Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, রবিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

রোহিঙ্গা সমস্যা বাড়ছেই


২৭ জুন ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৯:৪৩  পিএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


রোহিঙ্গা সমস্যা বাড়ছেই

ঢাকা : শরণার্থী শুধু বাংলাদেশেই নয় সারাবিবিশ্বের জন্য একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনতর আলোচনা এবং সমস্যাবলীই উঠে এসেছে গত ২০ জুন ২০১৯ তারিখে এবারের বিশ্বে শরণার্থী দিবস পালন উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে।

বিশ্বে শরণার্থী এবং তাদের দ্বারা গঠিত সমস্যা এত বেশি যার কারণে এদের নিয়ে বিশ্বে  একটি দিবস পালিত হয়ে আসছে প্রতিবছরের ২০ জুন তারিখে। ২০০০ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০০১ সাল থেকেই এ দিনটিতে সারাবিশে^ আন্তর্জাতিকভাবে পালন করে আসছে।

বাংলাদেশের জন্য এ দিবসটি পালনের অন্যতম একটি গুরুত্ব বহন করে। কারণ আমরা জানি ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে প্রায় এককোটি মানুষ পাশ^বর্তী ভারতে শরাণার্থী হতে হয়েছিল। সেসময় তার স্থায়িত্ব ছিল মাত্র সর্বসাকুল্যে নয়মাস।

কিন্তু তখনকার প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নরকম। অথচ আমরা দেখতে পেলাম ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে প্রায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে আসে বাংলাদেশে। এটি বাংলাদেশের জন্য বিগত প্রায় তিন দশকের সমস্যা। বিগত তিনদশকে পাশ^বর্তী মিয়ানমার থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়ে আরো প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে শরণার্থী হয়েছিল। অর্থাৎ পূর্বাপর মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় বারো লক্ষাধিক। সংখ্যাটি এখানেই দাঁড়িয়ে আছে এমন নয়, তা দিনে দিনে বিভিন্নভাবে বেড়েই চলেছে।

আগেই যা বলছিলাম। সারাবিশে^ই শরণার্থী এখন একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে এ সমস্যা কোন উন্নত দেশকে বহন করতে হয় না। করতে হয় অনুন্নত, উন্নয়নশীল এবং আমাদের মতো দেশকে। অথচ এগুলো সৃষ্টি করছে কিন্তু উন্নত দেশগুলো। যুদ্ধ, নিপীড়ন এবং সংঘাতের কারণেই সৃষ্টি হয় এমন শরণার্থী। শরণার্থী হওয়ার মূল কারণ হলো বাড়িঘর ছাড়া অর্থাৎ বাস্তুচ্যুত হওয়া। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যমতে, গতবছর পৃথিবীতে বাস্তুচ্যুত হওয়া মানুষের সংখ্যা সাত কোটি ছড়িয়ে গেছে। প্রায় সত্তর বছরের মধ্যে এ সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে ভাবতে অবাক লাগে যে এসব শরণার্থীর মধ্যে অর্ধেকই নাকি শিশু। আর নারীর সংখ্যাও নেহায়েৎ কম নয়।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ইউএনএইচসিআর জেনেভায় ‘গ্লোবাল ট্রেড’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। শরণার্থী বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- নতুন করে যুদ্ধ আর সংঘাত বাড়ছে যা পূর্বের সমস্যা সমাধান না করেই নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়ে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা সাত কোটি আশি লাখে পৌঁছেছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ বেশি। আতঙ্কের বিষয় হলো প্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার লোক শরণার্থীর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আরো একটি সমস্যার বিষয় হলো যে হাওে শরণার্থী বাড়ছে তা আর আশানুরূপভাবে কমছে না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী শরণার্থীদের তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলে যুদ্ধ, সংঘাত বা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষকে বোঝানো হয়েছে। ২০১৮ সালে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৫৯ লাখ। দ্বিতীয় দলে আছে আশ্রয় প্রার্থীরা। যারা নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে নানাদেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। তাদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। তৃতীয় দলে আছেন সেইসব গৃহহীন মানুষ যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ নিজ দেশের ভেতরেই আশ্রয় নিয়ে আছেন। বিশ^জুড়ে এ সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি যেখানে প্রায় চার কোটি ১৩ লাখ শরণার্থী রয়েছে এ ভাগে।

বিশ্ব জুড়ে এসব শরণাথীর দুই-তৃতীয়াংশই সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া থেকে এসেছেন। তারমধ্যে সিরিয়ার সংখ্যাই বেশি। তাছাড়াও বিশ্বে অন্যান্য যেসব দেশে শরণার্থী সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে তার মধ্যে- ভেনিজুয়েলা, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইয়েমেন এবং সাব-সাহারান কয়েকটি আফ্রিকান দেশ।

এখানে বাংলাদেশের বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্যমাত্রার। কারণ এখানকার রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তো সমস্যা সৃষ্টি করছেই, তারা বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে দেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কাজে লিপ্ত রয়েছে।

এ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া, মেরিন ড্রাইভ এলাকাসহ আশে পাশের এলাকাগুলোতে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে চলেছে। তারা জড়িত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়, জড়িত হচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে, কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের লাঠিয়াল হিসেবে, সরকার বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত করছে সুবিধাবাদীরা, এমনকি জঙ্গি কার্যক্রমের মতো সংবেদনশীল দেশ ও সমাজ বিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে যাওয়ার খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। তাছাড়া তাদের সংখ্যা অতিদ্রুত বাড়ছে, কারণ জানা গেছে তারা নাকি জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে অনিহা দেখাচ্ছেন। যার কারণে বিগত একবছরে প্রায় ৩৫ হাজার নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান প্রতিবেদন থেকে প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিষয় সম্পর্কে সরকার এবং পররাষ্ট্র ময়ন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে বলে খবর প্রকাশ পাচ্ছে। কাজেই এসব বিষয়ে নজর রেখেই সামনের দিনগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেণকগণ।

লেখক: রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়

email: [email protected]

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।