Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১ কার্তিক ১৪২৫, বুধবার ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
Globe-Uro

২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত ছিল: আদালত


১০ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০১:৩৬  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত ছিল: আদালত

ঢাকা : আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করতেই ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রযন্ত্র জড়িত ছিল বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছেন আদালত।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালত থেকে বের হয়ে একথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

তিনি বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট যে নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল সেই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মাননীয় আদালত বলেছেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যেভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল এবং শেষ বুলেটটা শেখ রাসেলের ওপর দেয়া হয়েছিল ঠিক একই অভিপ্রায়ে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট, তারেক রহমান, মুফতি হান্নান, আব্দুস সালাম পিন্টুসহ এরা একত্রিত হয়ে একটি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছিল।’

তিনি জানান, মামলার বিবেচ্য বিষয় ছিল ১২টি। এই বারোটি বিষয়কে বিবেচনা করে ১৯ জন আসামিকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে এবং তারেক রহমানসহ অন্য ১৯ জনকে যাবজ্জীবন দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন হাওয়া ভবন এক ও অভিন্ন লক্ষে একত্রিত হয়ে তারেকরহ এই কাজটা সংঘটিত করেছে।

হাওয়া ভবন সম্পর্কে আদালতের পর্যবেক্ষণের বিষয়য়ে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘তারা এক ও অভিন্ন উদ্দেশে এই ষড়যন্ত্র করে আইনের আশ্রয়ে এই অপরাধীদের সোপর্দ না করে তারা এই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে কাজ করেছে।’

এরআগে বেলা ১২টার দিকে ওই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আদালত। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও হারিছ চৌধুরীসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আরো ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দীন এই রায় দেন। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর আগে সংঘটিত নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিচারিক আদালতে শেষ হলো।

২০০৪ সালের একুশে আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে দলীয় সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমান`সহ ২৪ জন, আহত হন বহু মানুষ।

এ ঘটনায় পরদিন রাজধানীর মতিঝিল থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। তদন্তের নামে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির জজ মিয়া নামে একজনকে আটক করে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে গ্রেনেড হামলার স্বীকারোক্তি আদায় করার ঘটনা নাটকীয়তার জন্ম দেয়। গণমাধ্যমে জজ মিয়ার আসল পরিচয় বেরিয়ে এলে থমকে যায় এ মামলার তদন্ত।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আবারো শুরু হয় এ মামলার তদন্ত। হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে, ২০০৮ সালের ৯ জুন জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান সহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেয় সিআইডি। শুরু হয় বিচার।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের নির্দেশে আবারো অধিকতর তদন্ত হয় আলোচিত এ মামলার। মুফতি হান্নান আবারো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে হামলার নেপথ্যে বিএনপি নেতা পলাতক তারেক রহমানের নাম উঠে আসে। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই তারেক, বাবরসহ আরো ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক চার্জশিট দেন তদন্ত কর্মকর্তা। ২০১২ সালের ১৮ই মার্চ শুরু হয় দ্বিতীয় দফায় বিচারকাজ।

বিচার চলাকালে মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ তিনজনের অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হলে বিচার থেকে তাদের অব্যাহতি দেয়া হয়। ৪৯ আসামির মধ্যে বাবরসহ ২৩ জন আসামি কারাগারে আছেন, ১৮ জন পলাতক এবং ৮ জন আছেন জামিনে। আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২২৫ জন ও আসামিপক্ষে ১২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এতে সময় লাগে ১১৯ কার্যদিবস।

 

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।