Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৫ ভাদ্র ১৪২৫, সোমবার ২০ আগস্ট ২০১৮, ২:৩৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের লটকন


২৬ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০১:০০  এএম

এস এম মুকুল

বহুমাত্রিক.কম


দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের লটকন

বাংলাদেশের সুপরিচিত আকর্ষণীয়, মুখরোচক টক-মিষ্টি ফল লটকন। ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ টক-মিষ্টি স্বাদের ফলটি সাধারণত লটকন হিসেবেই অধিক পরিচিত। ইংরেজিতে বার্মিজ গ্রেপ নামে পরিচিত হলেও আমাদের দেশে এ ফলটি বুবি, বুগি, লটকা, লটকো, নটকো ইত্যাদি নামে পরিচিত। মার্চ মাসের দিকে লটকনগাছে ফুল আসে এবং ফল পরিপক্ব হতে চার-পাঁচ মাস সময় লাগে ঢাকা শহরসহ সারা দেশেই এখন এ ফল পাওয়া যায়।

লোভনীয় রং ও আকৃতির থোকা এ লটকন। লটকন ফল গোলাকার এবং পাকলে হলুদবর্ণ ধারণ করে। ১০-১৫ বছর আগেও লটকনের তেমন চাহিদা ছিল না। দামও ছিল কম। সে জন্য কেউ লটকনের স্বতন্ত্র বাগান করার চিন্তা করতেন না। বর্তমানে টক-মিষ্টি সুস্বাদু এ ফলের চাহিদা ও দাম দুটিই বেড়েছে। এমনকি অন্যান্য ফল চাষের তুলনায় লটকন চাষ অনেক বেশি সহজ এবং ফলনও বেশি হওয়ায় চাষিরা বেশি লাভবান হচ্ছেন।

বর্ষাকালীন ফল লটকন বাংলাদেশে দিনে দিনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে লটকন বাজারে পাওয়া যায়। লটকন গাছের কান্ডে ফলে। গাছের পুষ্টির সুষমতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গাছের গোড়া থেকে প্রধান কান্ডগুলোয় এত বেশি ফল আসে। একটি পূর্ণবয়স্ক লটকন গাছে পাঁচ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। আশার খবর হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে শুরু করে বর্তমানে নরসিংদীসহ দেশের অনেক জায়গাতেই লটকনের বাণিজ্যিক চাষ হচ্ছে। কিন্তু পুরো বাংলাদেশেই ফলটির বাণিজ্যিক চাষাবাদ সম্ভব। কেননা, উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি বেশ উপযোগী।

ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের লটকন

ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজার দখল করে নিয়েছে নরসিংদীর শিবপুরের লটকন। কৃষিবিভাগের তথ্যে জানা গেছে- এ অঞ্চলের লটকন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ২০-২৫টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। এতে আয় হচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা। জেলার ৬২৫ হেক্টর জমিতে লটকন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শিবপুর উপজেলায়ই চাষ হয়েছে ৪২৫ হেক্টরে। প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন লটকন উৎপাদন হয়, যার আনুমানিক দাম ২৪-২৫ কোটি টাকা।

জানা গেছে, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রায় দুই শতাধিক গ্রামে লটকন চাষ হয়। লাখপুর, শিমুলিয়া, আলীনগর, পাড়াতলা, দুলালপুর, চরিুবর্দী, ভিটিচিনাদী, বিলচিনাদী, দরগারবন্দ, কাজিরচর, হরণখোলা, মানিকদী, নন্দীগাঁও, বাহেরখোলা, ব্রজেরকান্দী, সাধারচর, মৈশাদী, তাতারকান্দী, শুকুন্দী, কালুয়ারকান্দা, সৈয়দেরখোলা, মিয়ারগাঁও, মাছিমপুর, সৈয়দনগর, পুটিয়া, সুনারুতলা, বেতাগিয়া, কামরাবপুব, সুজাতপুর, জাগড়র, ধুপিরটেক, মধ্যনগর, অষ্টানী মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে লটকন চাষ হচ্ছে। উপজেলার এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে আঙিনা থেকে শুরু করে প্রায় সব স্থানেই একটি লটকন গাছ পাওয়া যাবে না।

শিবপুর, জয়নগর ও গৌরীপুরের লটকন

বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ এবং নরসিংদী জেলাতে ইদানীং লটকনের বাণিজ্যিক চাষ হলেও দেশের অন্য জায়গায় তেমনভাবে এর আবাদ এখনো শুরু হয়নি। বাংলাদেশের আর্দ্র আবহাওয়া লটকন চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই সারা দেশেই (নিচু এলাকা বাদে) এর বাণিজ্যিক চাষ করা সম্ভব। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে একটা পূর্ণ বয়স্ক লটকন গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে ১০০ কেজি পর্যন্ত লটকন সংগ্রহ করা সম্ভব।

নরসিংদী : নরসিংদীর শিবপুরে লটকন চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক চাষি। জয়নগর, বঘাব ও যোশর ইউনিয়নসহ সব কয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে দুই হাজার ৯৫৫টি লটকন বাগান রয়েছে। এদের সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে উপজেলার মানুষজনের মধ্যে লটকন চাষে আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি বছরই বাড়ছে বাগান। ফলন হচ্ছে প্রচুর। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন সরবরাহ হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এখানকার লটকন মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশেও রফতানি হচ্ছে।

জয়নগর : কিশোরগঞ্জের জয়নগর গ্রামে লটকন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক চাষি। এ উপজেলায় দিন দিন লটকনের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জয়নগর, বাঘাব ও যোশর ইউনিয়নসহ সব কয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৪৭৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় দুই হাজার ৯৫৫টি লটকন বাগান রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন শত শত মণ লটকন সরবরাহ করা হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে। এখানকার লটকন মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে রফতানি হচ্ছে।

গৌরীপুরের লটকন : কৃষির ওপর নির্ভরশীল বৃহৎ জনগোষ্ঠীর এলাকা ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক পরিবারের বিশাল অর্থভাগ্যে খুলেছে মৌসুমি ফল লটকন বিক্রি করে। কোনো ধরনের পরিচর্যা ছাড়াই প্রকৃতিগতভাবে জন্ম নেয়া পুষ্টিগুণে ভরপুর দেশীয় লটকন ফল (বুবি) বাগানের মালিকরা কয়েক দশক ধরে প্রতি মৌসুমে শুধু লটকন ফল বিক্রি করে ঘরে তুলছেন লাখ লাখ টাকা। উপজেলার বিচ্ছিন্নভাবে ১০টি ইউনিয়নের ৫০টি গ্রামের ৮০ হেক্টর জঙ্গলাকীর্ণ জমিতে ছোট-বড় ২৫০ লটকন ফলের বাগান রয়েছে। লটকন চাষ কয়েক দশক ধরে উপজেলায় কৃষিনির্ভর বিশাল জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন ধরণের আর্থিক চাহিদার জোগান দেয়াসহ অনেকের সংসারে এনে দিয়েছে সচ্ছলতা।

দেশের লটকন ইংল্যান্ড, কাতার, সৌদি আরবসহ নানা দেশে রফতানি হচ্ছে। কৃষি বিভাগ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পরামর্শে এবং বাংলাদেশ কৃষিব্যাংকের সহায়তায় প্রতিটি জেলাতেই লটকনের বাণিজ্যিক চাষাবাদ করা যেতে পারে এই ফল।

লেখক : বিশ্লেষক ও উন্নয়ন গবেষক, ই-মেইল : [email protected] 

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
ভাগ হয়নি ক' নজরুল
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

বিশেষ প্রতিবেদন -এর সর্বশেষ

Hairtrade