Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ৫ ১৪৩৩, মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬

সিকিমে টানেলে ভূমিধসের পর গ্যাস লিক, নিহত ৮, আটকে আছেন অনেকে

বহুমাত্রিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ২১ জুলাই ২০২৬

প্রিন্ট:

সিকিমে টানেলে ভূমিধসের পর গ্যাস লিক, নিহত ৮, আটকে আছেন অনেকে

ছবি: সংগৃহীত

সিকিমে একটি টানেল নির্মাণস্থলে ভূমিধস হয়েছে। এর পরপরই গ্যাস লিক হয়। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১২ জনকে। তবে ১৮ জন শ্রমিক টানেলের ভিতরে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের পরিণতি কি হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না। তাদেরকে উদ্ধারে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) অভিযান চালাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। সোমবার বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে দক্ষিণ সিকিমের সামারদুং টানেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সেখানে তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি অংশ নির্মাণ করছে প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং।

মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে টানেলের ভেতরে ঠিক কতজন আটকে আছেন, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, টানেলের ভেতরে ভূমিধসের কারণে চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েন। পরে সেখানে মিথেন গ্যাস লিকের সন্দেহ দেখা দেয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিষাক্ত পরিবেশের কারণে উদ্ধারকারীরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছেন না। এনডিআরএফের পাশাপাশি স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এসডিআরএফ), সিকিম পুলিশ এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন করতে ওই এলাকায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। নামচি জেলা প্রশাসক অনুপা তামলিং জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শিলিগুড়ি ও পাকইয়ং থেকে উদ্ধারকারী দল এবং এসডিআরএফকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল ৩টা ৯ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই দু’বার টানেলে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভেতরের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে তাদের ফিরে আসতে হয়। তামলিং জানান, প্রথম এনডিআরএফ দল টানেলে প্রবেশ করে প্রাথমিক উদ্ধারচেষ্টায় থাকা ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের নিরাপদে বের করে আনে।

পরে দ্বিতীয় একটি এনডিআরএফ দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টানেলের ভেতরে মিথেন গ্যাসের মাত্রা এতটাই বেশি যে, যেখানে শ্রমিকরা আটকে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে উদ্ধারকারীরা পৌঁছাতে পারেননি। ভূমিধসের সুনির্দিষ্ট কারণও জানা যায়নি। তামলিং বলেন, এ মুহূর্তে আমরা বুঝতে পারছি না কেন ভূমিধস হয়েছে। যেসব শ্রমিক বেরিয়ে আসতে পেরেছেন, তারা জানিয়েছেন টানেলের ভেতরে বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শুনেই তারা দ্রুত বাইরে ছুটে আসেন। তবে কয়েকজন শ্রমিক ভেতরে আটকে আছেন। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আটকে থাকা মানুষের সংখ্যা চূড়ান্ত নয় এবং তা পরিবর্তিত হতে পারে। জেলা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো টানেলের ভেতরে আটকে থাকা সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা।


এদিকে সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানের শুরুতে টানেলে প্রবেশ করা কয়েকজন উদ্ধারকর্মী মিথেন গ্যাসের সংস্পর্শে এসে মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন। পরে তাদের নিরাপদে বের করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Walton
Walton