Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শনিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ৮:১৭ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

কেন ছাত্র রাজনীতি বন্ধের প্রয়োজন?


০৯ নভেম্বর ২০১৯ শনিবার, ০১:৫৫  পিএম

আকবর হোসেন

বহুমাত্রিক.কম


কেন ছাত্র রাজনীতি বন্ধের প্রয়োজন?

বাংলাদেশের সবচেয়ে মেধাবীদের বিদ্যাপিঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত চলে এসেছে। বিষয়টি বেশ বির্তকের জন্ম দিয়েছে। একটু বলে রাখি, কে না চাই ভালোর সাথে থাকতে। প্রত্যেকের চাওয়া সম্মানের সাথে বাঁচা।

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হলে দেশ চালাবে কে, এমন প্রশ্ন আসছে। এটি একদিনে শিখার বিষয় নয়। সময় নিয়ে শিখতে হয়। কোন মানুষ জন্মের পরই কৃষক, মজুর, ব্যাংকার, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী ইত্যাদি পেশার লোক হয় না। প্রতিটি বিষয় শিখতে হয়। রাজনীতি সব পেশার চেয়ে জাতির জন্য খুব বেশি প্রয়োজনীর একটি বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক দেশগুলোর জন্য। কারণ, রাজনীতিবিদেরা দেশ পরিচালনা করে, দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। তাই এই মানুষগুলো আর দশটা পেশার মানুষের চেয়ে তাঁদের বেশি মেধাবী, দক্ষ, বিজ্ঞ, অভিজ্ঞ ও সুস্থ মাথার অধিকারী হওয়া প্রয়োজন।

১. ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলে শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বলবে কে?

যেমন: ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থীরা তাদের বিষয়ে উন্নয়ন করার জন্য বিষয় ভিত্তিক ক্লাব বা দিনের কোন একটি সময় ভাল একটি জায়গায় বসতে পারেন। এতে করে নিজেদের মধ্যে ভাতৃত্ব বন্ধন শক্ত হবে। তাদের জানার পরিধি বড় হবে। নির্দিষ্ট বিষয়ে উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা খুজে বের করা সহজ হবে। প্রশাসনিক বা অন্য কোনো সমস্যা সমাধান সহজ হবে। শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগত প্রবেশ করে সহিংষ কোন ঘটনা ঘটাতে পারবে না। বিদ্যাপিঠে অস্ত্রের ঝন ঝনানি বন্ধ হবে। মানবিক গুণাবলি সমৃদ্ধ মানুষও তৈরি হবে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশের ক্রিকেটারেরা কোন ক্রিকেটনীতি/রাজনীতি করেন না। এরপরও তারা তাদের সমস্যার কথাগুলো জাতির কাছে নয় শুধু, বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পেরেছেন। ক্রিকেটের সমস্যাগুলো যেমন ক্রিকেটারেরাই ভালো বুঝবেন। তেমনি করে পর্দাথ বিজ্ঞানের শিক্ষাথীরাই পর্দাথের সমস্যা ভাল বুঝার কথা। কথা হচ্ছে সমস্যা খুজে বের করতে হলে বা সমাধান করতে হলে আগে জানতে হবে। এর জন্য বিদ্যাপিঠগুলোতে সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ থাকতে হবে। পড়ালেখা করতে এসে লাশ বা ফাঁসি আসামি হতে কেউই চায়না।

২. মানবিক-নৈতিক গুণাবলি সমৃদ্ধ
আরেকটি উদাহরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে অনুষ্ঠিত বিএ পরীক্ষায় জালিয়াতির কারণে নরসিংদীতে সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ তামান্না নুসরাত ওরফে বুবলীর সব পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাউবির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক এম এ মান্নান জরুরি সভায় বলেন, তামান্না নুসরাত নিজে পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাঁর পক্ষে পরপর ৮টি পরীক্ষায় অংশ নেন প্রক্সি পরীক্ষার্থীরা। তবে শেষ দিনের পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক পরীক্ষার্থী। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাঁকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। তবে সভায় জানানো হয়েছে, তামান্না নুসরাত বাউবির কোনো প্রোগ্রামে আর ভর্তি হতে পারবেন না। যারা প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছেন, তাদের পরিচয় বের করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলা হবে। তামান্না নুসরাতের এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করেছে।

একজন রাজনীতিবিদ জাতির পাঞ্জেরী; জাতির পাঞ্জেরীরা এ ধরনের ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে জাতি বিব্রর্ত হয়। এটা হয়, নৈতিক অবক্ষয় থেকে। নৈতিক অবক্ষয় রোধের জন্য অবশ্যই সুশিক্ষা প্রয়োজন। এর জন্য বিদ্যাপিঠগুলোতে সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ থাকতে হবে। সুন্দর শিক্ষার পরিবেশের জন্য বিদ্যাপিঠগুলোতে রাজনীতির প্রয়োজন নেই।

৩. শিক্ষার্থীরা রাজনীতি শিখবে কিভাবে?
কর্মাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিষয় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানবিশ প্রাকটিস করেন। চিকিৎসকেরা বিষয় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানবিশ প্রাকটিস করেন। তেমনই ভাবে রাজনীতির জন্য শিক্ষানবিশ প্রাকটিস করার ব্যবস্থা চালু করা উচিত। যেখানে রাজনীতি শিক্ষার শিক্ষাথীরা পড়া শেষে শিক্ষানবিশ প্রাকটিস করবেন। তবে হ্যাঁ, এর জন্য নবম শ্রেণি থেকে আলাদা একটি রাজনীতি শিক্ষা পাঠ্যবই যোগ করা যেতে পারে। এরপরই আসতে আসতে কোর্স বাড়বে। এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পূর্নাঙ্গ একটি বিভাগও থাকতে পারে। তবে শিক্ষার্থী পড়া অবস্থায় রাজনীতির সাথে জড়িত থাকা উচিত হবে না।

৪. রাজনীতিতে জড়াবেন কে?
বাংলাদেশে শ্রমিক, তাঁতী, কৃষক, স্বেচ্ছাসেবক, চিকিৎসক, আইনজীবী ইত্যাদির পেশার মানুষ রাজনীতি করবেন (সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া)। প্রায় প্রতিটি পেশার মানুষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন। তবে তাঁদের রাজনীতির গণ্ডি এই পেশার মানুষের কল্যাণেই হওয়া উচিত। কৃষকই বুঝবেন ফসল উৎপাদনে বাঁধা ও সমাধানের উপায়। তাকেঁ কখন কৃষি কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে, আর কখন সেচ দিতে হবে। একই ভাবে সবপেশার মানুষ নিজেদের বিষয়গুলো দেখতে পারবেন। এছাড়া দেশের শাসনভার যারা নিবেন তাদের উচ্চ শিক্ষিত হওয়া উচিত। এতে করে মানুষকে মানবিক গুণাবলি সমৃদ্ধ ও জাতিকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

শুরুতে বলেছিলাম, বুয়েট থেকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সিদ্ধান্ত চলে এসেছে। প্রবাদ আছে, মেধাবীরা অন্যদের তুলনায় যেকোন জিনিস একটু আগেই বুঝতে পারেন। লাশ ও ফাঁসির আসামি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে হয়ত ছাত্ররাজনীতি একদিন বন্ধ হবে!

লেখক: সাংবাদিক

[email protected]m

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।