Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৮ আশ্বিন ১৪২৮, বৃহস্পতিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

বিশ্বে একতরফাবাদের দিন শেষ: জয়শঙ্কর


০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ মঙ্গলবার, ০৩:৩৮  পিএম

ইন্ডিয়া নিউজ নেটওয়ার্ক


বিশ্বে একতরফাবাদের দিন শেষ: জয়শঙ্কর

গোটা বিশ্বে একতরফাবাদের দিন শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। একই সঙ্গে যেকোনো দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কও সর্বোচ্চ চূড়া স্পর্শ করতে পারেনা, এরও কিছু সীমা-পরিসীমা রয়েছে বলে অভিমত দেন তিনি। পাশাপাশি করোনা মহামারীর জটিল সময়ে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাও আর আগের মতো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেই মনে করেন অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক। গত ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১, সোমবার, অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত জে. জি. ক্রফোর্ড ওরেশন ২০২১ – অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, “গত দু দশকে পৃথিবী কোয়ান্টাম পরিবর্তনের পাশাপাশি নানাবিধ জৈব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এর মাঝেই আন্তর্জাতিক আঙ্গিনায় বহুপক্ষীয় সংস্থা সমূহের সংস্কারের যে দাবি আমরা তুলেছিলাম, তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় ব্যবহারিক ভাবে এবং অবিলম্বে আমরা যে সমাধান খুঁজতে বাধ্য হই, সেটিই আজকের কোয়াড।”

কোয়াড গঠনের পরিক্রমায় আরও কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয়ের অবতারণা করেন তিনি। এক্ষেত্রে মন্ত্রী বলেন, “ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, আফগানিস্তানে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রভাব, করোনা মহামারীর বৃহত্তর পরিণতি সহ আরও নানান ইস্যু যা বিভিন্ন বিন্দুকে একত্রিত করে, সবকিছুর সমন্বয়ে আমরা একত্রিত হয়েছি। ভবিষ্যতের জন্য আমরা একটি টেকসই রূপরেখা খুঁজে বের করতে চাই। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি চাই।”

কোয়াডভূক্ত দেশ গুলোর প্রত্যেকেই গণতান্ত্রিক রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বহুত্ববাদী সমাজে বিশ্বাস করে বলে এদিন জোরের সঙ্গে বলেন জয়শঙ্কর। তাই সবগুলো প্ল্যাটফর্ম একত্রিত হয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থার তৈরী করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

কোয়াড ভূক্ত দেশ গুলো নিজেদের মধ্যে প্রায়ই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিভিন্ন সম্মেলনের আয়োজন করে বলেও জানান তিনি। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা করেন তাঁরা। সম্প্রতি এসব আলোচনায় ২+২ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও, নিয়মিত আয়োজিত বিভিন্ন সশস্ত্র মহড়ার বিষয়েও অবগত করেন তিনি।

গত দু বছর ধরে এই জোটটি কীভাবে আর্ত মানবতার কল্যাণে ভূমিকা রাখছে, সাইবার নিরাপত্তা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করছে, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে, সে বিষয়ে অনুষ্ঠানটিতে সবাইকে সম্যক ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেন জয়শঙ্কর।

এসময় ভারত-চীন সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। এ বিষয়ে বলতে গিয়ে প্রাক্তন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কর্তৃক ১৯৮৮ সালে চীন ভ্রমণ এবং বেইজিং-নয়াদিল্লী সম্পর্ক স্বাভাবিক করণের প্রচেষ্টার বিষয়টিও অবতারণা করেন তিনি। প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারত সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে বলেও জানান তিনি। 

যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই চীন কর্তৃক সীমান্তে সেনা সমাবেশের বিষয়ে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “আমরা কখনোই সীমান্তে সঙ্ঘর্ষের পক্ষপাতী ছিলাম না। আমাদের পক্ষে কোনো উস্কানীও দেয়া হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও চীনের অহেতুক সামরিক উস্কানী গ্রহণযোগ্য নয়।” 

আলোচনার এক পর্যায়ে সাম্প্রতিক গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের বিষয়েও আলোচনা করেন তিনি। সর্বোপরি দেশটির সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।