Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩১ বৈশাখ ১৪২৮, শুক্রবার ১৪ মে ২০২১, ২:১৪ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

বঙ্গবন্ধুর কৃষি দর্শন এখনও পথ দেখায়: ড. শামসুল আলম


০৮ মার্চ ২০২১ সোমবার, ০৭:৪৯  পিএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


বঙ্গবন্ধুর কৃষি দর্শন এখনও পথ দেখায়: ড. শামসুল আলম

সরকার গৃহীত দীর্ঘমেয়দী পরিকল্পনাসমূহ বাস্তবায়নে তিনটি বিষয়ের অপরিহার্যতার কথা তুলে ধরলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম।

তিনি বলেন-গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি এবং উচ্চ মানসম্মত শিক্ষা ছাড়া এগিয়ে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাসমূহ বাস্তব রূপদানে এবং টেকসই করতে এই তিনটি বিষয়ে আমাদের সাফল্য অর্জন করতেই হবে।    

গত রোববার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির আয়োজনে ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষ্যে এক ভার্চুয়াল সেমিনারে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ড. আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কৃষি দর্শন এবং একুশ শতকে বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার মাঝে এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। সমকালীন বাস্তবতায় আমরা যেসব চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করছি জাতির জনক তাঁর দূরদৃষ্টিতে বহুআগেই তা অনুধাবন করেছিলেন এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কৃষির বহুমূখিকরণ শুরু করেছিলেন।’ 

‘গবেষণা ও সম্প্রসারণে বঙ্গবন্ধুর অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন নির্দেশনা আজও প্রাসঙ্গিক। আমরা বিভিন্ন নীতি ও কৌশল প্রণয়ণে আজও বঙ্গবন্ধুর সেই গণমূখি দর্শনকে অবলম্বন করি। আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে আজও অনুধাবন করি যে, বঙ্গবন্ধু কিভাবে সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশের কৃষি ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে শক্ত ভীতের ওপর দাড় করিয়েছিলেন! তাঁর প্রণীত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কৌশল এখনও আমাদের পথ দেখায়’-বলেন অধ্যাপক শামসুল আলম।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ড. শামসুল আলম বলেন, ‘বহির্বিশ্বে সবাই জানতে চান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঈর্ষণীয় সাফল্যের গল্প। আমরা গৌরবের সঙ্গে জানাতে পারি যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে প্রণীত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাসমূহ প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কারণেই আমরা আজ এই গৌরবের অংশীদার হতে পেরেছি।’

‘বিশেষ করে ব-দ্বীপ পরিকল্পনা প্রণয়নের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশকে আরও একশ’ বছর এগিয়ে রাখছি। তবে এই সাফল্যের ধারা তখনই সূচিত হবে যখন আমরা গবেষণা, দক্ষ জনশক্তি এবং উচ্চ মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রেও নিজেদের সমানভাবে যোগ্য করে তুলতে পারব’-যোগ করেন একুশে পদকজয়ী বরেণ্য এই অর্থনীতি ও পরিকল্পনাবিদ। 

সেমিনারের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেহের আফরোজ চুমকি, এমপি বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশের আজকের যে সাফল্য তা কৃষিবিদদের নিরলস প্রচেষ্টারই ফসল। স্মরণযোগ্য, বঙ্গবন্ধু প্রণীত কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক অনুসৃত নানা রকম কৃষিবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সেইসঙ্গে কৃষি উন্নয়নে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণও এই সাফল্যকে ত্বরান্নিত করেছে।

সেমিনারের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গিয়াসউদ্দীন মিয়া ক্রমসংকুচিত কৃষি জমির প্রক্ষিতে ভার্টিকেল কৃষির প্রবর্তন এবং ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তি যেমন জিনোমিক্স, ফেনোমিক্স, জিন এডিটিং প্রযুক্তির ব্যবহারে জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারুপ করেন।

বশেমুরকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. তোফাজ্জল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারটিতে মূল প্রবন্ধের ওপর গুরুত্বপূর্ণ আলোকপাত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য  এবং ইউজিসি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান আকন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ।

সেমিনারের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য প্রতিষ্ঠিত জীবপ্রযুক্তি এবং জিন প্রকৌশল ইনস্টিটিউট জিন এডিটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং জিন স্থানান্তরের মাধ্যমে গমের মারাত্মক ব্লাস্ট রোগ দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লাভ করেছে। খাদ্য নিরাপত্তায় আমরা আগামীতে আরও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সচেষ্ট হব।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আরিফুর রহমান খাঁনের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনরা অংশ নেন।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।