Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

কর্ম চাঞ্চল্য ফিরেছে খুলনা-যশোরের শিল্পাঞ্চলে


১০ জুন ২০১৮ রবিবার, ০১:৪৬  এএম

শেখ প্রিয়া, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


কর্ম চাঞ্চল্য ফিরেছে খুলনা-যশোরের শিল্পাঞ্চলে

খুলনা : মুখে হাসি, কাজে উৎসাহ। কর্মচঞ্চল খুলনা যশোরের শিল্পাঞ্চল। এক সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া জুটমিলগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। শ্রমিক পরিবারগুলোতে নেই কোন হতাশা। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর মৃতপ্রায় শিল্প অঞ্চলকে কর্মচঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করে। বকেয়া মজুরীর জন্য এখন আর শ্রমিকরা রাজপথে নামতে হচ্ছে না। এখন আর শ্রমিকদের সপ্তাহের পর সপ্তাহ মজুরী বকেয়া থাকে না। কর্মকর্তাদেরও বেতন মাসের পর মাস বন্ধ থাকছে না।

গত মাসের ১৫ তারিখে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে শ্রমিকদের সকল পাওনা মিলগুলো পরিশোধ করেছে। আসন্ন ঈদের আগেই শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, বোনাস ও মজুরী প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে বলে জানা গেছে। অথচ বর্তমানে মিলগুলোতে বকেয়ো রয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে খুলনা যশোরের শিল্পাঞ্চলে এখন ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

খুলনার শিল্পাঞ্চল খালিশপুর, যশোরের রাজঘাট এখন কর্মচঞ্চল। যেন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে নওয়াপাড়া, খালিশপুর ও দৌলতপুরের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো। উৎসবমুখর পরিবেশে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। বাড়ছে উৎপাদন।

ক্রিসেন্ট জুট মিলে শ্রমিক আব্দুস বলেন, ‘আগে আমাদের কাজের মজুরী পাওয়ার জন্য সপ্তাহের পর সপ্তাহ অপেক্ষায় থাকতে হত। মজুরী না পেয়ে দোকানীরা বাকিতে পন্য দিতে চাইত না। তখন ভয়ে থাকতাম, কখন-না মিল বন্ধ হয়ে যায়! এখন আর ভয় নেই।’ তিনি বলেন, ‘চার সপ্তাহ বিল আটকে আছে। কিন্তু আশা করি, আমরা খুব শিগগিরই বিল পেয়ে যাব।’

খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিক সোহরাব হোসেন বললেন, এ মিলে দিন হিসেবে শ্রমিকদের টাকা দেওয়া হয়। অন্য শ্রমিকদের তুলনায় সেটা অনেক কম। কিন্তু তারপরও মিলের উৎপাদন অনেক ভালো হচ্ছে। শ্রমিকেরা প্রতিদিন উৎসাহ নিয়ে কাজ করছেন। মিলগুলোতে সরকার এখন সময় মত টাকা বরাদ্দ দিচ্ছে। অন্তত এই মুহূর্তে মিল বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নেই।

খালিশপুরের ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান গাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে মিলগুলোতে সরকার সময়মত অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। গত মাসে শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করা হয়েছিল। চলতি সপ্তাহের মজুরীসহ শ্রমিকদের ৪ সপ্তাহের মজুরী পাওনা রয়েছে। আশা করছি ঈদের আগেই তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে। ক্রিসেন্ট জুট মিলে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে ৩ হাজার ৮০০ এবং বদলী শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৪ হাজার।

আলীম জুট মিলের সদ্য যোগদানকারী প্রকল্প প্রধান মো: খলিলুর রহমান বলেন, পাটকলগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সরকার সময় মত অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছে। শ্রমিকরা নিয়মিত মজুরী পাওয়ায় তাদের মাঝেও কাজের আগ্রহ ফিরে এসেছে।

প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলের সদ্য বিদায়ী প্রকল্প প্রধান মো: খলিলুর রহমান বলেন প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকরে চলতি সপ্তাহ মিলে ২টি সাপ্তাহিক মজুরী পাওনা রয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বুঝে পাবে।

বাংলাদেশ জুটমিলস কর্পোরেশনের খুলনা আঞ্চলিক লিয়াজো কর্মকর্তা মো: মুরাদ হোসেন বলেন, খুলনা- যশোরে রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল হচ্ছে ৯টি। মিলগুলো হচ্ছে, ক্রিসেন্ট জুট মিল, প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিল, ইস্টার্ন জুট মিলস, স্টার জুট মিলস, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, কার্পেটিং জুট মিলস , জেজেআই (যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি) আলিম জুট মিল। এই জুট মিলগুলোতে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। এছাড়া বদলী শ্রমিক হিসেবে কাজ করে আরও প্রায় ২৭ হাজার। এখন পর্যন্ত শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরী, বোনাস, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও বেনাস মিলে বকেয়া পাওনা রয়েছে ৪০ কোটি টাকার মত।

এক সময়ের সোনালি আঁশ হারাতে বসেছিল তার রঙরূপ ও খ্যাতি। দেশের অধিকাংশ পাটকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিলুপ্তির পথে এগুচ্ছিল বাংলাদেশের এই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পটি। পাটশিল্পকে বাচাতে বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ি এখন পাটের সুদিন দেখা দিয়েছে। পাটের বহুমুখি ব্যাবহার বেড়েছে।

বিবর্ণ আঁশে ফিরতে শুরু করেছে সোনালী রঙ। এক সময়ের প্রধান অর্থকরী ফসল পাট হারাতে বসেছিল তার গীতি গৌরব। পৃথিবীর একমাত্র বাংলাদেশেই ভালো মানের পাট উৎপন্ন হয়। এর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ থাকা সত্ত্বেও ২০০২ সালে তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকার চিরতরে এশিয়ার বৃহত্তম আদমজী জুট মিলটি বন্ধ করে দেয়। খালিশপুরের পিপলস জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল বন্ধ করে দেয়। সেই সময়কার বাস্তবতায় সদ্য চাকরি হারানো হাজার হাজার জুট শ্রমিক নামেন রাস্তায়। বেকারত্ব ঘুচাতে কেউ কেউ ঝুঁকেন ভিন্ন পেশায়। আবার অনেকে অভিশপ্ত জীবন পরিচালনায় হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন সর্বদা।

অপরদিকে পাটের সঠিক মূল্য না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে অন্য পথে হাঁটেন পাট চাষীরা। ধীরে ধীরে হ্রাস পেতে থাকে মূল্যবান এ ফলনের উৎপাদন। দেশের এই সোনালী সম্পদ অর্থ উপার্জনের বদলে ভারী বোজা হয়ে একদিন চেপে বসেছিল কৃষক পরিবারে। তবে বর্তমান সরকার পাটের সুদিন ফিরিয়ে আনতে গ্রহণ করে নানা পদক্ষেপ। সোনালী আঁশের অশনি সংকেতে বর্তমান সরকার পাট উৎপাদন ও বাজারজাতে বিশেষ মনোযোগী হওয়ায় সুফল আসতে শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে গৌরবের সেই সোনালী পাট আবারো গন্ধ ছড়াচ্ছে পল্লী জনপদের গ্রাম্য প্রকৃতিতে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।