Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
২৯ আশ্বিন ১৪২৬, মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩:২৮ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

সৌদি খেজুর চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা, পথ দেখাচ্ছেন পিরুজালীর বাদল


০৪ ডিসেম্বর ২০১৬ রবিবার, ০১:৫৯  এএম

সৈয়দ মোকছেদুল আলম

বহুমাত্রিক.কম


সৌদি খেজুর চাষে উজ্জ্বল সম্ভাবনা, পথ দেখাচ্ছেন পিরুজালীর বাদল

পিরুজালী (গাজীপুর) ঘুরে এসে: সৌদী খেজুর চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। উন্নত জাতের এবং বিশ্ব মানের খেজুর উৎপাদনের অনুকূল আবহাওয়াও বিদ্যমান বাংলাদেশে।

গাজীপুরের পিরুজালীতে গড়ে উঠা একটি সৌদী খেজুরের বাগান এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। ‘সৌদী ডেট পাম ইন বাংলাদেশ’-নামে এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে বাগানটি। বাংলাদেশে সৌদী খেজুর চাষকে জনপ্রিয় করার লক্ষ্য নিয়ে একটি সমন্বিত প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছেন এর উদ্যোক্তা।

পৃথিবী সেরা আজুয়াসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের সৌদী খেজুর গাছ সতেজ স্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে উঠছে এই বাগানে। কিছু গাছে বাধাও ছাড়তে শুরু করেছে। মৌসুম শুরু হবে ফেব্রুয়ারিতে। থোকা থোকা টসটসে রসালো খেজুরে গাছ ভরে উঠার অপেক্ষা কেবল এখন। পাশাপাশি নার্সারিতে সঠিক পরিচর্যায় হাজার হাজার মূল্যবান খেজুর চারা দিনদিন আরো পরিণত হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশে বছরে ৩০ হাজার মে. টন খেজুরের চাহিদা রয়েছে। প্রায় পুরোটাই এখন বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভর। পরিকল্পিত উৎপাদন ব্যবস্থায় দেশের এ চাহিদা মেটানো গেলে এ খাতে ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্্রা সাশ্রয় করা যেমন সম্ভব, তেমনি রপ্তানিযোগ্য লাভজনক পণ্য হিসেবে সৌদী খেজুরের চাষ আত্মকর্মসংস্থানের সেরা ক্ষেত্রও হয়ে উঠতে পারে।

চার-পাঁচ বছর বয়স থেকে ফলন দিতে শুরু করে সৌদী খেজুর গাছ। বেঁচে থাকা খেজুর গাছ টানা ১৫০ বছর পর্যন্ত ফলন দিয়ে থাকে। প্রায় বাংলাদেশের মতই মাটি ও আবহাওয়ায় পাকিস্তান সৌদী খেজুর চাষ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও বছরে ৯০ হাজার টন রপ্তানি করে থাকে। বিশ্ব জুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক তথ্যগুলো বাংলাদেশে সৌদী খেজুর চাষের বিপুল সম্ভাবনার কথাই বলছে।

খেজুরের বড় আকারের বাজার রয়েছে এ দেশে। দিন দিন চাহিদাও বাড়ছে। আমাদের দেশে যে উন্নত জাতের খেজুর চাষ করা সম্ভব কয়েক বছর আগেই প্রমাণ করেছেন কয়েকজন চাষি। তাই উৎসাহী অনেকেই নতুন নতুন খেজুর বাগান গড়ে তুলছেন। লাভজনক হওয়ায় এদিকে আগ্রহও বাড়ছে চাষিদের।

পিরুজালীর বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান দীর্ঘদিন সৌদী আরবে বিশাল খেজুরের বাগানে সুপারভাইজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল শিক্ষক হিসেবেও একযুগ ধরে নিষ্ঠার সাথে শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ায় নিয়োজিত রেখেছেন নিজেকে।

১৯৮৪ সালে ফার্মাসিস্ট হিসেবে মক্কায় ১৪ মাস কাজ করেন ১৫ হাজার টাকা বেতনে। এরপর জেদ্দায় একটি খেজুর বাগানে সুপারভাইজার পদে ৪৫ হাজার টাকা বেতনে চাকুরি শুরু করেন। এখানে সাত বছর ছিলেন। দেশে ফেরার পর একমাত্র ছেলে নজরুল ইসলাম বাদল বাবার অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে এক কঠিন স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজে হাত দেন।

সৌদি খেজুর চাষ যে অত্যন্ত লাভজনক ও বাংলাদেশের চাষিদের জন্য খুবই সম্ভাবনাময় তা প্রমাণ করতে উঠেপড়ে লাগেন। বসত বাড়ির আড়াই একর জমি, বাবার অভিজ্ঞতা, শ্রম-মেধা আর অর্ধ কোটি টাকার বেশি পুঁজি বিনিয়োগ করে গড়ে তুলেন ‘সৌদী ডেট পাম ইন বাংলাদেশ’Ñ নামক বাগান, নার্সারি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। নিরন্তর প্রচেষ্টার দ্বারা নজরুল ইসলাম বাদল বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে খেজুর চাষাবাদকে সার্বিকভাবে আরো উচ্চতা এবং আস্থায় এগিয়ে নিয়ে এসেছেন।

তিনি জানান, দেশে অন্য কোন নার্সারিতে যে চারা কিনতে এক-দেড় লাখ টাকা লাগে তা তিনি ১৫ হাজারে দিতে পারছেন। জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় বাগানবাড়ি নূহাশ পল্লীর কাছেই অবস্থিত এই খেজুর বাগান। এই বাগান থেকে কিছু চারা নিয়ে সেখানে লাগানো হয়েছে।

সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হাসান উদ্দিন সরকার গাজীপুরের বাঘের বাজার এলাকায় তাঁর পিকনিক স্পট সাফা গার্ডেনে এখানকার খেজুর গাছ লাগিয়েছেন। দেশ-বিদেশ থেকে এরকম আগ্রহী অনেকেই এ বিষয়ে জানতে এবং বাগান করার জন্য বাদলের সাথে যোগাযোগ করছেন। কারণ এখানে বাগানের পাশাপাশি খেজুর চারার নার্সারি আছে। চারা বিক্রির পাশাপাশি কিভাবে রোপণ ও পরিচর্যা করতে হবে সে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও আছে।

নজরুল ইসলাম বাদল ২০০৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত-এ অনার্স সম্পন্ন করেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে স্বল্প পরিসরে তিনি খেজুর বাগানের কাজ শুরু করেন। সৌদি আরব, ভারতের রাজস্থান থেকে এবং স্থানীয়ভাবে উন্নত জাতের চারা ও বীজ সংগ্রহ করেন। দিনে দিনে বাগানের আকার ও আয়তন বেড়েছে। অভাবনীয় দৃষ্টান্তের এক সমন্বিত খেজুর বাগান গড়ে তুলেন। বাগানে একশরও বেশি সতেজ-সবুজ খেজুর গাছ আছে।

সৌদির আজুয়া, দোবাই ও গুজরাটের বারহী ছাড়াও আনবারা, রুথান, মরিয়ম ইত্যাদি জাতের রোপণ উপযোগী ছয় হাজার চারা পলি ব্যাগ ও ড্রামে লাগানো আছে। এর মধ্যে ৫১টি দুই বছর বয়সী অপসর (কলমচারা) চারা আছে। এগুলো প্রতিটির দাম কম পক্ষে ১৫ হাজার টাকা।

গত বছর বাগানের কয়েকটি গাছে আশাব্যঞ্জক ফলন আসে। প্রথম ফলনের খেজুরের অবাক করা ভাল স্বাদ ও মান ছিল। বাদল জানান, গাছের পরিপক্কতা বাড়ার সাথে সাথে ফলনও বাড়তে থাকে। পাঁচ বছর বয়স হলে প্রথমে ১২-১৫ কেজি, পরে ছয় বছর বয়সে ৫০ কেজি, সাত বছরে ১০০-২০০ কেজি এবং আট বছরের পরিপূর্ণ বয়সে একটি খেজুর গাছ বছরে ২৫০ কেজির বেশি ফলন দিয়ে থাকে। এর বেশি ফলন দিলে বাধা কেটে দিয়ে অতিরিক্ত ভার সহনীয় পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হয়।

সরেজমিনে বাগানের সবকিছু ঘুরিয়ে দেখানোর সময় নানা জিজ্ঞাসার উত্তর দিচ্ছিলেন বাদল। চাষাবাদের বিষয়ে তিনি জানান, খেজুর গাছ সাধারণত সব ধরণের মাটিতে চাষ করা যায়। এমনকি অনুর্বর ও অধিক লবনাক্ত অঞ্চলেও খেজুর গাছ হয়ে থাকে। তবে বেলে ও দোআঁশ মাটিতে ভাল জন্মায়। দিনে অন্তত ৫ থেকে ৮ ঘন্টা রোদ থাকে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে। প্রচুর পরিমাণ পানি সেচের এবং প্রয়োজনে নিষ্কাশনেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে। একটি থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব হবে ১৬ থেকে ২০ ফুট।

তিনি জানান, প্রতি একরে ১০০ থেকে ১২০টি গাছ লাগানো যাবে। পরাগায়নের জন্য ১০টি স্ত্রী খেজুর গাছের সাথে একটি করে পুরুষ গাছ থাকতে হবে। প্রতিটি গাছ রোপনের জন্য তিন ফুট করে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীর গর্ত করতে হবে। ২০/২৫ কেজি গোবর, সমপরিমাণ অর্থাৎ ২৫ ভাগ ভিটি বালু, ২৫ ভাগ মাটি এবং ২৫ ভাগ গর্তের মাটি সঠিক প্রক্রিয়ায় সংমিশ্রণ করে গাছ লাগাতে হবে। বাণিজ্যিক চাষের জন্য কমপক্ষে এক বিঘায় ৪০টি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়ে শুরু করতে হবে। তিন, সাড়ে তিন বছরের গাছ লাগিয়ে পরের দুই বছর পরিচর্যা করা পর্যন্ত পুজি বিনিয়োগ হবে ৬ লাখ টাকা। প্রতিটি গাছের গোড়া থেকে গড়ে ১০টি করে চারা পাওয়া যায়। ৪০টি গাছ থেকে বছরে ৪০০ টি চারা সংগ্রহ করা যাবে। চার বছরেই পুজি উঠে আসবে।

বাদল বলেন, আমাদের দেশে সাধারণত ‘সি’ গ্রেডের সৌদি খেজুর বাজারে বেশি দেখা যায়। ভাল মানের আজুয়া খেজুর এখানে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। অন্যান্য উন্নত জাতের ভাল মানের খেজুরের দাম ২ হাজার টাকা প্রতি কেজি।

বাদলদের বসত বাড়ির দক্ষিণ প্রান্তের খোলামেলা দুই বিঘা জায়গা জুড়ে সৌদি খেজুরের মূল বাগান। বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করা বাগানের সামনের দক্ষিণ দিকে বিস্তীর্ণ খোলা প্রান্তর। অপেক্ষাকৃত নীচু জমি ২০০ গজ দূরত্বে লবলং নদীর প্রান্ত স্পর্শ করেছে। অপূর্ব রোদ্রকরোজ্বল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মনপ্রাণ এক আশ্চর্য অনুভুতির স্নিগ্ধতায় পরিশুদ্ধ করে তোলে।

বাগানে বাঁশের বেড়ার পাশ ঘেঁষে সারবেঁধে লাগানো হয়েছে ড্রাগন ফুড গাছ। মনিফনসার মত লতানো কাঁটাযুক্ত সবুজ ডগাগুলো মাথার ওপর নুয়ে পড়ে যেন সাদরে অতিথি বরণ করছে। এ বিষয়ে বাদল জানান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে বিপুল চাহিদা ড্রাগন ফুডের। বছরে প্রতি গাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়।

বাজার সম্প্রাসারণের বিষয়ে জানান, তার হাত ধরে দেশের বিভিন্ন জেলাতে খেজুর বাগান সৃষ্টি হচ্ছে। রোপন করা গাছের বেড়ে উঠার ফলাফলও বেশ সন্তোষজনক। তার মতে, সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভাল ফলন আসবেই। বাংলাদেশের আবহাওয়া যে খেজুর চাষের জন্যে উপযোগী তা দেশী খেজুর গাছই প্রমাণ করে। আর সৌদির জাত গুলোকে একটু আলাদা ভাবে যত্ন নিলে ভাল ফলন আসে। মাঠ পর্যায়ে তা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে খেজুরের বিশাল বাজার রয়েছে। যদি প্রতিটি জেলাতে পরিকল্পিত বাগান গড়ে তোলা যায় তাহলে যে ফলন আসবে তাতে করে আগামী দশ বছর পর খেজুর আমাদানীর প্রয়োজন হবে না।

খেজুর চাষে আগ্রহীদের কিভাবে সাহায্য করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত চারা সংগ্রহ করে তা থেকে টিস্যু পদ্ধতিতে চারা তৈরি করছি। এই নার্সারীতে বর্তমানে রোপনের উপযোগী ছয় হাজার চারা আছে। সঠিক নিয়মে রোপণ করে যত্ন নিলে আগামী ৫/৬ বছরের মধ্যে সেগুলোতে ফলন আসবে ।

যারা এখান থেকে চারা নিয়ে বাগান তৈরি করেছেন তাদের বাগান পরিদর্শন করে কোন সমস্যা থাকলে সমাধান করে দেন তিনি। খেজুর চাষের পদ্ধতি রপ্ত করার বিষয়ে বাদল জানান, তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান সৌদিতে বেশ বড় আকারের খেজুর বাগানের দীর্ঘদিন দেখাশোনা করতেন। সেখানে কাজ করার সুবাদে খেজুরের চাষ সর্ম্পকে অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

এক যুগেরও বেশি সময় খেজুরের চাষ পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এ বিষয়ে তার দক্ষতা অনেক বেশি। খেজুর চাষের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করলে তার বাবাই তাকে উৎসাহ দেন এবং প্রথমে বাবার কাছ থেকে এবং জ্ঞানেন্দ্র নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে হাতে কলমে শিক্ষা লাভ করেন। জমি তৈরি থেকে শুরু করে বাগান তৈরি করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

নতুন চাষীদের বিষয়ে জানান, খেজুর চাষ করে সবাই লাভবান হতে পারেন। খেজুর গাছ ১০০ বছরের বেশি সময় ফলন দেয়। তাই পরবর্তী খরচও কম। গাছের পরিচর্যায় জৈব সার এবং গোবর ব্যবহার করার কারণে খরচের চেয়ে কয়েকগুন বেশি আয় হয় খেজুর চাষ থেকে।

তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করে আগামী দিনে দেশের প্রতিটি জেলাতে খেজুরের বাগান তৈরি করবেন তিনি। নিজেদের উৎপাদিত খেজুরেই আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের চাহিদা পূরণ করবেন।

ইতোমধ্যে অনেকেরই দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে নজরুল ইসলাম বাদলের বাগানের প্রতি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হামিদুর রহমান সরেজমিনে নজরুলের খেজুর বাগানটি পরিদর্শন করে গেছেন। চারার ধরণ এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি ভাল ফলনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই উদ্যোগকে স্বাগতও জানান।

বাদলদের বাড়িতে খেজুর গাছের পাশাপাশি শতাধিক লটকন গাছ আছে। বছরে লাখ টাকার বেশি শুধু লটকন বিক্রি থেকেই আয় হয়। আছে ড্রাগন ফল ও মালটার বাগান। এসব গাছ্ওে ফলন আসতে শুরু করেছে। গত বছর ৫টি গাছে ২০০ মালটা পাওয়া গেছে। তিন বছর বয়সের ১০০টি করে আম্্রপালি ও হাড়িভাঙ্গা জাতের আম গাছ আছে। এছাড়াও কাঁঠাল, কলা, পেপে, বেল, বাতাবি, লেবু, সফেদা, আমলকি, থাইল্যান্ডের মিষ্টি তেঁতুল, করমচা, নারকেল ইত্যাদি ফল এবং সেগুন, মেহেগনি, বাঁশ প্রভৃতি কাঠ জাতীয় গাছ বাড়ির চারপাশ ঘিরে বেড়ে উঠেছে। আশে পাশের মানুষ তার বাড়িতে প্রতিদিনই ভীড় করেন এসব প্রত্যক্ষ করার জন্য।

বাদলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুর রহমান আগ্রহের সাথে জানালেন, খেজুর পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পরিপূর্ণ। খাদ্য শক্তি থাকায় খেজুর শারিরীক দুর্বলতা দূর করে, স্নায়বিক শক্তি বৃািদ্ধ করে, পেটের ক্যানসার প্রতিরোধ করে, গ্লুকোজ ও শর্করার ঘাটতি পূরণ করে, রক্ত উৎপাদনকারী খেজুর হজম শক্তি বর্ধক, যকৃত ও পাকস্থলীর শক্তি বৃদ্ধি করে, রুচি বাড়ায়, দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধি করে, ত্বক ভাল রাখে, কোলস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, পক্ষাঘাত এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশ রোগের জন্য উপকারী, ফুসফুস সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যানসার রোধ করে এবং সর্বপরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

তিনি বাড়ির উঠানে নিয়ে গিয়ে দেখান, খোপরীতে ৩০ জোড়া কবুতর পালতে শুরু করেছেন দুই মাস আগে। এর মধ্যেই ৭/৮ জোড়া কবুতর তাদের ডিমে তা দিতে বসে গেছে। ঘরের ভেতরে টেনে নিয়ে গিয়ে দেখালেন ইলেকিট্রক পদ্ধতিতে আমেরিকান তারকী মুরগীর ডিম ফুটানোর প্রজেক্ট। তারকি মুরগী এক নাগারে তিন বছর ডিম দেয়। একেকটি ডিমের দাম ৩০০ টাকা। ৮/১০ কেজি ওজন হয় এগুলোর। অত্যন্ত সুস্বাদু তারকীর প্রতি কেজি মাংসের দাম ১২০০ টাকা।

হৃদরোগীর জন্য উপকারী ও ক্যান্সার প্রতিরোধক তারকীর মাংস কোলস্টেরলমুক্ত। ১০টি তারকী মুরগী ও ৫টি মোরগ পালন করছেন তিনি। প্রতিটি ৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। সেই মুরগীর ১০০টি ডিম গত ২০ নভেম্বর ঘরোয়া হ্যাচারীতে ফুটানোর জন্য ৩৭ ডিগ্রী তাপে রেখেছেন। ২৮ দিন লাগবে এগুলো ফুটানোর জন্য।

খেজুর বাগান করার বিষয়ে জানতে ও সহযোগিতা পেতে যারা আগ্রহী তাদের জন্য মুঠোফোন নং ০১৯৮৮-৬৬ ৮৮ ৯৯-তে যোগাযোগ করার সুযোগ অবারিত রেখেছেন নজরুল ইসলাম বাদল।

চমৎকার এই ব্যক্তিউদ্যোগ বাংলাদেশের অসংখ্য শিক্ষিত বেকারের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের আলোকিত পথ নির্দেশনা হতে পারে।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।