Bahumatrik :: বহুমাত্রিক
 
১৫ শ্রাবণ ১৪২৮, শনিবার ৩১ জুলাই ২০২১, ১:১৪ পূর্বাহ্ণ
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর

সাংবাদিক নেতা মিজানুর রহমান তোতার মৃত্যু : স্ত্রী কবরে পাশে দাফন


১৮ জুলাই ২০২১ রবিবার, ১২:৪৯  এএম

কাজী রকিবুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক.কম


সাংবাদিক নেতা মিজানুর রহমান তোতার মৃত্যু : স্ত্রী কবরে পাশে দাফন

যশোর : প্রেস ক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের বিশেষ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তোতা শনিবার সকালে যশোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ( ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দুপুরে জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে।

মিজানুর রহমান তোতার ছেলে শাহেদ রহমান বলেন, মিজানুর রহমান তোতা বেশকিছু দিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। এর মধ্যে তার করোনা নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। এতে রিপোর্ট নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। ৩ জুলাই বাসায় তিনি স্ট্রোক করেন। এ সময় তার অক্সিজেন লেভেলও (৩৮) অনেক কমে যায়। এসময় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে অক্সিজেন লেভেল কিছুটা উন্নতি হয়। শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়েছে।

জোহরবাদ নতুন খয়েরতলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে মিজানুর রহমান তোতার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিক ছাড়াও রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশিরা অংশ নেন। এর আগে হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তার নূতন খয়েরতলার বাসভবনে। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তোতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তার স্ত্রী রেবা রহমানের কবরের পাশে তাকে শায়িত করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান তোতার জন্ম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ-সংলগ্ন এলাকায়। সেখানে তিনি বেড়ে ওঠেন। ঝিনাইদহ কে সি কলেজে পড়াকালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় দৈনিক স্ফুলিঙ্গের মাধ্যমে গণমাধ্যমে হাতেখড়ি হয়। পরে তিনি দৈনিক আজাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। দৈনিক ইনকিলাব বাজারে আসার পর তিনি এই পত্রিকায় থিতু হন। জেলা প্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিশেষ প্রতিনিধিও হয়েছিলেন।

অবিভক্ত যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা ছাড়াও তিনি প্রেসক্লাব যশোরের একাধিকবারের সভাপতি ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কয়েকটি বই রয়েছে বাজারে। কয়েক বছর আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে তার শরীরের একাংশ অকেজোপ্রায় হয়ে যায়। এর পর তিনি আর পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। সাংবাদিকতায় ছুটাছুটিও থেমে যায় অনেকটাই। এই সময়কালে তিনি কবিতা লেখালেখিতে মনোযোগী হন।

গেল মাসের শেষ সপ্তাহে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। করোনার উপসর্গ থাকায় তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) জেনোম সেন্টারে পাঠানো হয়। কিন্তু ফলাফল নেগেটিভ আসে। এর কয়েকদিনের মাথায় দ্বিতীয় বারের মতো তার মস্কিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। সেই দিন তাকে বেসরকারি কুইন্স হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা তাকে কোভিড-১৯ রোগী বলে শনাক্ত করেন।

পরীক্ষায় দেখা যায় তার ফুসফুসের প্রায় ৬৫ শতাংশ আক্রান্ত। সাথে সাথেই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা রেড জোনে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা দেওয়া হয়। শেষ দিকে তার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছিল। একপর্যায়ে ঘণ্টায় দুই-তিন লিটার অক্সিজেন চলছিল তার শরীরে। কিন্তু করোনা রেড জোন থেকে বের করে স্ট্রোকের চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি।

বহুমাত্রিক.কম এ প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট বিনা অনুমতিতে ব্যবহার বেআইনি।