Bahumatrik | বহুমাত্রিক

সরকার নিবন্ধিত বিশেষায়িত অনলাইন গণমাধ্যম

ফাল্গুন ১৮ ১৪৩০, শনিবার ০২ মার্চ ২০২৪

কমলগঞ্জের আদমপুর ও মাধবপুরে মণিপুরি মহারাসলীলা উদযাপন

নূরুল মোহাইমীন মিল্টন, নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ২৮ নভেম্বর ২০২৩

প্রিন্ট:

কমলগঞ্জের আদমপুর ও মাধবপুরে মণিপুরি মহারাসলীলা উদযাপন

ছবি: বহুমাত্রিক.কম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে মণিপুরি সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব মহারাসলীলা।কমলগঞ্জের মাধবপুর ও আদমপুর এলাকায় মণিপুরিদের পৃথক দুটি গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে রাস উৎসবের। মৈতৈ ও বিষ্ণুপ্রিয়ারা মণিপুরি মহারাসলীলা পূর্ণিমা তিথিকে সামনে রেখে দিনটিকে উৎসবে পরিণত করেছে।

 রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে উভয় স্থানে বসেছে মেলা। এলাকায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

উপজেলার মাধবপুর শিববাজার জোড়া ম-পে মণিপুরি মহারাসলীলা সেবা সংঘের আয়োজনে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের ১৮১তম এবং আদমপুর মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে মৈতৈ মণিপুরি সম্প্রদায়ের ৩৮তম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে গত একমাস যাবত পাড়ায় পাড়ায় নৃত্যের মহড়াসহ নানা প্রস্তুতি শুরু হয়। মণিপুরি অধ্যুষিত গ্রাম ও পাড়াগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। সোমবার দুপুরে উভয় স্থানে গোষ্ঠলীলা বা রাখালনৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। রাতে অনুষ্ঠিত হবে আলোচনা সভা, গুণীজন সংবর্ধনা ও রাসনৃত্য। 

উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড় মন্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা। অপরদিকে উৎসবস্থল আদমপুরেও যথারীতি রাখাল নৃত্য ও রাসলীলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে মণিপুরি বিষ্ণুপ্রিয়া ও মৈতৈ সম্প্রদায় পৃথক স্থানে আয়োজন করলেও উৎসবের অন্ত:স্রোত, রসের কথা, আনন্দ-প্রার্থনা সবই একই সূত্রে গাঁথা। উৎসবের মূল কথা হচ্ছে বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সত্যসুন্দর মানবপ্রেম।

মণিপুরি ললিতকলা একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা প্রভাস চন্দ্র সিংহ জানান, মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র মণিপুরে প্রথম এই রাসমেলা প্রবর্তন করেছিলেন। মণিপুরের বাইরে ১৮৪২ সালে কমলগঞ্জের মাধবপুরে প্রথম মহারাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। রাস উৎসবে সকালে ‘গোষ্ঠলীলা’ বা ‘রাখালনৃত্য’ হয়। গোধূলি পর্যন্ত চলে এই রাখালনৃত্য। রাত ১২টা থেকে শুরু হয় রাস উৎসবের মূল পর্ব শ্রীশ্রীকৃষ্ণের মহারাসলীলা অনুসরণ। মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের পোশাকে নেচে-গেয়ে কৃষ্ণবন্দনায় ভোর পর্যন্ত চলবে রাসলীলা। রাসনৃত্যে শ্রীকৃষ্ণ, রাধা ও প্রায় ৫০ জন গোপী থাকেন। গোপীর সংখ্যা অনেক সময় কমবেশি হয়।

একটি রজনীকে কেন্দ্র করে মণিপুরিদের সংস্কৃতির এক বিশাল মিলন মেলায় পরিণত হয়। রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুরের মণিপুরি পাড়া সমুহে চলে প্রস্তুতি ও উৎসবের আমেজ। রং ছড়িয়ে মন্ডপগুলোকে সাজানো হচ্ছে নতুন সাজে। রাসের দিন দুপুরে উৎসবস্থল মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে হবে গোষ্ঠলীলা বা রাখাল নৃত্য। রাতে জোড় মন্ডপে রাসের মূল প্রাণ মহারাসলীলা। রাস উৎসবে মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশাপাশি অন্যান্য জাতি, ধর্মের হাজার হাজার লোক মেতে উঠবে আনন্দ-উৎসবে। উৎসব উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন স্থানসহ ভারত থেকেও মণিপুরি সম্প্রদায়ের লোকজন ছুটে আসেন। 

কমলগঞ্জ থানার ওসি সঞ্জয় চক্রবর্তী জানান, নির্বিঘেœ মণিপুরি মহারাসলীলা উপলক্ষে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

Walton Refrigerator Freezer
Walton Refrigerator Freezer