ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় কারাভোগের পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বুধবার রাত ১০টা ৮ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর রাত সাড়ে ১২টায় তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগস্থ নিজ বাসভবন ‘চুনকা কুটিরে’ পৌঁছান।
কারামুক্তির পর তিনি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ঘোষণা দেন যে, তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইভীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১২টি মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগেও বহাল থাকে। জামিনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন জানান, তার মক্কেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সত্যের জয় হয়েছে এবং এখন তার পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ফতুল্লা ও সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া পৃথক ১০টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় ২০২৫ সালের ৯ মে তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। বারবার জামিন আবেদন ও আইনি লড়াইয়ের পর উচ্চ আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আইভীর ঘনিষ্ঠ সূত্র ও তাঁর আইনজীবী নিশ্চিত করেছেন যে, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মানসিকভাবে অত্যন্ত দৃঢ় আছেন। তিনি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষের ভালোবাসাই তাঁর শক্তির উৎস। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করে তিনি আগামী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আবারও মেয়রের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হলে তিনি প্রথম নারী মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন এবং টানা তিনটি নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন।




