Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, বুধবার ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২:১৮ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

‘অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোষহীন থাকবে ভারত’


০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১২:৫৫  পিএম

আশরাফুল ইসলাম

বহুমাত্রিক.কম


‘অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোষহীন থাকবে ভারত’
-আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এমপি। ফেসবুক প্রোফাইল থেকে সংগৃহীত

বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিকটে। দেশটির নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে এই নির্বাচন অনুষ্ঠান হবে। নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘুরেফিরে বৃহৎ প্রতিবেশি ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়টি উঠে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে তিন দিকে যেখানে ভারতের সীমান্ত রয়েছে-সেখানে নিরাপত্তার প্রশ্নে নিকটতম এই প্রতিবেশি রাষ্ট্রের ক্ষমতা পরিবর্তন ইস্যুটি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হয়। জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠির উত্থানে প্রতিবেশির ভূখন্ড ব্যবহারের অতীত তিক্ত অভিজ্ঞতাও এখানে বিবেচনায় আসছে।

দ্বিপাক্ষিক ‘রুটিন সফর’ বলা হলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের ভারত সফর ও অন্যদিকে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ সফর-এখন দু’দেশের রাজনৈতিক এবং কুটনৈতিক পরিমণ্ডলে বেশ আলেচিত বিষয়। রাজনীতির মাঠের এমন আলোচনা নিয়ে খোদ রাজনীতিবিদরা আসলে কী ভাবছেন-জানতে চেষ্টা করেছে আলিপুর বার্তা।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এমপি-এ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন আলিপুর বার্তা’র সঙ্গে। দলটির প্রভাবশালী এই নেতা নির্বাচন নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে দলের অবস্থান তুলে ধরেছেন। টেনে এনেছেন বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে জঙ্গি উত্থানসহ ভারত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের অন্যান্য প্রসঙ্গও।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম-র একান্ত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিশেষ প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম। সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ এখানে প্রকাশিত হচ্ছে-

আলিপুর বার্তা : বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রতিবেশি রাষ্ট্র ভারতের প্রচ্ছন্ন ভূমিকার প্রসঙ্গ ঘুরে ফিরে আসছে। আপনি এবিষয়ে কী মনে করেন-

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : দেখুন বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণ যাদের ভোট দেবে তারাই নির্বাচিত হবেন; এখানে বাইরের কোনো দেশের প্রভাব আছে, আমরা এটা মনেকরি না। কারণ আওয়ামীলীগ একটি জাতীয়তাবাদী, গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, আমাদের বিশ^াস-আস্থা জনগণের ওপর। কে কী বললো বা সমর্থন দিলো-আমরা একে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। বিদেশি সমর্থনে কী প্রভাব পড়লো আমরা তা গুরুত্ব দিয়ে দেখিনা। জনগণের রায়ের ওপরই সবকিছু নির্ভরশীল।

আলিপুর বার্তা : নির্বাচনের প্রাক্কালে সম্প্রতি ভারত সরকারের আমন্ত্রণে পৃথকভাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ, জাতীয়পার্টি ও বিএনপি’র উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সেদেশ সফর করেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। আওয়ামীলীগের প্রতিনিধি দলের আপনিও একজন সদস্য হিসাবে সেই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন-

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : নির্বাচনের প্রাক্কালে নয়, এটি ধারাবাহিক সফর। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক, তা দু’এক বছরের নয়। আমরা ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। তারই ভিত্তিতে এই যাওয়া-আসা। ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র, প্রতিবেশি রাষ্ট্র, একটি পরাশক্তিও বটে। এই সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। একাত্তরে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে তারা আমাদের সমর্থন দিয়ে, সহযোগিতা দিয়ে, বাংলাদেশ কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় পেয়েছে। যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্বাসনেও তারা আমাদের সহযোগিতা দিয়েছে। এই সত্যকে স্বীকার করার মধ্য দিয়ে লজ্জা পাওয়ারও কিছু নাই। ভারতের বিজিপি সরকারের আমন্ত্রণে আমরা যদি যেয়ে থাকি সেটা তো দোষের কিছু নাই, তারাও আমাদের আমন্ত্রণে এসেছে। এই সম্পর্ক সামাজিক সম্পর্কের মতো। এর সাথে নতজানু হওয়ার কোনো বিষয় নাই, আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে এমন বিষয় নাই।

আলিপুর বার্তা : রাজনৈতিক অঙ্গনে বক্তৃতা বিবৃতিতেও ‘ভারত প্রসঙ্গ’ ঘুরেফিরে আসছে। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন, ভারত বিএনপি-কে বিশ্বাস করবে না। আলোচনায় আসছে বিএনপি সরকার আমলে জঙ্গি উত্থান, দশ ট্রাক অস্ত্র, বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠি উলফার তৎপরতার প্রসঙ্গ-

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : এটা স্বাভাবিক। কে কী বলেছেন সেটাকে আমি কিছু মনেকরি না, তবে অখ-তার প্রশ্নে ভারত আপোষহীন থাকবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে ভারতকে যারা দ্বিখণ্ডিত করতে চায়, আচড় দিতে চায়-তাদের সাথে কী সম্পর্ক থাকবে, সম্পর্ক থাকবে কী থাকবে না, সেটা তারাই ভাল বুঝবে। আস্থা কাদের ওপর থাকবে, তা কর্মে ও নীতির ভেতর দিয়ে প্রতিফলিত হবে।

আলিপুর বার্তা : আপনি কী মনে করেন, ভারত আওয়ামীলীগে একটু বেশিই আস্থা রাখে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : আওয়ামীলীগ একটি আদর্শনির্ভর রাজনৈতিক দল। ভারতের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক বন্ধনে আবদ্ধ। আমাদের মুক্তিসংগ্রামের সাথে ভারতের জনগণের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। সেই বিবেচনায় ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ভাল থাকতেই পারে। বন্ধুত্বপূর্ণ-আদর্শিক ও নীতির এই সম্পর্ক বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ রক্ষা করতে পেরেছে। অন্যরা পারে না কেন-সেটাও দেখতে হবে। বিএনপি-জামাত ধর্মান্ধ। তারা বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেয়-সহযোগিতা করে। ভারত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতেই পারে, এসব দোষের কিছু নয়।

আলিপুর বার্তা : বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলো তাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরছে। ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অবস্থানটা আসলে কী থাকছে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : এটি পরিষ্কার। বিষয়টি নতুন কিছু নয়। সাংবিধানিকভাবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী বর্তমান যে সরকার দেশ পরিচালনা করেছে, সংবিধান অনুযায়ী এই সরকারই আগামী নির্বাচন পরিচালনা করবে-এটাই আওয়ামীলীগের নীতি। কে কী ভাবছে, কার কী চিন্তা..থাকতেই পারে। নির্বাচনকালীন সরকার রুটিনওয়ার্ক চালাবে, নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে। এই সরকারের সময়েই উপ-নির্বাচন, সিটি নির্বাচন, পৌরসভা-ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ অসংখ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে যদি সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজন না হয় তবে এখানেও তাই হবে। নির্বাচনকালীন সরকার বলে পৃথিবীর কোথাও কী সরকার আছে? পৃথিবীর গণতান্ত্রিক কাঠামোয় কোথাও কী এমন আছে?

আলিপুর বার্তা : টানা দুই মেয়াদে সরকার পরিচালনার পর এই মুহুর্তে আপনার দল বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মূল লক্ষ্য কী?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : প্রতিটি রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য থাকে নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করার। আমাদের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য সেটাই। ২০১৮ ডিসেম্বরে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন রয়েছে, সেই নির্বাচনে জনসমর্থন নিয়ে একটি অবাধ-নিরেপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

আলিপুর বার্তা : নির্বাচন নিয়ে এরই মাঝে আপনার দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, এই নির্বাচন আগের নির্বাচনের মত হবে না। এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ণ ও কঠিন হবে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে আওয়ামীলীগের স্ট্র্যাটেজি কী রকম হবে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম : আমরা দেশের একটি প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসাবে জনগণের সমর্থনের ভিত্তিতেই অংশগ্রহণ করব এবং বিজয়ী হব এটাই আমাদেও প্রত্যাশা। এই ধরণের আচরণ..জনসমর্থন আদায়ের জন্য যে কাজ করার দরকার তৃণমূণ পর্যায়ে-দলীয় সভাপতি নেতকর্মীদের সেই নির্দেশনাটিই দিয়েছেন, আমি মনেকরি এটি যথার্থ। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি আশা করব, সকল রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আগামী দিনে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি প্রতিশ্রুতিশীল রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে আওয়ামীলীগ; যে দায়িত্ব পালন করে আসছে, তা ভবিষ্যতেও করে হবে।

আলিপুর বার্তা’র সৌজন্যে

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।