Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

শ্রাবণ ৫ ১৪৩১, রোববার ২১ জুলাই ২০২৪

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও আহত শিশুর পরিচয় মিলেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২১, ১২ মে ২০২৪

প্রিন্ট:

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মা ও আহত শিশুর পরিচয় মিলেছে

ছবি- সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মহিলার মরদেহ মর্গে এবং  হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার দেড় বছর বয়সী শিশুটির পরিচয় মিলেছে। এর আগে গত দুদিন ধরে শিশুটির অবিরাম কান্নায় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের  পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শিশুটির পরিচয় সন্ধানে পোস্ট করতে থাকলে তারই এক পর্যায়ে স্বজনদের সাড়া মিলে। 

মর্গে থাকা মা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে দুই দিন ধরে পড়ে থাকা নারী ও চিকিৎসাধীন দেড় বছরের শিশুর পরিচয় মিলেছে। শিশুটির নাম মেহেদি হাসান। তার মায়ের নাম জায়েদা (৩২)। তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দুয়ারা উপজেলার কুশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. রমিজ উদ্দিনের মেয়ে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধারণা করা হচ্ছে গত ৯ মে রাতে জায়েদা রাস্তা পার হতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। নিহত জায়েদা ভালুকার স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় শিশু জাহিদকে নিয়ে বসবাস করতেন। তার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল কাপাশিয়ার বাসিন্দা ফারুক মিয়ার সঙ্গে। ফারুক স্থানীয় বাসিন্দা কফিল উদ্দিনের ছেলে। তার ঘরে প্রথম স্ত্রীসহ তিনটি সন্তান রয়েছে। এ কারণে তার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি পরিবার মেনে নেয়নি। ফলে জায়েদা স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ না থাকায় ভালুকার স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

নিহত জায়েদার বড় ভাই মো. রবিন মিয়া বলেন, 'ফেসবুকে ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেলে এসেছি এবং পুলিশের কাছে পরিচয় নিশ্চিত করেছি। আমার বোন ভালুকায় চাকরি করতো এবং ঈদে বাড়ি যেতো। প্রতি সপ্তাহে তার সাথে যোগাযোগ হতো। বোনকে হারিয়ে ভাগ্নেকে নিজের কাছে রেখে বড় করবো। এজন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে বাচ্চাটিকে বাসায় নিয়ে যাবার বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। শিশু মেহেদি পুরোপুরিভাবে সুস্থ হলে ছাড়পত্র দেয়া হবে বলে তাকে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

 ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস বলছেন শিশুর স্বজনের পরিচয় শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হস্তান্তর করা হবেনা এবং তার আগ পর্যন্ত শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স ও চিকৎসকদের মাধ্যমে যাবতীয় চিকিৎসা কার্যক্রম এবং খাবারের বিষয়ে দেখভাল করা হবে। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। রবিবারে মহিলার মরদেহ হস্তান্তরের কথা থাকলেও সমাজসেবা অধিদপ্তর, পুলিশ প্রশাসন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে শিশুটির চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।  

বিভিন্ন মাধ্যমে খোজ নিয়ে জানা যায়, গত ৯ মে রাত ৩টার দিকে ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টার বাড়ি এলাকায় কোলের শিশুটিকে নিয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন মা জায়েদা। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ এ কল করে পুলিশের মাধ্যমে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহিলার মৃত্যু হলে তার মরদেহ লাশঘরের হিমাগারে সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় না জানায় শিশুটির জীবনে অনিশ্চয়তার তৈরি করে। 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোর রাতে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে অজ্ঞাত এক নারী ও শিশুকে গুরুতর আহত অবস্থায় নিয়ে আসে কয়েকজন ব্যক্তি। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে পরদিন রাত সাড়ে আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর মৃত্যু হয়। নাম পরিচয় না পাওয়ায় মরদেহ রাখা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। 

শিশুটি বর্তমানে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার মাথায় এবং হাতে আঘাত রয়েছে। এই ওয়ার্ডের চিকিৎসক ফারজানা কাওছার বলেন, 'শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মায়ের মৃত্যু হয়েছে। অবুঝ শিশুটি অনেক কান্নাকাটি করেছে। তবে আমরা তার চিকিৎসা নিয়মিত মনিটরিং করছি।'

এদিকে মা হারা এই শিশুটির চিৎকারে পরিবেশ ভারী হয়ে যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নেটিজেনরা আবেগতাড়িত হন এবং পরিচয় জানতে চেয়ে হাজার হাজার মানুষ নিজেদের টাইমলাইনে ও বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করতে থাকেন। সেই সূত্র ধরেই স্বজনরা তাদের খুজে পায়।

Walton Refrigerator Freezer
Walton Refrigerator Freezer