Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
৩০ কার্তিক ১৪২৬, বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

সাহসী বাংলাদেশিরা টিকে থাকতে জানে : আ স ম মিরন 


৩০ জানুয়ারি ২০১৭ সোমবার, ০৫:০৩  এএম

নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


সাহসী বাংলাদেশিরা টিকে থাকতে জানে : আ স ম মিরন 

ঢাকা : ‘...সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা আমি মনেকরি-বাংলাদেশিরা প্রচণ্ড সাহসী, তারা যেকোনো অবস্থায় টিকে থাকতে জানে। দুর্ভিক্ষের সময়ও বাংলাদেশ টিকে থাকতে পারে। একাত্তরের যুদ্ধের পর দেশে কোনো অবকাঠামো ছিল না। আজকের বাংলাদেশের দিকে যখন তাকাই মিলাতে পারি না’

-আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলছিলেন যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডেনবড়ার কমিউনিটি কাউন্সিলর বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের সন্তান আ স ম মিরন। দেশে বেড়াতে এসে রোববার রাতে তিনি এসেছিলেন বিশেষায়িত অনলাইন নিউজপোর্টালবহুমাত্রিক.কম এর অফিসে।

এসময় আ স ম মিরন মতবিনিময় করেছেন পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম সহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সাথে। কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে বিশ্বজুড়ে তৈরী হওয়া উৎকণ্ঠা, যুক্তরাজ্যে ব্রেক্সিট পরবর্তী অর্থনৈতিক অচলবস্থা, স্কটল্যান্ডবাসীর স্বপ্ন ও স্বদেশ নিয়ে তাঁর নানা ভাবনা নিয়েও। 

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শরণার্থীদের মাঝে প্রচণ্ড উদ্বেগ তৈরী করছে। বাংলাদেশিদের তাতে কতটা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ রয়েছে-জানতে চাওয়া হয়েছিল এডেনবড়ার কমিউনিটি কাউন্সিলর আ স ম মিরনের কাছে। 

উদ্বেগের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা সাহসের সাথেই সব মোকাবেলা করবে।’ শিগগির এ উৎকণ্ঠা প্রশমিত হবে বলেও মনে করেন তিনি। 

যুক্তরাজ্যের আলোচিত ব্রেক্সিট নিয়ে জিজ্ঞাসা ছিল আ স ম মিরণের কাছে, বিশেষ করে আর্থিক সেক্টরে তা কী ধরণের প্রভাব ফেলেছে? 

জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা (স্কটল্যান্ডের নাগরিকরা) চেয়েছিলাম ব্রেক্সিট না হোক। স্কটল্যান্ড স্বাধীন হোক এই রেফারেন্ডাম অনেক আগেই চেয়েছি আমরা, হয়ত আগামীতে আবার চাইব। তবে আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকতে চেয়েছি। ব্রেক্সিটের সময় বরিস জনসন ও নাইজেল ফরাস (এই আন্দোলনের নেতা) জাতিকে যেভাবে লিড করেছে আমরা তা চাইনি।’

‘ব্রেক্সিটের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী-সে কথাটা অনেকেরই জানা ছিল না। যারা ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন-তারা কী কারণে কেন ভোট দিয়েছেন অনেকে নিজেরাই জানেন না। তাদের কেউ কেউ পরে বলেছেন, পক্ষে ভোট দিলেও তারা ভেবেছেন ব্রেক্সিট হবে না। ব্রেক্সিটের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনো ভাটা পড়ুক আর না পড়ুক-প্রবাসী বাংলাদেশিদের অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব পড়েছে’-যোগ করেন আ স ম মিরন। 

পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ব্রেক্সিটের পূর্বে পাউন্ডের দাম ছিল ১১৫-১২০ টাকায় উঠানামা করছিল। ব্রেক্সিটের পর তা নেমে এল ১০০’তে। এখন আরও কমেছে। এটা হচ্ছে সরাসরি প্রভাব। আমরা যারা ব্রেক্সিটের বিপক্ষে ছিলাম, আমরা চাইব ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকতে। এখানে স্কটিশ পার্লামেন্ট আর ওয়েস্টমিনিষ্টারের একটি বিষয় আছে। তবে আমরা এই কণ্ঠকে আগামীতে আরও সোচ্চার করব।’

স্বদেশের উন্নয়নে আশাবাদী এই প্রবাসী বাংলাদেশি বলেন, ‘কোনো দেশের উন্নয়নই সেদেশের সরকার পুরোপুরি করতে পারে না। বেশির ভাগ উন্নয়ন জনগণই করে। এখানেও তাই হচ্ছে।’

এজন্য একটি সরকারকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় দেওয়ার পক্ষেও মত রয়েছে তাঁর। তিনি মনে করেন, একটি সরকার দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়ন বেগবান হয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশিরা যত বৈরী অবস্থার মাঝেই পড়ুক না কেন-সেই অবস্থা থেকে উঠে আসার সব ধরণের শক্তিও তাদের রয়েছে। কিভাবে নিজেদের এগিয়ে নিতে হয় তারা তা জানে।’

অচিরেই প্রকাশিত হবে ‘যেভাবে স্কটল্যান্ডের কাউন্সিলর হয়ে উঠলেন কিশোরগঞ্জের মিরন’

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।