Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৫ মাঘ ১৪২৫, শুক্রবার ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
Globe-Uro

দ্রুত শনাক্তে বাঁচবে ৯০ শতাংশ স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী


১১ জানুয়ারি ২০১৯ শুক্রবার, ০৮:৫১  এএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


দ্রুত শনাক্তে বাঁচবে ৯০ শতাংশ স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী

ঢাকা : শুধু দ্রুত শনাক্ত করতে না পারার কারণেই স্তন ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ১২ হাজার ৭৬৪ জন নারী, আর মারা যায় ৭ হাজার ১৩৫ জন। দ্রুত শনাক্ত না হওয়ার প্রধান কারণ এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব।

প্রাথমিক স্তরে এ রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে ৯০ শতাংশের বেশি রোগীকে বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের এ রোগ সম্পর্কে সচেতন করা সম্ভব হয়নি। স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হলে এ রোগ অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে রোগী শনাক্তকরণে কমিউনিটি ক্লিনিককে সম্পৃক্ত করা, প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার শনাক্তের পদ্ধতি সম্পর্কে জানানো এবং স্তন ক্যান্সার নির্ণয় ও প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। নারী ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে আক্রান্তের হার ২৩.৯ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১৬.৯ শতাংশ। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ১ লাখ ৪০ হাজার নতুন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে ৪১ হাজার নারী ক্যান্সারের কারণে মারা যান।

আর গ্লোবাল ক্যান্সার স্ট্যাটিটিক্স ২০১৮ (গ্লোবোক্যান) এর তথ্যমতে, প্রতি বছর নতুন করে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে ২০ লাখ ৮৮ হাজার ৮৪৯ জন নারী। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এখন পুরুষদেরও সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। কারণ পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সার দেখা দিচ্ছে। যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার খুবই কম। এক হিসাবে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর ৪১ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তার বিপরীতে মাত্র ৩০০ জন পুরুষ এ রোগে আক্রান্ত হন।

কোনো কারণে স্তনে কোনো চাকা বা পিণ্ড থাকলেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের মধ্যে এ ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তবে সব বয়সের নারীরাই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকে। চিকিত্সকরা বলছেন, মাসিকের পরের সাত দিন নিজে নিজেই স্তনে কোনো চাকা আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। মাসিকের ৩ থেকে ৪ দিন পর নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেন তারা। স্তনের কোথাও চাকার অস্তিত্ব পেলে দ্রুত চিকিত্সকের শরণাপন্ন হতে হবে। এ রোগে প্রাথমিক পর্যায়ে শারীরিক কোনো কষ্ট থাকে না। তাই রোগ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগে রোগী বুঝতেও পারেন না তার স্তন ক্যান্সার হয়েছে। রোগী একেবারে শেষ পর্যায়ে চিকিত্সকের কাছে আসেন। যদি প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করা যায় তাহলে ছোট অস্ত্রোপচারে রোগী পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে।

অনিয়মিত, দীর্ঘস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাসিক হলে তা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া এমন অনেক কিশোরী আছে যাদের ১৩-১৪ বছরের মধ্যে মাসিক হওয়ার কথা থাকলেও দেখা যায় ১০ বছরেই মাসিক হয়ে যায়; তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। অবিবাহিত ও নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। কারণ তারা সন্তানকে কখনো স্তন পান করাননি, তাই ঝুঁকি বেশি থাকে। বংশগত কারণেও নারীদের স্তন ক্যান্সার হয়। যেমন কারও মায়ের যদি স্তন ক্যান্সার হয়, তবে মেয়েও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকে।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রতি বছর নারীদের একবার করে স্তন পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গাইনি অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন। তিনি বলেন, শুধু বাড়িতে নিজে নিজে পরীক্ষা করে বসে থাকলে চলবে না। বছরে একবার বিশেষজ্ঞের দ্বারা স্তন পরীক্ষা (মেমোগ্রাফি) করাতে হবে।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।