Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১০ আশ্বিন ১৪২৭, শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

শ্রীপুরে কথাসাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীনকে স্মরণ


২৫ আগস্ট ২০২০ মঙ্গলবার, ১২:১৫  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


শ্রীপুরে কথাসাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীনকে স্মরণ

গাজীপুর: বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক-সম্পাদক ও অনুবাদক আবু জাফর শামসুদ্দীনকে স্মরণ করলো গাজীপুরের শ্রীপুরের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা। ঐতিহাসিক ভাওয়ালের এই কীর্তিমান পুরুষের ৩২তম প্রয়াণ দিবসে এই স্মরণ আলোচনার আয়োজন করে শিল্প-সাহিত্যের পত্রিকা `মোহনা` ও শ্রীপুর সাহিত্য পরিষদ।

সোমবার এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি ও গীতিকার রানা মাসুদ। মিশকাত রাসেলের সঞ্চালনায় কথাসাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীনের ওপর তথ্যবহুল আলোচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা কলেজের সহকারী অধ্যাপক কামরুজ্জামান জামান, আয়েশা আকতার দীপা, মোবারক হোসেন, মহসিন আহমেদ, সাঈদ চৌধুরী ও ইসরাফিল হোসেন।

আলোচনার পর আবুজাফর শামসুদ্দীনের প্রতিকৃতি অঙ্কনের জন্য রহমান তাবাসসুম প্রাপ্তিকে মোহনা`র পক্ষ থেকে দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- রাশিদুল ইসলাম, আজাহারুল ইসলাম, অপরাজিতা সাংমা অর্চি, রশ্নি সাংমা, আফ্রিদা কণা, প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান নাঈম, রুবেল মাহমুদ, এস. এম. ইউনুছ, মো. নাজমুল কবির, হুমায়ুন আবিদ, মো. রুহুল আমীন রুমী, মো. শরিফুল ইসলাম, রাকীব উদ্দিন, লেবিসন স্কু, সার্জিল হোসেন শান্ত, রূপা ইসলাম, বেলায়েত হোসেন।

অনুষ্ঠানে গাজীপুরের আরেক বীর সন্তান অখণ্ড ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্রসেনানী বিপ্লবী ভবানী ভট্টাচার্যের মৃত্যুবার্ষিকী (২৩ আগস্ট) উপলক্ষ্যে তাঁর অম্লান স্মৃতির শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়।

আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পর্কে

ব্রিটিশ শাসিত অখণ্ড ভারতের ভাওয়াল পরগণার কালিগঞ্জের দক্ষিণবাগ গ্রামে ১৯১১ সালের ১২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন আবু জাফর শামসুদ্দীন। বহুমূখি প্রতিভাধর শামসুদ্দীন কর্মজীবন শুরু করেন দৈনিক সুলতানের সহ-সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি দৈনিক আজাদ, সাপ্তাহিক ইত্তেফাক, দৈনিক পূর্বদেশ, দৈনিক সংবাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। অল্পদর্শী ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ নামে সংবাদে তাঁর কলাম সমকালীন সমাজ-রাজনীতির দৃশ্যপটকে সুনিপুণভাবে তুলে ধরে নির্মোহভাবে।

বাংলা কথাসাহিত্যে তাঁর প্রতিভার উজ্জ্বল উপস্থিতি আজও তাকে কালজয়ী করে রেখেছে।
তাঁর উপন্যাস: পরিত্যক্ত স্বামী (১৯৪৭), মুক্তি (১৯৪৮), ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান (১৯৬৩), পদ্মা মেঘনা যমুনা (১৯৭৪), সংকর সংকীর্তন (১৯৮০), প্রপঞ্চ (১৯৮০) ও   দেয়াল (১৯৮৫); গল্প গ্রন্থ: জীবন (১৯৪৮), শেষ রাত্রির তারা(১৯৬৬), রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা(১৯৭৮), ল্যাংড়ী(১৯৮৪), নির্বাচিত গল্প(১৯৮৮) বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য সম্পদ। তাঁর প্রবন্ধ গ্রন্থ: চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য, সোচ্চার উচ্চারণ, সমাজ
সংস্কৃতি ও ইতিহাস, মধ্যপ্রাচ্য, ইসলাম ও সমকালীন রাজনীতি, লোকায়ত সমাজ ও বাঙালি সংস্কৃতি, বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা।

সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আবু জাফর শামসুদ্দীন বহু পুরস্কার পেয়েছেন। তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৮) ও সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য একুশে পদক (১৯৮৩) পান। এছাড়া সমকাল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৭৯), শহীদ নূতনচন্দ্র সিংহ স্মৃতিপদক (১৯৮৬), মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৬) ও ফিলিপস পুরস্কার (১৯৮৮) (মরণোত্তর) লাভ করেন তিনি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।