Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, বুধবার ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

সৈয়দপুরে শুরু হয়েছে রাস পদ্ধতিতে পুকুর ছাড়াই মাছ চাষ


১৭ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০৩:১৪  পিএম

বহুমাত্রিক ডেস্ক


সৈয়দপুরে শুরু হয়েছে রাস পদ্ধতিতে পুকুর ছাড়াই মাছ চাষ

ঢাকা : নীলফামারী জেলর সৈয়দপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে পুকুরের পরিবর্তে একাধিক বিভিন্ন আকৃতির ট্যাংকে মাছ চাষ। আধুনিক এ পদ্ধতিটির নাম রিসার্কুলেটিং একুয়াকালচার সিস্টেম সংক্ষেপে ‘রাস’। অল্প জায়গায় এমনকি বাড়ির ছাদের ওই পদ্ধতিতে মাছের চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব।

উপজেলার বাঙাগালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজিপাড়া গ্রামের বাড়ির উঠানে প্রকল্পটি স্থাপন করেছেন মো. কামরুজ্জামান কনক। ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছাষে সফলতার মুখ দেখতে শুরু করেছেন তিনি।

প্রকল্পটিতে বাড়ির উঠানে ৪টি ট্যাংকে মাছ চাষ শুরু করেছেন তিনি। প্রতিটি ট্যাংকে ১০ হাজার লিটার পানি ধারণ করা সম্ভব হলেও ৮ হাজার লিটার পানি ভর্তি করে ছেড়েছেন ৮ শ কেজি করে মাছের পোনা। প্রাথমিক পর্যায়ে তেলাপিয়া, শিং ও পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ছেড়েছেন এসব ট্যাংকে।

এ পদ্ধতিটিতে বছরে তিনবার মাছ উৎপাদন করা সম্ভব। প্রকল্পটি স্থাপনে তার খরচ হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

তিনি জানান, পদ্ধতির উদ্ভাবন চীনে হলেও বর্তমানে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশে। লাভজনক হওয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে। এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো অল্প ঘনত্বে অধিক মাছ উৎপাদন করা। এ পদ্ধতিতে একই পানি পুনরায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে পরিশোধিত হয়ে মাছের ব্যবহারযোগ্য করে তোলা। যার ফলে পানি অপচয়ের সুযোগ নেই। এছাড়াও মাছের জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য প্রয়োজন সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। সোলার স্থাপন করে কমিয়ে আনা সম্ভব বিদ্যুৎ খরচ। নিবিড় পরিচর্যার মধ্যে থাকায় এটিন্টবায়েটিক এবং কোন রাসায়নিক সারের

প্রয়োজন হয়না। ফলে পুকুরে চাষকরা মাছের চেয়ে কয়েকগুণ সুস্বাদু হয়।
তিনি বলেন, কাজটি শুরুর আগে পদ্ধতিটি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা প্রয়োজন। পুকুরে যারা মাছ চাষ করেন সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক এ পদ্ধতিটির বিষয়ে সামান্য প্রশিক্ষণেই কাজটি শুরু করতে পারেন।

তিনি আরো বলেন, এ পদ্ধতিতে ছোট পোনা ছাড়া উচিৎ নয়। একটু বড় পোনা ছাড়লে কম সময়ে উৎপাদন বেশী হয়। ওই বড় পোনায় বছরে চারবার হারভেস্টিং করা সম্ভব। এতে প্রতি কেজি মাছের উৎপাদন খরচ পড়ে ২০০ টাকা। পাবদা, দেশী শিং ও মাগুর, গুলশা, টেংরা জাতের মাছ চাষ করলে লাভ বেশী। বিদ্যুতের পরিবর্তে সোলার ব্যবহার করে এর খরচ কমানো সম্ভব।

কামরুজ্জামান কনক এজন প্রকৌশলী। ইলেকট্রিক এ- ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে লেখাপড়া করেছেন তিনি। লেখাপড়া শেষে চাকুরী নিয়েছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডে। কিন্তু সেখানে তার মন বসেনি। ফিরে এসে নেমেছেন নূতন ওই পদ্ধতিতে মাছ উৎপাদনের কাজে।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের দেশে ক্ষেতের জমি অনেক কমে আসছে। যদি আমরা অধিক হারে পুকুর কাটি তাহলে আমাদের জমি অনেক কমে যাবে। পুকুর না কেটে অল্প জমিতে এ পদ্বতিতে পুকুরের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি মাছ উৎপাদন করা সম্ভব।

চাকুরীতে ছেড়ে একাজে নিজেকে নিয়োজিত করার ব্যাপারে বলেন, নূতন ওই পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করে নিজের আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি প্রযুক্তিটি এলাকায় ছড়িয়ে দিতে চাই। যাতে দেশের বেকার যুবকরা একাজে মনোনিবেশ করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারে।

জেলা মৎস কর্মকর্তা মো. আশরাফুজ্জামান বলেন,‘পদ্ধতিটি একেবারেই নূতন হওয়ায় আমরা ফলাফলের অপেক্ষায় আছি। প্রকল্প স্থাপনে একটু খরচ বেশী হলেও সফল হলে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষের বিল্পব ঘটানো সম্ভব হবে।’

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।