষাভাষীর অধিকার রক্ষার দিন। তবে বিশ্বজুড়ে মরতে বসা এই পাঁচ ভাষার জীবনদানে কেউ এগিয়ে আসবে কি? সেটাই এখন দেখার বিষয়।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।