Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৭ শ্রাবণ ১৪২৬, মঙ্গলবার ২৩ জুলাই ২০১৯, ৫:০৭ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

নজরুলময় কয়েকটি দিন: বাংলাদেশ-ভারত প্রসঙ্গ


২৮ জুন ২০১৯ শুক্রবার, ০৭:১৬  পিএম

ড. মো. হুমায়ুন কবীর

বহুমাত্রিক.কম


নজরুলময় কয়েকটি দিন: বাংলাদেশ-ভারত প্রসঙ্গ

ঢাকা: কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জন্য একটি বিষ্ময়। প্রতিবছরই কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয় ভারত ও বাংলাদেশে। গতবারেও (২০১৮) তার ব্যতিক্রম হয়নি।

আমি বাংলাদেশের জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চাকুরিজীবী এবং নজরুলের একজন ভক্ত ও অনুরাগী হওয়ার কারণে নজরুল চর্চা সম্পর্কে জানার উপর আমার ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। সেকারণেই যেখানেই নজরুল বিষয়ে কোন কিছু আয়োজিত হয় সময় ও সুযোগ পেলে সেখানে উপস্থিত হওয়ার নিরন্তর চেষ্টা করি।

বাংলাদেশে নজরুলের মৃত্যুবার্ষিকী (২৭ আগস্ট/১২ ভাদ্র) একটু ঢিমেতালে পালিত হলেও জন্ম বার্ষিকী আড়ম্বরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়। আমাদের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মৃত্যুবার্ষিকীতে একদিনের সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তা পালনের রেওয়াজ বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু জন্ম বার্ষিকীতে (২৫ মে/১১ জ্যৈষ্ঠ) তিনদিনব্যাপী জন্ম-জয়ন্তী হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। সেখানে বিভিন্ন সভা, সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার গুরুত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়। কিন্তু গত গতবারে অর্থাৎ ২৫ মে ২০১৮ তারিখে পবিত্র মাহে রমজান মাস চলার কারণে আমরা রমজানের পূর্বেই (৯-১০ মে ২০১৮) সাংস্কৃতিক পর্বগুলো সেরে নিয়েছিলাম।

কিন্তু নজরুলের জন্মদিনের সাথে যেহেতু ২৫ মে/১১ জ্যৈষ্ঠ তারিখটির একটি ভাবাবেগের বিষয় জড়িত কাজেই গতবছর উক্ত দিনে ‘নজরুল বিশ^বিদ্যালয়ের সম্মাননা’ প্রদানের পর্বটি রাখা হয়েছিল। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আ আ ম স অরেফিন সিদ্দিকের হাত দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের চারজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা তুলে দেন। এভাবেই শেষ করা হয়েছিল ২০১৮ সালের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল জন্মজয়ন্তীর অনুষ্ঠান।

আর ভারতে কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে স্থাপিত কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করেছিল আরেক গুরুত্বপূর্ণ ও মহান উদ্যোগ। সেখানকার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে এক বিশেষ সমাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.লিট. ডিগ্রি প্রদান করেছিলেন। সেটি দেওয়ারও একটি কারণ তারা খুজে পেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন সেখানকার কর্তৃপক্ষ। তাদের দেশে জন্ম নেওয়া এমন একজন প্রতিভাধর কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশে নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেছেন এবং তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছেন।

আর সেই বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা যিনি একজন নজরুল অনুরাগী হিসেবে বাংলাদেশে নজরুল চর্চা ও গবেষণার জন্য নজরুলের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছেন।
এরইমধ্যে কবি নজরুলের জন্মদিন পালন উপলক্ষে কলকাতার একটি জনপ্রিয় পত্রিকা ‘আলিপুর বার্তা’ এবং ঢাকার একটি বহুল প্রচারিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘বহুমাত্রিক.কম’-এর যৌথ আয়োজনে “ভাগ হয়নি ক’ নজরুল” শিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের আশুতোষ বার্থ সেন্টিনারি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় গত ২৬ মে ২০১৮ তারিখে। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল জাতীয় কবি কজিী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও একজন লেখক হিসেবে আমাকে সেমিনারে প্রবন্ধ পাঠের আমন্ত্রণ জানানোতে।

উক্ত যৌথ আয়োজনের যারা ভিতরের কারিগর ছিলেন তারা হলেন- ভারতের আলিপুর বার্তার সম্পাদক, লেখক, নজরুল ও নেতাজী গবেষক ড. জয়ন্ত চৌধুরী এবং বাংলাদেশের বহুমাত্রিক.কম এর প্রধান সম্পাদক, সাংবাদিক ও নেতাজী গবেষক মো. আশরাফুল ইসলাম।

আমি আরো বেশি গর্বিত ছিলাম এজন্য যে, সে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিবঙ্গ রাজ্য সরকারের মাননীয় বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিশেষ অতিথিগণের তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বাসব চৌধুরী, ভ্রাতীয় জাদুঘরের ডিরেক্টর জনাব রাজেশ পুরোহিত, কলকাতার পুরসভার সম্মানিত মেয়র দেবাশিষ কুমার, অধ্যাপক ও অভিনেতা ড. শঙ্কর ঘোষ, অনলাইন পোর্টাল সম্পাদক ও চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন ও দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক অয়ন আহমেদ এর সাথে আমিও একজন প্রবন্ধকার ও বিশেষ অতিথি ছিলাম।

সেখানে সকলের সামনে নজরুল বিষয়ক একটি প্রবন্ধ পাঠের জন্য আমিসহ অন্যান্য প্রাবন্ধিকগণকেও সম্মাননা ক্রেস্ট ও কোর্তা পরিয়ে সম্মানিত করেন যা প্রকারান্তরে আমাকে এবং আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানিত করেছে।

আমাদের ধারণা যে কবি নজরুলের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গে হলেও পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে কবিকে অতটা গুরুত্বের আসনে বসানো হয়না। সেখানে কবি গুরুকে সবক্ষেত্রেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। সেটা শুধু যে ধারণা তাই নয়, তা অনেকাংশেই সঠিক। কিন্তু সেখানে সেই সেমিনারে উপস্থিত হয়ে আমার ভুল অনেকাংশেই ভেঙ্গে যায়। কারণ মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে রাজ্যের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরুল চর্চা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। সেইসাথে নজরুলের জন্ম ও মৃত্যু দিবসসমূহ যথাযথ মর্যাদায় পালনের নির্দেশনা জারি করেছেন তিনি।

আর সেরকম একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হয়েই আমিও সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে যোগ দিয়েছিলাম। মাত্র একদিনের এ বিশেষ ভ্রমণ আমাকে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত করেছিল।

এরপর মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য পশ্চিমবঙ্গে কবি কাজী নজরুলের নামে তাঁর স্বীয় জন্মস্থান বর্ধমান জেলার আসানসোলে তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত ‘কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের’ আমন্ত্রণে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলকে নিয়ে সেখানে ভ্রমণ করি। আমাদের প্রিয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে উক্ত দলে আমিসহ অপর তিনজন ছিলেন- তৎকালীন কলা অনুষদীয় ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, তৎকালীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. সাহাব উদ্দিন এবং ইন্সটিিিটউট অব নজরুল স্টাডিজ এর উপপরিচালক জনাব মুহাম্মদ রাশেদুল আনাম।

সেখানে আমাদের ভ্রমণটি ছিল পাঁচ দিনের। উক্ত পাঁচদিনে আমরা পশ্চিম বাংলায় শুধু নজরুলের তীর্থ স্থানগুলোই নয় বাংলা সাহিত্যের আরেক কিংবদন্তী বিশ্বকবি রবি ঠাকুরের স্মৃতিময় বিভিন্ন তীর্থস্থান পরিভ্রমণ করেছি। আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল এসলাম বিশ^বিদ্যালয় এবং ভারতের অসানসোলে অবস্থিত কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের আত্মিক সম্পর্কের কারণে দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই একে অপরের যাতায়াত ছিল। কিন্তু সেটি হতো তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে। তখন দুই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেই দাবী উঠে বিষয়টিতে কেমনে ফরমাল ও অফিসিয়াল করা যায়। তখন দীর্ঘদিনের একটি প্রক্রিয়া শেষে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঝে একটি ‘সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর আয়োজন করা হয়। এখানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং শিক্ষামন্ত্রণালয় ব্যাপকতর সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি হয় আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সাধন চক্রবর্ত্তীর অফিসকক্ষে। চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ এবং কাজী নজরুল বিশ্ববিদালয়ের নজরুল কালচারাল এন্ড রিসার্চ সেন্টারের মধ্যে। আইন অনুযায়ী সরাসরি চুক্তিতে স্বাক্ষর করি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার হিসেবে আমি এবং ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার জনাব সিতাংশু কুমার গুহ। গর্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ এ চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে আমাদের দলের অপর তিনজন যথা তৎকালীন কলা অনুষদীয় ডিন প্রফেসর ড. মুশাররাত শবনম, তৎকালীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. সাহাব উদ্দিন এবং ইন্সটিিিটউট অব নজরুল স্টাডিজ এর উপপরিচালক জনাব মুহাম্মদ রাশেদুল আনাম প্রমুখ।

অপরপক্ষে ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সাধন চক্রবর্ত্তী, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, নজরুল গবেষক এবং আমাদের এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগসূত্র সৃষ্টিকারিনী ড. মোনালিসা দাস, নজরুল সাংস্কৃতিক ও গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তা চৈতালী দত্তসহ আরো অনেক গুণী ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও গুণগ্রাহীবৃন্দ। বিষয়টি আমার কাছে, আমাদের বিশ^বিদ্যালয়ের সকলের কাছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়েছে। কারণ এ চুক্তির মাধ্যমে আমরা একে অপরের ফরমাল এবং অফিসিয়াল বন্ধু হয়ে গেলাম। আর শুধু বন্ধুই নই একে অপরের জ্ঞান জগতের পার্টনার হয়ে গেলাম। চুক্তি অনুযায়ী দুই সমধর্মী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নজরুল বিষয়ক গবেষণা বিনিময় হবে, গবেষক বিনিময় হবে, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, যৌথ নজরুল গবেষণা জার্নাল প্রকাশিত হবে (যার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে), যৌথ নজরুল আর্কাইভস প্রতিষ্ঠিত হবে, যৌথ স্টুডিও হবে ইত্যাদি আরো অনেক কিছু।

এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত অনুভুতি খুবই আনন্দের। নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চাকুরিজীবী হিসেবে এমনিতেই নজরুলের উপর একটি বিশেষ জানার আগ্রহ রয়েছে আমার। তাছাড়াও একজন সাধারণ নজরুল ভক্ত হিসেবে আমার তাঁর জন্মস্থান, তাঁর বেড়ে উঠার জায়গাসমূহ, তাঁর স্মৃতিময় চিহ্নগুলো, তাঁর নামে প্রতিষ্ঠানসমূহ, তাঁর লেখা জীবনীতে উল্লেখিত তীর্থসমূহ দেখা আমার অন্যতম আগ্রহের বিষয়বস্তু ছিল। সুযোগ এলো একসাথে অনেককিছু করার। যে দুই-তিনদিন বর্ধমান, আসানসোল, চুরুলিয়া ইত্যাদি স্থানসমূহে ঘোরাফেরা করেছি প্রতিক্ষণেই মনে হয়েছে যেন নজরুল এসব জায়গাজুড়েই চলাফেরা করতো। মনে হতো যেন নজরুল এখনো জীবন্ত।

এরপর গিয়েছি কবির জন্মস্থান চুরুলিয়া গ্রামে যেখানে এখনো তাঁর বংশধরেরা স্মৃতি আকড়ে ধরে রয়েছেন। সেখানে প্রতিষ্ঠিত নজরুল একাডেমি কর্তৃক একটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয় আমাদের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমানকে। আমরা টিমের সবাই নজরুল একাডেমির গর্বিত আজীবন সদস্য পদ লাভ করি। চুরুলিয়া গ্রামটি দেখতে প্রাকৃতিকভাবে বেশ সুন্দর কিন্তু অনুর্বর।

পাশে কয়লার খনি ও পাথরের পাহাড়ে ঘেরা। সেখানে কৃষি ফসলের জন্য অতটা উপযোগী মাটি নয়। অথচ এ অনুর্বর মাটি থেকে নজরুলের মতো অতি উর্বর একটি মস্তিষ্কের সৃষ্টি করেছেন মহান সৃষ্টিকর্তা। সে এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থা কিন্তু এখনো অতটা সচ্চল বলে মনে হয়নি। মনে হচ্ছিল দুখু মিয়া নামের সার্থকতা!

একই ভ্রমণে আমরা কবিগুরু প্রতিষ্ঠিত শান্তি নিকেতন ভিজিট করি। সেখানে কবির অনেক স্মৃতিময় স্থান ও স্থাপনা, পঠন-পাঠনের বিশেষ বিশেষ পদ্ধতির বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করি। তারমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ছিলো কবিগুরুর সকল স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সেখানে একটি আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভস সৃষ্টি করা হয়েছে। এগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীতে নজরুলের স্মৃতি সংরক্ষণের জন্যও কাজে আসবে। আমাদের পাঁচজনের টিমের মধ্যে এ ভ্রমণ অভিজ্ঞতার পাশাপাশি মনেরও কিছুটা আনন্দের খোরাক সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ১২০তম নজরুল জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে আমাদের এ বিশ^বিদ্যালয়ে। রমজানের ছুটি থাকার কারণে ২৫ মে/১১ জ্যৈষ্ঠ তারিখে শুধু অনাড়ম্বরভাবে কবির প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন এবং নজরুলের জীবন ও সাহিত্যকর্মের উপর সেমিনারের মাধ্যমে তা পালন করা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী মূলপর্ব শুরু হচ্ছে ৩-৪ জুলাই ২০১৯ তারিখে। সেখানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিক ব্যক্তিত্ব, নজরুল ভক্ত ও অনুরাগীসহ ভারতের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ টিম আমাদের এ অনুষ্ঠানকে সাফল্যম-িত করতে আসছেন। আমরা প্রতিবছরের ন্যায় এবারের নজরুলর জয়ন্তুীরও সাফল্য কামনা করি। আশা করি সকলের সহযোগিতায় তা অবশ্যই সম্ভব।

লেখক: রেজিস্ট্রার, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়
email: [email protected]

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।