Bahumatrik Multidimensional news service in Bangla & English
 
৭ আশ্বিন ১৪২৪, শুক্রবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

কবি শহীদ কাদরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার


২৭ আগস্ট ২০১৭ রবিবার, ০৭:৪১  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


কবি শহীদ কাদরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার

ঢাকা : বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিমান আধুনিক কবি শহীদ কাদরীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী সোমবার ২৮ আগস্ট। লেখালেখির জীবনে দীর্ঘ ছয় দশক বাংলা কবিতায় নিজম্ব এক ঘরাণা সৃষ্টির মধ্যদিয়ে এই কবি অসাধারণ কৃতিত্ব রাখেন।

কবি শহীদ কাদরী ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট চিৎিসাধীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তার নিজ উদ্যোগে কবির মরদেহ দেশে আনা হয়। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতির পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পর কবিকে ঢাকায় দাফন করা হয়।

কবি শহীদ কাদরী ১৯৪২ সালের ১৪ আগস্ট ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাসে জন্মগ্রহণ করেন। দশ বছর বয়সে ১৯৫২ সালে শহীদ কাদরী ঢাকায় চলে আসেন। ১৯৮০ সালের দিকে তিনি প্রবাসজীবন কাটাতে শুরু করেন। চলে যান জার্মানীতে। সেখানে বেশ কয়েক বছর ছিলেন। তারপর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এবং পরে যুক্তরাষ্টে প্রবাস জীবন কাটান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছরসহ জীবনের প্রায় তিন দশক তিনি প্রবাসে বসবাস করেন। প্রবাস জীবনেও তিনি লেখালেখিতে সক্রীয় ছিলেন।

চৌদ্দ বছর বয়সে তার প্রথম কবিতা ছাপা হয় কবি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত একটি সংকলনে। দেশ ভাগের পর আধুনিক বাংলা কবিতায় যে সব কবিদের রচনায় নবযুগের সূচনা ঘটে,শহীদ কাদরী তাদের অন্যতম। তার কবিতায় নিজম্ব চিন্তা ও অনুভূতিতে মানবজীবনের গভীর ভাব-সৌকর্য ও সংস্কৃতির নানা প্রসঙ্গ প্রকাশ পায়। শব্দ চয়ন ও নির্মিতিতে রুপায়ন ঘটে নাগরিক জীবন,মাতৃভূমির স্বাধীনতার স্বপ্নময় গভীর ভাবধারা। তার বিখ্যাত কবিতা ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’য় বলেছেন ‘ভয় নেই/আমি এমন ব্যবস্থা করবো যাতে সেনাবাহিনী/গোলাপের গুচ্ছ কাঁধে নিয়ে/মার্চপাস্ট করে চলে যাবে/এবং স্যালুট করবে/কেবল তোমাকে প্রিয়তমা/ভয় নেই, আমি এমন ব্যবস্থা করবো/বন-বাদার ডিঙ্গিয়ে/কাঁটা-তার,ব্যারিকেড পার হয়ে অনেক রণাঙ্গণের স্মৃতি নিয়ে/আরমার্ড কারগুলো এসে দাঁড়াবে/ভায়োলিন বোঝাই করে/কেবল তোমার দোরগোড়ায় প্রিয়তমা। ’

কবি শহীদ কাদরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ উত্তরাধিকার ’ প্রকাশ পায় ১৯৬৭ সালে। এটি প্রকাশের মধ্যদিয়েই তিনি আধুনিক কবিতায় নিজম্ব অবস্থান সৃষ্টি করেন। এরপর দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘তোমাকে অভিবাদন প্রিয়তমা’ দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে প্রকাশ পায় ‘প্রেম বিরহ ভালবাসার কবিতা ’, ‘কোথাও কোন ক্রন্দন নেই ’ এবং প্রবাসে লেখা কবিতা নিয়ে প্রকাশ পায় ‘ আমার চুম্বনগুলো পৌঁছে দিও ।’

কাব্যসাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য শহীদ কাদরী ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। ২০১১ সালে তাকে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা একুশে পদক প্রদান করা হয়।

শহীদ কাদরীর কবিতা সম্পর্কে বিশিষ্ট কবি ও স্থপতি রবিউল হুসাইন বাসসকে জানাান, সভ্যতাপ্রেমী ও মানবতাবদী কবি শহীদ কাদরী। বাংলা সাহিত্যে তার কবিতায় ভিন্ন এক জগৎ নির্মিত। কবিতায় পাকিস্তানী বর্বর শাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষা ও শব্দচয়নে বাঙালির আশা-আকাংকে তুলে ধরেন। নাগরিক জীবনও অন্যতম উপকরণ হিসেবে তার কবিতায় বিদ্যমান। শুদ্ধতম কবি হিসেবে তিনি বাংলা কবিতায় নিজস্ব আসন তৈরি করেছেন,যা কাব্যসাহিত্যের অমূল্যসম্পদ।

তিনি বলেন,অভিমানে হোক কিংবা অন্য যে কোন কারণে হোক তিনি বিদেশে অনেক বছর বসবাস করেন। কিন্তু প্রবাসে থাকাকালেও এই কবি মার্তভূমি,দেশের মানুষ ও বাঙালি সংস্কৃতিকেই ধারণ করে ছিলেন এবং প্রবাসের কবিতাগুলোও স্বদেশকে কেন্দ্র করেই লিখেছেন। এই থেকে আমাদের বুঝতে অসুবিধে হয় না যে,তার কাব্যসাধনা পুরোটাই মাতৃভাষা ও মানুষের জীবনবোধকে ধারণ করে এগিয়ে গেছে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।

BRTA
Bay Leaf Premium Tea
Intlestore

ভাষা ও সাহিত্য -এর সর্বশেষ

Hairtrade